• Breaking News

    আইএফএ তো আর উয়েফা নয়! সমঝোতাসূত্র বেরবে, ঠিক!

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    MB EMAIL SENT TO IFA copy

    রেফারির সিদ্ধান্ত বিপক্ষে?

    দিয়েগো মারাদোনা হাত দিয়ে গোল করেছিলেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে। রেফারি দেখেননি। ইংল্যান্ড আজও কেঁদে চলেছে, তিরিশ বছর ধরে। কিন্তু ম্যাচ ছেড়ে চলে আসেনি সেই দিন। ১৯৫৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ২-৩ পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ফেরেঙ্ক পুসকাস সমতা ফিরিয়েছিলেন হাঙ্গেরির হয়ে, পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে। সেই গোল অফসাইড হিসাবে বাতিল হয়েছিল। আজও, এই ৬২ বছর পরও, গোটা ফুটবল বিশ্ব ওয়েলসের লাইন্সম্যানের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখর!

    ওল্ড ট্রাফোর্ডে অ্যালেক্স ফার্গুসনের ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড দুর্দান্ত খেলছিল খোসে মোরিনিওর রেয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে, জিতছিল ১-০। তুরস্কের রেফারি সুনেইত সাকির হঠাৎ নানিকে লাল কার্ড দেখান, যে-সিদ্ধান্ত ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডকে ছিটকে দিয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে। ফার্গুসন পারতেন না ওল্ড ট্রাফোর্ডে আগুন জ্বালাতে, তাঁর উস্কানিতে মাঠে নেমে আসত না হাজারে হাজারে সমর্থক? ম্যাচ ভণ্ডুল করতে ফার্গির একটা ইশারাই কি যথেষ্ট ছিল না, ওল্ড ট্রাফোর্ডে?

    ২০০৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ। মিলান-ডার্বি। এসি মিলান খেলছিল ইন্তার মিলানের বিরুদ্ধে। দুই দলের ঘরের মাঠ এক হলেও ফিরতি ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্বে ইন্তার মিলান। তখন এসি মিলান ১-০ এগিয়ে। মাঠে ধোঁয়া-বোতল পড়তে শুরু করে, আহত হন এসি মিলানের গোলরক্ষক দিদা। ঘটনা শুরু এস্তেবান কাম্বিয়াসোর গোল জার্মান রেফারি মার্কাস মার্ক বাতিল করতেই। ইন্তার সমর্থকদের ছোড়া মিসাইলে দিদা আহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন জার্মান রেফারি। পরে আবার শুরু করা হয়েছিল ম্যাচ। এসি মিলানের তিনকাঠির তলায় তখন আহত দিদার পরিবর্তে আবিয়াতি। কিন্তু, আবারও মাঠে ধোঁয়ার বোতল উড়ে এসে পড়তেই ম্যাচ বাতিল করে দেন জার্মান রেফারি। উয়েফা জানিয়ে দিয়েছিল, ৩-০ জয়ী এসি মিলান ওই ম্যাচে। আর আয়োজক ইন্তার মিলানের অপদার্থতায় তাদের বাড়তি জরিমানা হয়েছিল, পরের চারটি ইউরোপীয় ম্যাচ খেলতে হয়েছিল দর্শকবর্জিত ফাঁকা স্টেডিয়ামে। সঙ্গে তিন লক্ষ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা!

    ২০০৯ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের ফিরতি পর্ব, চেলসির মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে, চেলসি বনাম বার্সেলোনা। বার্সেলোনা শেষ পর্যন্ত আন্দ্রে ইনিয়েস্তার ইনজুরি টাইমের গোলে সমতা ফিরিয়ে অ্যাওয়ে গোলের নিয়মে ফাইনালে গিয়েছিল। কিন্তু, চেলসির কোচ হিডিঙ্ক দাবি করেছিলেন অন্তত চারটি পেনাল্টি দেওয়া হয়নি তাঁদের। ম্যাচ শেষে দিদিয়ের দ্রোগবা তেড়ে গিয়েছিলেন নরওয়ের রেফারি টম হেনিং ওভরেবোর দিকে। চেলসির আর এক ফুটবলার খোসে বোসিনগোয়া রেফারির সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে বিবৃতি দিয়েছিলেন, ‘সত্যিই জানি না তিনি রেফারি না চোর!’

