• Breaking News

    ডিকার জোড়া গোলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ইস্টবেঙ্গলের

    ইউনাইটেড স্পোর্টস – ৩ ইস্টবেঙ্গল – ৪
    (মনোতোষ ১৬, বেলো ৫৪ পে, সুহের ৬৩) (ডিকা ৪৯, ৮৮, দং ৭৩ পে, অর্নব ৮০)


    arnabরাইট স্পোর্টস ডেস্ক
    দ্বিতীয়ার্ধে ৬ গোল। দুটি পেনাল্টি। এক ম্যাচে সাত গোল। কলকাতা ফুটবল লিগে গোলের হিসাবে আপাতত সেরা ম্যাচ, দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, নিঃসন্দেহে!
    টানা সাতবার কলকাতা লিগ জয়ের স্বপ্নে ধাক্কা খেতে চলেছিল ইস্টবেঙ্গল! লিগ তালিকায় সবার নিচে ছিল ইউনাইটেড স্পোর্টস। তিনটি ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছিল। কোচ সুব্রত ভট্টাচার্য শরীর খারাপের কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেই দলের কাছে হেরে লিগ জয়ের স্বপ্ন বারাসতের মাটিতে আছড়ে পড়ল না শেষ পর্যন্ত, কৃতিত্ব অবশ্যই লালরিনডিকার জোড়া গোলের পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলের শেষ বাঁশি না-বাজা পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতার। চার ম্যাচেই জিতে আপাতত আবার শীর্ষে।
    ৬৩ মিনিটে ১-৩ পিছিয়ে, ৩-৩ হল ৮০ মিনিটে, জয়সূচক গোল ৮৮ মিনিটে। তারপরও গোলের জন্য দৌড়ল দুটি দলই। গোল আরও বাড়লে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। কারণ, দু’দলের রক্ষণের অবস্থাই একই। সবাই গোল করতে ছুটলে যা হয়। আগে ইস্টবেঙ্গলের সবাই উঠে যাচ্ছিলেন গোল করতে, ফলে প্রতি আক্রমণে বল এলেই লাল-হলুদ রক্ষণে ত্রাহিত্রাহি রব। আর শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ম্যাচ প্রথমবার পিছিয়ে পড়ে ইউনাইটেড স্পোর্টসও চেষ্টা করছিল, কোনও রকমে একাট পয়েন্ট যদি তুলে নেওয়া যায়। পারলেন না শঙ্কর ওঁরাও, বুধিরাম টুডুরা। চার ম্যাচ শেষেও তাঁদের পয়েন্ট এখনও শূন্যই!
    অবিনাশ রুইদাস ক্রমশ গতবারের দো দং হয়ে উঠছেন ইস্টবেঙ্গলে। চারের মধ্যে দুটি গোলে তাঁর পা। প্রথমার্ধে ০-১ পিছিয়ে থেকে বিরতির পর খেলা শুরু করতেই গোলশোধ করে ইস্টবেঙ্গল, অবিনাশের পাস থেকেই। বাঁদিক থেকে ঢুকে এসে মাইনাস রেখেছিলেন বক্সের মধ্যে ডিকার জন্য। ডিকার বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরে। আবার, তৃতীয় গোল শোধের সময়ও অবিনাশের কর্নার। বক্সের ঠিক মাঝখানে এসে পড়েছিল সেই কর্নার। অদ্ভুতভাবে সেই বলে যখন অর্নব বিনা বাধায় হেড দিয়ে ৩-৩ করে গিয়েছিলেন। অর্নবের গায়েই তখন ছিলেন বেলো রজ্জাক। বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করতে পারেননি। প্রথম গোলের সময় অবিনাশ তাঁকে ফেলেই মাইনাস রেখেছিলেন। আবার চতুর্থ গোলের সময় ডিকার বাঁ পায়ের শট গোলে যাওয়ার আগে শেষ যাঁকে কাটিয়েছিলেন ডিকা তিনিও সেই বেলোই!
    তবে, বেলোর পেনাল্টিটা অবশ্যই দুর্দান্ত। ইস্টবেঙ্গলের তরুণ গোলরক্ষক দিব্যেন্দু ফাউল করেছিলেন আমোদ মাহাতোকে। রেফারি রণজিৎ বক্সি সঙ্গে সঙ্গে দিব্যেন্দুকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইউনাইটেডের অধিনায়ক বেলো যে জায়গায় বলটা রেখেছিলেন বাঁ পায়ে, ইস্টবেঙ্গলের তিনকাঠির তলায় অভিজ্ঞ কোনও গোলরক্ষক থাকলেও আটকানো সম্ভব হত না। ইউনাইটেডের তৃতীয় গোল বুধিরামের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে। ইস্টবেঙ্গলের দুই ডিফেন্ডার পরস্পরের এত কাছাকাছি ছিলেন যে তাঁদের জড়াজড়িতে একেবারে ফাঁকায় বল পেয়ে যান সুহের, গোল করে যান সহজেই। দ্বিতীয় গোলের ঠিক পরেই সুহেরের শট বারে লেগে ফিরে এসেছিল, না হলে ৪-১ এগিয়ে যেতেই পারত ইউনাইটেড।
    মেহতাব ছিলেন না, তিনকাঠির তলায় অনভিজ্ঞ দিব্যেন্দু, রফিক মাঝমাঠে, আদেলেজা এখনও গোল পাননি – এতগুলো নেতিবাচক ব্যাপার সত্ত্বেও ১-৩ পিছিয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত ৪-৩ জয় নিশ্চয় বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে ইস্টবেঙ্গলকে। কিন্তু প্রশ্নও উঠবে একই সঙ্গে, লিগ তালিকায় সবচেয়ে তলায় থাকা দলের বিরুদ্ধে এমন হতশ্রী অবস্থা হবে কেন, ম্যাচের অধিকাংশ সময়জুড়ে?

    No comments