• Breaking News

    রিওতে নারীশক্তির ‘সাক্ষী’ সারা দেশ

    দেশকে প্রথম পদক দিলেন হরিয়ানার মেয়ে




    [caption id="attachment_1446" align="alignleft" width="300"]shakshi স্বপ্নপূরণ দেশের। রিও অলিম্পিকে ভারতকে প্রথম পদক দেওয়ার পর সাক্ষী মালিক। ছবি— টুইটার[/caption]

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    অবশেষে মান রাখলেন হরিয়ানার ২৩ বছরের মেয়ে। রিওতে পদকের চরম হাহাকারের মধ্যে ৫৮ কেজি কুস্তিতে দেশকে ব্রোঞ্জ এনে দিলেন সাক্ষী মালিক।

    ২০০৮ সালে যে ভাবে বেজিং অলিম্পিক থেকে ব্রোঞ্জ এনেছিলেন সুশীল কুমার, ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিক থেকে যোগেশ্বর দত্ত, ঠিক সে ভাবেই ভারতীয় সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ভোররাতে রেপেচেজে কুস্তিতে ব্রোঞ্জ জিতলেন সাক্ষী মালিক।

    তখনও স্কোরবোর্ডে ০-৫ পিছিয়ে সাক্ষী। ঘড়ির কাঁটায় বেঁচে বাউটের মাত্র দুটো মিনিট। মনে হচ্ছিল, এ বারও সেই দারুণ আশা জাগিয়ে হারিয়ে যাওয়ার এক নতুন কাহিনির ‘সাক্ষী’ থাকতে হবে। সেখান থেকেই অবাক করে দিয়ে ম্যাচে ফিরে আসা।  লড়াই ও পদক জিতে নেওয়া।

    প্রথমে স্কোর করেন ৪-৫। সেখান থেকে ৫-৫। কির্ঘিজস্তানের আইসুলু তিনিবেকোভা সেই সময় যেন কিছুটা থমকে গেলেন। সাক্ষীর চমক দেখানো শুরু সেখান থেকেই। হাতে মাত্র কিছু সেকেন্ড সময়। অবিশ্বাস্য ভাবে ৭-৫ করেন। শেষ পর্যন্ত ৮-৫ এ ব্রোঞ্জ জিতে নেন সাক্ষী।

    রাশিয়ার ভালেরিয়া কোবলোভার কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর সাক্ষীর রিওর পথ প্রায় থমকে যাচ্ছিল। কুস্তির নিয়ম অনুযায়ী, যে প্রতিপক্ষর কাছে হারেন কোনও কুস্তিগীর, তিনি যদি ফাইনালে উঠতে পারেন, তা হলে পরাজিত কুস্তিগীর ফের লড়াইতে নামার সুযোগ পেতে পারেন। যাকে বলা হয় রেপেচেজ। সেই নিয়মেই সাক্ষীর বাজিমাত রিওতে। ব্রোঞ্জ জেতার পর উৎসব শুরু হয়ে যায় সাক্ষীর রোহতকের বাড়িতে। সারা দেশেই।

    প্রথমে রেপেচেজে মঙ্গোলিয়ার পুরেভদোর ওর্খোনকে ১২-৩ হারান সাক্ষী। ওই লড়াইতে রীতিমতো আক্রমণাত্মক ছিলেন হরিয়ানার রোহতকের মেয়ে। ওই ম্যাচ জেতার পর ব্রোঞ্জ জেতার ম্যাচে নামার সুযোগ পান তিনি। বাকিটা স্বপ্নের উড়ান। কুস্তিতে প্রথম কোনও ভারতীয় মেয়ে পদক পেলেন অলিম্পিকে।  

    রিওতেও সাক্ষীর হাতেই প্রথম দেখা মিলল পদকের। অনেক নামী তারকাদের নিয়ে অলিম্পিকের আগে থেকে অনেক প্রত্যাশা থাকলেও সাক্ষীকে পদকের সম্ভাব্য তালিকায় রাখা হয়নি। তাঁর কিন্তু স্বপ্ন ছিল, রিও থেকে পদক ঝুলিয়ে ফিরবেন দেশে। দাপটের সঙ্গে তা পূরণ করলেন ২৩ বছরের মেয়ে।

    ২০০০ সালে কর্নম মালেশ্বরীকে দিয়ে শুরু হয়েছিল অলিম্পিকে ভারতের নারীশক্তির পথ চলা। বারো বছর পর লন্ডনে জোড়া ব্রোঞ্জ দিয়েছিলেন সাইনা নেহওয়াল ও মেরি কম। এ বার রিওতে ফের নারীশক্তির ‘সাক্ষী’ সারা দেশ!

    No comments