• Breaking News

    দু-নম্বর বলে কিছু নেই বোল্টের অভিধানে!

    ১০০ মিটারে সোনাজয়ের হ্যাটট্রিক, ইতিহাস বেজিং-লন্ডন-রিওতে


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    bolt one-3a

    তিনি কখনও দু্-নম্বর ছিলেন না। রিও-তে ১০০ মিটার দৌড়ের সোনায় অলিম্পিকে অনায়াসে হ্যাটট্রিক করে আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন, দু-নম্বর বলে কিছু নেই উসেইন বোল্টের অভিধানে!

    বেজিং-এ ১০০ মিটার দৌড়ের ফাইনাল। সাধারণত, ১০০ মিটার ফাইনাল শেষ হয় চোখের পলকে। অ্যাথলিটরা কোনও দিকে তাকানোর সময়ই পান না। বেজিং দেখল, দৌড় শেষ করার আগে বিজয়ী ঘুরে দেখছেন কাছাকাছি কেউ নেই তাঁর। দ্বিতীয় রিচার্ড টমসন এত দূরে যে, বুক বাজিয়ে দড়ি ছুঁলেন। জুতোর দড়িটাও খুলে গিয়েছে তখন! অনেকেই বললেন অনেক কিছু। ‘অলিম্পিক আদর্শের সঙ্গে খাপ খায় না এমন বুক-বাজানো’, অভিযোগ উঠল। উড়িয়ে দিলেন তুড়ি মেরে। ‘রেকর্ড-ফেকর্ড নিয়ে মাথা ঘামাইনি। জামাইকাকে সোনা এনে দিতে চেয়েছিলাম, ব্যস।’

    রিও-তে আট বছর পর একই ইভেন্টের ফাইনাল আবার। শুরুর আগে নাম ঘোষণা হচ্ছিল যখন, তর্জনী তুলে দেখিয়ে ও বলে দিলেন, তিনিই এক নম্বব। কারও কারও সন্দেহ ছিল হয়ত! বছরে যা পারফরম্যান্স, পারবেন কি? ‘স্টার্টিং’ নিয়ে তাঁর বরাবরের সমস্যা। এবারও ঠিক হল না। পিছিয়েই শুরু। শেষে? আবার সেই বুক-ঠুকে ঘোষণা, ‘আমিই চিরশ্রেষ্ঠ!’ সময় এবার ৯.৮১ সেকেন্ড। জাস্টিন গ্যাটলিন ৯.৮৯ সেকেন্ডে রুপো, ব্রোঞ্জ গেল কানাডায়, ৯.৯১ সেকেন্ডে,  আন্দ্রে ডে গ্রাসের কাছে।

    আর ‘ট্রিপল-ট্রিপল’ করার লক্ষ্যে সবচেয়ে বড় বাধাটা আনায়াসে পেরিয়ে বোল্ট্ জানিয়ে দিলেন, ‘জামাইকার মানুষ, উঠে দাঁড়ান। এই সোনাটা আপনাদেরই জন্য।’ ২০০ মিটারে এ-বছর যা সময় করেছেন, সোনা আটকানো মুশকিল। আর, ৪x১০০ মিটার রিলে-তে জামাইকা সোনা না-জিতলে অঘটন।

    তিনি কখনও দু-নম্বরি ছিলেন না!

    বোল্ট-পূর্ববর্তী একটা সময় এসেছিল যখন অ্যাথলেটিক্স ছিল ডোপ-কলঙ্কে নিমজ্জিত। মানুষ হারিয়ে ফেলছিল আস্থা। দৌড়ে যে কোনও রেকর্ড মানেই তখন ভাবনা ছুটত দ্রুত, ‘আবারও একটা কেলেঙ্কারি’। বড্ড জরুরি হয়ে পড়েছিল এমন কোনও চ্যাম্পিয়নকে খুঁজে পাওয়া যাঁর নাম ওঠেনি নিষিদ্ধ পারফরম্যান্স-বর্ধক ড্রাগ নেওয়ার ব্যাপারে। বেজিং-এ ২০০৮ অলিম্পিক পেয়েছিল জামাইকার ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির উসেইন বোল্টকে। ১০০ মিটার, ২০০ মিটার আর ৪x১০০ মিটারে সোনা। তিনবারই বিশ্বরেকর্ড। তার চেয়েও বড়, চার বছর পর লন্ডনে ‘ডবল ট্রিপল’। সেই তিন ইভেন্টেই সোনা আবার!

    নিজেরই ঘোষণা ছিল তারপর, ‘আমি এখন লেজেন্ড, বেঁচে-থাকা অ্যাথলিটদের মধ্যে সর্বোত্তম’। মহম্মদ আলি বলেছিলেন, ‘আমিই গ্রেটেস্ট’। যেন ফিরে এসেছিলেন মহম্মদ আলিই, অন্য খেলায়। বক্সিং পাল্টে গিয়েছিল আলির পর। অ্যাথলেটিক্সও পাল্টাল। প্রতিবার দৌড়ের আগে-পরে নানাভাবে ডোপ-পরীক্ষা হয়েছিল। পাওয়া যায়নি কিছু। এমনকি, অতিমানবীয় সময় (১০০ মিটার দৌড়ন ৯.৫৮ সেকেন্ডে, ২০০ মিটার ১৯.১৯ সেকেন্ডে) করে ফেলার পরও ওঠেনি সন্দেহের আঙুল, একবারও। এবার ‘ট্রিপল-ট্রিপল’ করে ফেলবেন হয়ত, অ্যাথলেটিক্স ইতিহাস যা ভাবতেই পারেনি, করে দেখানো তো অনেক পরের ব্যাপার! তারপর আবারও বলবেন এই কথাগুলোই, নিশ্চিত।

    প্রতিভা তা-ই করে যা সে করতে পারে; জিনিয়াসরা সেটাই করে যা তাদের করা উচিত। উসেইন বোল্ট জিনিয়াস, কারণ অ্যাথলেটিক্সকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন তিনি, ফিরিয়ে এনেছেন ‘ডোপ না করেও এমন অবিশ্বাস্য দৌড় সম্ভব’ এই বিশ্বাস। ইতিহাস লিখেছেন নিজের পায়ে, বেজিং-লন্ডন-রিওতে।

    স্প্রিন্ট-এ তিনি সর্বোত্তম, সন্দেহের জায়গাই নেই!

    No comments