• Breaking News

    রুপোর পুসারলা আসলে সোনারই মেয়ে!

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    pv

    জিতে তখন কারোলিনা মারিন উপুড় হয়ে শুয়ে কাঁদছিলেন কোর্টেই। ওধার থেকে এগিয়ে এলেন ভারতীয় তারকা। এসে জড়িয়ে ধরলেন প্রতিদ্বন্দ্বীকে। বিশ্বের এক নম্বর তারকাও সে-আলিঙ্গনে আপ্লুত। উঠে এল অলিম্পিক-আদর্শ, সবার ওপরে! গোটা ম্যাচে কেউ কাউকে ছাড়চে চাননি এক ইঞ্চি জমি। শেষে সবই অতীত। চ্যাম্পিয়নের প্রাপ্য সোনার পদকের সঙ্গেই বিজিতের ওই আলিঙ্গন, স্বতঃস্ফূর্ত!

    হার জীবনের অঙ্গ, খেলার তো বটেই। তবু কিছু হার থাকে, স্বীকার করতে কুণ্ঠিত হতে হয় না। রিও অলিম্পিক ফাইনালে পুসারলা বেঙ্কট সিঁধুর হার তেমনই। ২১-১৯, ১২-২১, ১৫-২১ হারলেন। স্পেনের মারিনের কাছে প্রথমবার হার তিন গেমে। আগে যে-দুবার জিতেছিলেন মারিনের বিরুদ্ধে, তিন গেমেই। তাই কোথাও একটু হলেও হয়ত আশা বেড়েছিল, তৃতীয় গেম শুরুর সময়। কিন্তু, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মারিন তৃতীয় গেমে তৃতীয় সুযোগ আর দেননি!

    চ্যামপিয়নরা তো এমনই। যখন সব বিরুদ্ধে থাকে, ঠিকঠাক হতে শুরু হয় সব। ভুল বলা হল, তখনই সব নিখুঁত করে ফেলেন। সুযোগ দেন না বিন্দুমাত্র। বাধ্য করেন ভুল করতে। বিপক্ষ খেলতে পারে না নিজের স্বাভাবিক খেলা। ভুল করে হতাশায়। চ্যাম্পিয়নদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। যা করলেন মারিন। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেলেন, বড় আসরে কেন তাঁকে অপরাজেয় ধরা হ্য়।

    স্পেনের ২৩ বছরের তারকা পিছিয়ে পড়েছিলেন প্রথম গেমে। পুসারলা তখন আত্মবিশ্বাসের শিখরে। ১৬-১৯ থেকে টানা পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম গেম জিতে নিয়েছেন পুসারলা। রিও অলিম্পিকে প্রথমবার কোনও গেম হারিয়েছিলেন মারিন। তাতেই যেন আঁতে ঘা। দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ঠিক সময় বেছে নিলেন খেলায় ফেরার, দ্বিতীয় গেমে।

    ৪-০ দিয়ে শুরু। ১১-২, সিঁধু দু-অঙ্কে পৌঁছেছিলেন ১০-১৮ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত গেম জেতেন ২১-১২। সিঁধুর ব্যাকহ্যান্ডকে ধারাবাহিক আক্রমণ। নেটে বারবার টেনে এনে জোরালো ট্যাপ। নিয়মিত কোণ বদল স্ট্রোকে। বারবার শাটল বদল করতে চেয়ে বিরক্তি বাড়ানো বিপক্ষের। সিঁধুর বিরক্তি প্রকাশ পাচ্ছিল বারবার আম্পায়ারের কাছে গিয়ে প্রতিবাদ জানানোয়। মারিন তো এমনই চেয়েছিলেন! এমনকি, কাউকে না-বলেই ‘টাওয়েল-ব্রেক’ নিয়ে নিচ্ছিলেন, যা মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল সিঁধুর। কৌশল! ১ ঘন্টা ২৯ মিনিটের ম্যাচে সিঁধুকে তাঁর সহজাত স্ম্যাশ মারার সুযোগই দিলেন না বার চারেক ছাড়া, দক্ষতা কোন পর্যায়ে গেলে তা করা সম্ভব বুঝতে মারিন-সিঁধুর ফাইনাল আর একবার দেখা উচিত।

    তৃতীয় গেমেও শুরুতেই ৬-১। সিঁধু একবারই ম্যাচে ফিরেছিলেন, পাঁচ থেকে আট, টানা চার পয়েন্ট পাওয়ার পর একটি পয়েন্ট হারিয়ে আবার ১০-১০ করে ফেলার সময়। কিন্তু, মারিন ১১-১০ এগিয়ে ব্রেক-এ যাওয়ার পর যেভাবে ফিরলেন নিজের সেরা ছন্দে। ১৭ থেকে ২০ পর্যন্ত প্রতিটা পয়েন্ট জিতলেন, সিঁধুকে ভুল করতে বাধ্য করে। সিঁধু তখন ১৪য়। ছ’টা অলিম্পিক সোনার পয়েন্ট। একটি বাঁচিয়েছিলেন। কিন্তু, সিঁধুর যে-ব্যাকহ্যান্ডকে আক্রমণ করতে শুরু করেছিলেন প্রথম থেকে, সিঁধুর সেই ব্যাকহ্যান্ডই সোনার পয়েন্ট দিল মারিনকে!

    সবচেয়ে কমবয়সী হিসাবে অলিম্পিক পদক। নিজের প্রথম অলিম্পিকে রুপো। এমন পদক যা ভারতের কোনও ব্যাডমিন্টন তারকা এখনও পর্যন্ত পাননি। ব্যক্তিগত ইভেন্টে ভারতের হয়ে এত দিন পর্যন্ত যা পেয়ে এসেছিলেন নর্ম্যান প্রিচার্ড (দুটি), রাজ্যবর্ধন রাঠোড়, বিজয় কুমার ও সুশীল কুমার।

    দিন দুই আগে পর্যন্ত একটিও পদক ছিল না রিও-তে ভারতের। এখন দুটি। একটি ব্রোঞ্জ সাক্ষী মালিকের, একটি রুপো পুসারলা বেঙ্কট সিঁধুর। গর্বিত হওয়ার যথেষ্ট বড় কারণ ভারতের, সিঁধুর তো বটেই!

    No comments