• Breaking News

    দীপা আমাদের ‘চতুর্থ’ গর্ব, প্রথম-ও!

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    Dipa21

    এ-ও সম্ভব! ভারতের এক জিমন্যাস্ট অলিম্পিকের সেরা আটে! না, ভুল বলা হল, সেরা চারে! গায়ে চিমটি কেটে দেখুন একবার, প্লিজ!

    শেষ ভল্ট দিতে এগোচ্ছেন সিমোনে বাইলস যখন, তিনে ছিলেন দীপা কর্মকার। সপ্তম প্রতিযোগী মারিয়া পাসেকা ভল্ট দিতে যাওয়ার আগে তিনি দ্বিতীয় স্থানে! শেষ দুই প্রতিযোগী নিয়ে গেলেন সোনা ও রুপো, দীপাকে চতুর্থ স্থানে ঠেলে দিয়ে।

    ভারতের সঙ্গে আজীবন ‘ফোর্থ’-এর কোথাও যেন প্রবল যোগাযোগ। মিলখা সিং থেকে গিয়েছেন, সেই ১৯৬০ থেকে আজ ৫৬ বছর পরও চতুর্থ।

    পিটি উষা আছেন সেই ১৯৮৪ থেকে, ৩২ বছর হয়ে গেল।

    জয়দীপ কর্মকার এই তালিকায় সবচেয়ে জুনিয়র ছিলেন। গত লন্ডন অলিম্পিকে, ২০১২, চতুর্থ স্থান পেয়েছিলেন যিনি।

    এই অলিম্পিকে জয়দীপের অভিন্নহৃদয় বন্ধু অভিনব বিন্দ্রাও চতুর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু বিন্দ্রার হাতে যা আছে, সত্যিই অভিনব। অভাবনীয় সেই সোনার পদককে ছেড়ে তাঁকে চতুর্থ ভাবা সম্ভব নয় কখনও।

    তাই, ব্যক্তিগত লড়াইয়ে দীপা কর্মকার জায়গা করে নিলেন ইতিহাসে, ভারতের চতুর্থ ‘চতুর্থ’ হিসাবে। ১৫.০৬৬ পয়েন্ট তুলে নিয়ে। বাইলস, পাসেকা, স্টেইনগ্রুবারের পর, ভল্টে।

    লড়াই প্রত্যেকের নিজ নিজ। কারও বেশি কঠিন, কারও কম, এমন নয়। বিশেষ করে আসর যখন অলিম্পিক। প্রত্যেকে দিয়েছিলেন নিজেদের সেরাটাই। সর্বোচ্চ আসরে, যেখানে জায়গা পেতেই এতগুলো বাধার পাহাড় পেরতে হয় যে, অন্য অনেক কিছু,  এমনকি কিছু খেলাও, নিতান্ত ‘খেলো’ মনে হয়। সবারই সামনে এক-একটা করে ‘প্রোদুনোভা’ ছিল, ডিফিকাল্টি লেভেল যার সবচেয়ে বেশি। সেই প্রতিকূলতাকে জয় করেই তাঁরা দেশের সর্বকালের সেরা হিসাবে তুলে ধরেছেন নিজেদের, যে-কৃতিত্বের চেয়ে বড় কৃতিত্ব অলিম্পিকে পদক জয় ছাড়া আর কোনও কিছুই নয়।

    দীপার কৃতিত্ব, এমন একটি খেলাকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন যে-খেলা নিয়ে আমাদের দেশে কারও কোনও মাথাব্যথা ছিল না। অলিম্পিকের আসরে পৌঁছনই যেখানে অনেক। প্রোদুনোভা কী, খায় না মাথায় দেয়, জানে না যে দেশের মানুষ, তাদের মোবাইলে ‘প্রোদুনোভা’ ভল্ট দেখতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে বাধ্য করেছেন। বুঝিয়েছেন সেই মানুষদের, কেন প্রোদুনোভা এত বিপজ্জনক। জিমন্যাস্টিক্স বলতে নাদিয়া কোমানেচি আর পূর্ব ইউরোপের কিছু ফুলের মতো কিশোরীদের দেখতে অভ্যস্ত ভারতীয় দর্শক অধীর আগ্রহে জানতে চেয়েছে, কখন দীপার ইভেন্ট। আর, সময় জেনে থেমে থাকেনি, সময়ে চোখ রেখেছে টিভিতেও।

    আশ্চর্য ছাড়া, পরমাশ্চর্য ছাড়া, আর কী?

    মিলখার ২৪ বছর পর ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স একজন পিটি উষা পেয়েছিল। বিন্দ্রা আসার চার বছর পর জয়দীপকে। কিন্তু, মিলখা, বিন্দ্রা যেমন পথপ্রদর্শক, দীপাও তা-ই। মিলখাকে দেখে ছুটতে শুরু করেছিলেন অনেকে। বিন্দ্রাকে দেখে শুটিং শুরু করেছিলেন আরও বহু শুটার।

    দীপাকে ‘প্রথম’ দেখে নিশ্চয়ই জিমন্যাস্টিক্স শুরু করবে ভবিষ্যতের বহু দীপা। তখনই আরও একবার এমনই খুশিতে ঝলমল করে উঠবে ত্রিপুরার আগরতলার দীপার মুখ, প্রোদুনোভায় ঠিকঠাক ল্যান্ডিং-এর পর যে-হাসিমুখ দেখেছিল জিমন্যাস্টিক্স বিশ্ব।

    হ্যাঁ, জিমন্যাস্টিক্স বিশ্বও কিন্তু বিস্ময়ে ফিরে তাকাল আর একবার। আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক্সে ভল্টে চতুর্থ হওয়া দীপা কর্মকারের দেশের নামটা পড়ে – ভারতবর্ষ!

    No comments