• Breaking News

    ক্রিকেটের প্রথম ‘লিটল মাস্টার’ হানিফ মহম্মদ প্রয়াত

    14017742_10154287388538820_1902679339_nরাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    ‘লিটল মাস্টার’ তিনিই প্রথম। তাঁর অনেক দিন পর সুনীল গাভাসকার!
    প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর সেরা ছিল ৪৯৯। ৫০০তম রান নিতে গিয়ে রান আউট! তবে, সেই রেকর্ডও শেষ পর্যন্ত থাকেনি। ভেঙেছিলেন ব্রায়ান লারা।
    হানিফ মহম্মদকে বলা হত ‘এশীয় ব্র্যাডম্যান’। প্রয়াত ডন ব্র্যাডম্যানের মতো দ্রুতগতিতে রান তুলতেন না। কিন্তু ধারাবাহিক বড় রানের ব্যাপারে তাঁর খ্যাতি ছিল অস্ট্রেলীয়র মতোই। টেস্ট ক্রিকেটের আদর্শ ব্যাটসম্যান। ঘন্টার পর ঘন্টা ক্রিজে পড়ে থাকায় তাঁর দক্ষতা ছিল অতুলনীয়। রক্ষণ দুর্ভেদ্য। ধৈর্য অসীম। টেকনিক নিখুঁত। সাদা জামা-প্যান্টের টেস্ট ক্রিকেটে যে-গুণগুলি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে খুঁজতেন সমালোচক, বোদ্ধারা।
    ১৯৫৭-৫৮ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ব্রিজটাউনে করেছিলেন ৩৩৭। উইকেটে ছিলেন ৯৭০ মিনিট! এত বেশিক্ষণ, একটি ইনিংসের জন্য আর কেউ থাকেননি টেস্টে। ১৬ ঘন্টা ১০ মিনিট! গিলক্রিস্ট, অ্যাটকিনসন, ভ্যালেন্টাইনদের বিরুদ্ধে সেই ইনিংস অমরত্ব পেয়েছিল, প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ১০৬ রানে শেষ হয়ে যাওয়ার পর মাঠে নেমে খেলেছিলেন বলে। হানিফের জন্যই সেই টেস্টে ফলো অন করেও শেষ পর্যন্ত ড্র করতে পেরেছিল পাকিস্তান। লেন হাটনের ৩৬৪-র পর তখন সেটাই ছিল টেস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। ওই সিরিজেই অবশ্য পরে জামাইকার কিংস্টনে হাটনের রেকর্ড ভেঙে ৩৬৫ রানে অপরাজিত থেকে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড করেছিলেন গা্রফিল্ড সোবার্স।
    ভারতের গুজরাতের জুনাগড়ে জন্ম তাঁর। হানিফরা পাঁচ ভাই। স্বাধীনতার পর সবাই চলে গিয়েছিলেন পাকিস্তানে। নতুন দেশের প্রথম টেস্টে খেলেছিলেন হানিফ। টেস্ট জীবনে মোট ৫৫ টেস্ট। ৯৭ ইনিংসে ৩৯১৫ রান, ৪৩.৯৮ গড়ে। শতরান ১২, অর্ধশত ১৫। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পাকিস্তানের। ব্যাটের পাশাপাশি প্রয়োজনে হাত ঘোরাতেও পারতেন যেমন, রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য খ্যাত হলেও দরকারে দ্রুত রানও তুলতে পারতেন। পাকিস্তানে সর্বকালের সেরা দলে ওপেনার হিসাবে তাঁর জায়গা নিয়ে সংশয় নেই। সঙ্গে সঈদ আনোয়ার, অবশ্যই। আর পাঁচ মহম্মদ ভাই-ই পাকিস্তানের হয়ে অন্তত একটি হলেও টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন, এক পরিবারের হিসাবেও যা রেকর্ড।
    করাচির আগা খাঁ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার মারা গেলেন ৮১ বছর বয়সে। ফুসফুসে ক্যান্সার হয়েছিল। তিন দিন আগেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আইসিইউ-তে, ছিলেন ভেন্টিলেশনে। ১১ অগাস্ট, ২০১৬ চিরতরে স্তব্ধ পাকিস্তান ও বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা রত্ন। ক্রিকেট-দুনিয়াও শোকস্তব্ধ, সেই আকারে ছোট্ট মানুষের প্রয়াণে, মাঠে বিনা হেলমেটে, নিরাপত্তার সরঞ্জামের অযাচিত বাহুল্য ছাড়াই আঢাকা উইকেটে যিনি বিরাট হয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতেন হল-গিলক্রিস্টদের সামনে, অকুতোভয়!

    No comments