    ফল? দ্রোগবা ৬ ম্যাচের জন্য সাসপেন্ড। বোসিনগোয়ার শাস্তি তিন ম্যাচের। চেলসির শাস্তি ৮৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা, নিজেদের ফুটবলার ও সমর্থকদের শান্ত রাখতে না-পারায়।

    এই সব ঘটনাগুলোই ‘নিজেদের’ মাঠে, ‘নিজেদের’ দর্শক ও প্লেয়ারদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে না-পারার ব্যর্থতায়। রেফারির সিদ্ধান্ত বিপক্ষে যাওয়ায় যে-আচরণ তারা করেছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে।

    টালিগঞ্জ ম্যাচ মোহনবাগান রিপ্লে চেয়েছে। কোন যুক্তিতে?

    রেফারির সিদ্ধান্ত মানতে না-পেরে ফুটবলারদের আচরণে উস্কানির ইন্ধন পেয়েছেন দর্শকরা, মাঠে নেমে এসেছেন, খেলা ভণ্ডুল করে দিয়েছেন, মাত্র দুটো মিনিট বাকি ছিল খেলার, তা-ও শেষ করার ব্যবস্থা করতে পারেনি ‘নিজেদের’ মাঠে মোহনবাগান। তাঁদের ‘হোম’ ম্যাচ, তাঁদেরই মাঠে, বাইরের কোনও মাঠেও নয়। এ-ব্যর্থতার দায় কার? তারপর, রিপ্লের প্রসঙ্গই বা ওঠে কোন নিয়মে? টালিগঞ্জের সমর্থকরা কি গণ্ডগোল করেছিলেন? ম্যাচ ভেস্তে দিয়েছিলেন? তেমন কোনও টালিগঞ্জ সমর্থক খুঁজে পাওয়া সম্ভব ছিল মোহনবাগান মাঠে?

    এ-ও বলা হয়েছে যে, ‘রেফারি ইচ্ছাকৃতভাবে গোল বাতিল করেছেন’! মানে, রেফারির সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেলেই ম্যাচ ভণ্ডুল করে দিতে হবে?

    কলকাতায় মোহনবাগান অবশ্য  ‘বড়’ দল। ইতালিতে ইন্তার মিলান বা ইংল্যান্ডে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি ‘ছোট’ দল কিনা, অবান্তর প্রশ্ন। স্পেন, ইতালি, ইংল্যান্ড, জার্মানিতে এভাবে ঘরের মাঠে বিপক্ষের ফুটবলারদের দিকে বোতল ছোড়া, মাঠে নেমে খেলা ভণ্ডুল করে দেওয়ার শাস্তি একই। বিপক্ষকে তিন পয়েন্ট, জরিমানা, দর্শকশূন্য মাঠে পরের কিছু ম্যাচ খেলা। উয়েফার সংবিধান পরিষ্কার সেখানে।

    কিন্তু, আইএফএ তো আর উয়েফা নয়! সমঝোতাসূত্র বেরবে, ঠিক!

    2 comments:

    1. অফসাইড গোল - টি ভি তে দেখা যাচ্ছে - তা বাতিল করে রেফারী কি ভুল করল ? ৩ ডে গোল ঠিকই বাতিল করেছে । সবাই দেখেছে ।

      ReplyDelete
    2. প্রথমতঃ কলকাতা লীগ home & away পদ্ধতিতে হয় না যে ঘরের মাঠের প্রশ্ন উঠবে ৷
      দি্বতীয়তঃ ২০০৭ সালে কলকাতা লীগে ঠিক এমনই একটা ঘটনা ঘটেছিল লেখক বোধহয় তখন ইতালি বা ইংলণ্ডে ব্যস্ত ছিলেন তাই সেই ঘটনার উল্লেখ তার লেখায় দেখলাম না নাকি সেই ঘটনার উলে্লখ করলে লেখাটির অন্তনি্রহিত উদে্দশ্য ব্যাহত হয় ৷
      তৃতীয়তঃ দেখা যাচে্ছ ঐ খেলায় একাধিক ভুল করা হয়েছে আর সব ভুলগুলোই একটা দলের বিরুদে্ধ গিয়েছে ৷
      আর দশ্রক হাঙ্গামার জন্য শাস্তি তো I.F.A. এর প্রাপ্য কারণ খেলাটার তারাই organiser মোহনবাগান নয় ৷

      ReplyDelete