• Breaking News

    প্রথম শতরান ঋদ্ধির, মিল অবশ্য বেশি দোশির সঙ্গেই!

    Captureরাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    দিলীপ দোশির সঙ্গেই বেশি মিল ঋদ্ধিমান সাহার!
    তখন ছিলেন বিষেন সিং বেদি। রাজিন্দার গোয়েল, পদ্মাকর শিভালকার টেস্ট খেলার সুযোগই পাননি, সেই কারণে। বাংলার দিলীপ দোশিরও প্রায় একই অবস্থা। বেদি তখনও ভারতীয় বাঁহাতি স্পিন বিভাগে এক নম্বর। ৩০ অগাস্ট, ১৯৭৯, বেদি শেষ টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। দোশির টেস্ট অভিষেক অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯। সাদা বাংলায়, বেদির শেষ, দোশির শুরু। প্রায় বত্রিশ বছর বয়সে টেস্ট জীবন শুরু করেও ৩৩ টেস্ট এবং ১১৪ উইকেট নিয়ে শেষ করেছিলেন দোশি।
    ঋদ্ধির ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। মহেন্দ্র সিং ধোনি জমানায় তাঁর উত্থান। বেদি যেমন কিছুদিন ছিলেন ভারতের নেতৃত্বে, ধোনি তার চেয়ে অনেক বেশি দিন। স্বাভাবিকভাবেই শিলিগুড়ির পাপালি (ঋদ্ধি) জানতেন, টেস্ট খেলতে হলে অপেক্ষা করতেই হবে। অভিষেকের জন্য যদিও ততদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। ২৫ পেরিয়ে টেস্ট অভিষেক, ব্যাটসম্যান হিসাবে, ২০১০ সালে। দ্বিতীয় টেস্ট দু-বছর পর, ২০১২য়। তৃতীয় টেস্ট প্রায় তিন বছর পর, ২০১২র জানুয়ারি থেকে ২০১৪র ডিসেম্বর।
    অবস্থা পাল্টে যায় ২০১৫র শুরুতে। ধোনি অবসর নিয়ে ফেলেছেন। তারপর ১১ টেস্ট খেলে ফেলেছেন। ক্রমশ নিজেকে তুলে ধরছেন ভারতের এক নম্বর উইকেটরক্ষক হিসাবে। আর যত আত্মবিশ্বাস বাড়ছে, খুলছে ব্যাটের হাতও। চতুর্দশ টেস্টে পেলেন প্রথম শতরান। তা-ও আবার বিদেশের মাটিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে, গ্রস আইলেট-এ। যখন ব্যাট করতে এসেছিলেন, সঙ্কট ছিল। ৪৯.৩ ওভারে ১২৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ভারত। আউট হলেন যখন, নিজের নামের পেছনে ১০৪ রান। ২২৭ বল খেলে ১৩ বাউন্ডারি। আর ভারতের রান ৩৩৯। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সঙ্গে জুড়ে গেলেন ২১৩ রান। ছুঁলেন আজয় রাতরা-র ওয়েস্ট ইন্ডিজে ভারতীয় উইকেটরক্ষক হিসাবে এতদিন একমাত্র শতরানের নজির। দীপ দাশগুপ্তকেও ছুঁলেন, বাংলার উইকেটরক্ষক হিসাবে টেস্টে শতরানের। তবে, দীপ শতরান করেছিলেন মোহালিতে, পাপালি করলেন গ্রস আইলেটে, এই যা তফাৎ! আগামী আরও বছর দুই জাতীয় দলে তাঁর জায়গা নিয়ে সংশয় নেই আপাতত, বড় চোট না-পেলে। ৩০-এর কাছাকাছি বা একটু বেশি টেস্ট খেলা উচিত ঋদ্ধিরও।
    বাংলার হয়ে ব্যাটিং তাঁর অন্যতম অস্ত্র হলেও জাতীয় দলে ততটা প্রাধান্য দেওয়া হয়নি এত দিন। নামতেন পরে। বিরাট কোহলি তো এবার অশ্বিনকেই ব্যাটিং-অর্ডারে তুলে এনেছেন তাঁরও ওপরে। অশ্বিন অবশ্য তার প্রতিদানও দিচ্ছেন। এই ক্যারিবিয়ান সফরেই পেলেন দ্বিতীয় শতরান। চারটি শতরান হয়ে গেল তাঁর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। সুনীল গাভাসকার, রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ, দিলীপ বেঙ্গসরকার, যাঁরা বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান। এমনকি শচীন তেন্ডুলকারেরও নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্টে চারটি শতরান!
    টেস্টে ভারতের ছয় ও সাত নম্বর ব্যাটসম্যান একসঙ্গে শতরান করেছেন, আগে হয়নি এমন। অশ্বিন ও ঋদ্ধির কারণে হল। জোড়া শতরানে ঢাকা পড়ল এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেও ভারতের প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানদের বড় রান তোলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা, অন্তত সিরিজের এই তৃতীয় টেস্টে। অন্তত ৩৫৩ পর্যন্ত পৌঁছল ইনিংস। ঋদ্ধি আউট হওয়ার পর থেকেই মিছিল শুরু হয়েছিল আবার। ১২১.৫ ওভারে ঋদ্ধি আউট। ভারতীয় ইনিংস শেষ ১২৯.৪ ওভারেই, ৩৫৩ রানে!

    No comments