• Breaking News

    আত্মবিশ্বাস! দাপট! পুসারলার অপেক্ষাতেই ইতিহাস এখন!

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    ‘আমরা যাব যেখানে কোনো


    যায়নি নেয়ে সাহস করি।


    ডুবি যদি তো ডুবি-না কেন।


    ডুবুক সবি, ডুবুক তরী’




    • - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শেষের কবিতা


    sindhu 324

    আত্মবিশ্বাস! দাপট!

    প্রথম গেমের প্রথম পয়েন্টটা জেতেননি। দ্বিতীয় পয়েন্ট জেতার পরই হাত-মুঠো করে ‘ইয়েস’! একটাও পয়েন্ট ছাড়তে রাজি ছিলেন না তিনি। একবার, নেট-এ লেগে শাটল কক পড়ল উল্টোদিকে। নোজোমি ওকুহারা প্রায় মুখ থুবড়ে পড়লেন সেই শাটল ফেরাতে গিয়ে। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে বিপক্ষ অন্যহাতটা তুলে ফেলে, স্বতঃস্ফূর্ত। স্বগতোক্তির মতো বেরিয়ে আসে ‘দুঃখিত’ শব্দটা। পুসারলা সোজা বেরিয়ে গেলেন কোর্টের বাইরে, হাত মুঠো, উঁচু করে। তিনি আজ এমনই পাথর-কঠিন। বিপক্ষের জন্য সহমর্মিতা নেই একফোঁটাও!

    কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়েছিলেন ওয়াং ইহানকে, বিশ্বের দু-নম্বর। সেমিফাইনালে ৪৯ মিনিটে উড়িয়ে দিলেন বিশ্বের ছ’নম্বর, জাপানি নোজোমি ওকুহারাকে। ফল? সরাসরি দু-গেমে, ২১-১৯, ২১-১০। দ্বিতীয় গেমে ১০-১০ থেকে টানা এগারটা পয়েন্ট নিলেন! টানা ১১ পয়েন্ট ব্যাডমিন্টনে নেওয়া কতটা কঠিন, একটু-আধটু ব্যাডমিন্টন খেলেছেন যিনি, জানেন। তা-ও নিলেন, বিশ্বের ছ’নম্বরের বিরুদ্ধে!

    ভারতীয় র‍্যাকেট স্পোর্টসে এই উচ্চতা দুর্লঙ্ঘ্য ছিল। স্কোয়াশ অলিম্পিকের অংশ নয়। টেবল টেনিস আছে, তাতে ভারতীয় মেয়েরা প্রথম রাউন্ডের বেড়া টপকাতে পারেননি, পারেন না। টেনিসও আছে, তবে, মিক্সড ডবলসে সেমিফাইনাল দেখা গিয়েছে, সিঙ্গলসে তো প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই ভয়! যে-কারণে পেশাদার সার্কিটেও ভিন দেশের সঙ্গীদের নিয়েই রমরমা। কিন্তু পেশাদার সার্কিটের কোনও প্রতিযোগিতা, সে যত নামকরাই হোক না কেন, তার ফাইনালে ওঠা বা জেতার সঙ্গে অলিম্পিকের আসরের তফাৎ আদর্শের উচ্চতায়। অলিম্পিক সব সময়ই কঠিনতর, উচ্চতর, বৃহত্তর। সেই আসরে সিঙ্গলসের ফাইনাল, ‘যেখানে কেউ যায়নি নেয়ে সাহস করি’!

    ভারতের মেয়েরা দেখিয়ে দিচ্ছেন প্রতিপদে। রিও-তে সাহস করে তাঁরা যাচ্ছেন যেখানে, পুরুষ যেতে পারেনি, থমকে গিয়েছে। ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় কম্পিত নন তাঁরা। তাই তো যেখানে যেতে পারছেন, ভারতীয় পুরুষের সেখানে যাওয়া মানা, আপাতত!

    পুসারলা বেঙ্কট সিঁধু তো যেখানে গেলেন, ভারতীয় মেয়েদের অলিম্পিক ইতিহাস দেখেনি কখনও। কার্নাম মালেশ্বরী, সাইনা নেহওয়াল, মেরি কম, সাক্ষী মালিক – সবাই ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন। পুসারলার আর কিছু হোক বা না, রুপো নিশ্চিত। কিন্তু, কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালে পুসারলার পারফরম্যান্সের পর, কীসের রুপো?

    কারোলিনা মারিন প্রতিপক্ষ হিসাবে বিশ্বের এক নম্বর। স্পেনীয় মারিনের হাতে সাইনা নেহওয়ালের অল-ইংল্যান্ড স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে আগে। গিয়েছে এক নম্বর তকমাও। সাইনাকে গতবার অলিম্পিক সেমিফাইনালে হারিয়েছিলেন যিনি, কোয়ার্টার ফাইনালেই তাঁকে এবার হারিয়েছেন পুসারলা। মারিনও এখন বুঝে গিয়েছেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর গগনচুম্বী আকাঙ্ক্ষার কথা।

    দীপা কর্মকার যে-রাতে ভারতীয় খেলার জগতের দুয়ার ভেঙে প্রোদুনোভা চিনিয়েছিলেন দেশকে, রাত জেগেছিল ভারত, সানন্দ। শুক্রবার ভারতীয় সময় সন্ধে সাড়ে সাতটা, আরও একবার ১৩০ কোটির আশীর্বাদ, শুভেচ্ছাও সঙ্গী পুসারলার!

    ইতিহাস লিখে ফেলেছেন তিনি। তবু, পুসারলার অপেক্ষাতেই ইতিহাস এখন!

    No comments