• Breaking News

    উপভোগ্য ম্যাচ, জয়ের হ্যাটট্রিক ইস্টবেঙ্গলের

    eb1ইস্টবেঙ্গল ২‌ আর্মি একাদশ ১
    (রফিক ৪৮, জিতেন ৫৯) (অলউইন ৭৮)


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    বৃষ্টি হয়নি। বারাসতে মাঠ শুকনো খটখটে। রাতের আলোয় খেলা। এই তিনটি কারণেই হয়ত গতবারের কলকাতা লিগে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স দলের ম্যাচ উপভোগ্য হল বেশ। গতি ছিল, আক্রমণে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল দু’দলের। কোনও দলই নিজেদের অর্ধে বসে থাকতে রাজি ছিল না। তেমন করার প্রশ্নই ছিল না ইস্টবেঙ্গলে। টানা সাতবার কলকাতা লিগজয়ের লক্ষ্যে দৌড়চ্ছে যে-দল, জেতার জন্য দৌড়বে, স্বাভাবিক। আর্মি একাদশের প্রশংসা প্রাপ্য কারণ তারাও আগেই হেরে-যাওয়া মানসিকতার শিকার না হয়ে বারবারই সুযোগ পেলে প্রতি আক্রমণে উঠে এল গতি বাড়িয়ে। ম্যাচ প্রাণবন্ত হল আরও।
    প্রথমার্ধ তাই ০-০ শেষ হলেও গোল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল বারেবারেই। ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ অনেক বেশি থাকলেও কাজের কাজ কেউই করতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল এবং চাপমুক্তি লাল হলুদের।
    বলটা তুলেছিলেন অর্নব, ডানদিক থেকে। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে যান রফিক। চকিত টার্নে জায়গা তৈরি করে ডান পায়ের জোরালো শটে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন। এবারের কলকাতা লিগে প্রথম গোল রফিকের। প্রথম আইএসএল-এর ফাইনালে আতলেতিকো দে কলকাতার হয়ে ফাইনালে জয়সূচক গোল করেছিলেন রফিকই। গতবছর অবশ্য তেমনভাবে প্রচারে আসেননি। আর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই রফিক গোল পেয়ে যাওয়ায় ইস্টবেঙ্গল পেয়ে যায় আরও বেশি তেতে ওঠার পর্যাপ্ত রসদ।
    দ্বিতীয় গোল ৫৯ মিনিটে। বাঁদিক থেকে অবিনাশ রুইদাসের সেন্টার। বক্সের মধ্যে বিপক্ষ ডিফেন্ডারের মাথা এড়িয়ে ঠিক সময়ে লাফিয়ে হেড করে জিতেন মুর্মুর গোল। আর্মির ডিফেন্স দায় এড়াতে পারবে না। স্ট্রাইকারকে এভাবে বক্সে বিনাবাধায় হেড দিতে দেওয়া অনুচিত। অমন দুর্দান্ত সেন্টারের জন্য ম্যাচের সেরার পুরস্কারও পেলেন অবিনাশ। তিনটি ম্যাচ ধরেই ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলার পুরস্কার পেলেন আসলে। আর মর্গ্যানের পুরনো সেনাপতি মেহতাব হোসেনও বেশ ভাল খেললেন শুরু থেকেই। বিপক্ষ বক্সে তাঁর তোলা বলগুলোয় ছিল বিপদের গন্ধ।
    তবে, আর্মি খেলায় ফিরে এসেছিল ৭৮ মিনিটে। ডানদিক থেকে সেন্টার তুলেছিলেন সুনীল। ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক ব্যারেটো ডান হাত বাড়িয়ে বল পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সামনে, যেখানে অপেক্ষায় ছিলেন আর্মির এক ফুটবলার। তাঁর বাঁপায়ের শট সোজা যাচ্ছিল, অলউইন সামনে থেকে ডান পা বাড়িয়ে গোলে ঠেলে দেন। ফলে, চাপ বেড়ে যাওয়ার কথা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। কিন্তু আক্রমণের পথ ছাড়েনি ইস্টবেঙ্গল। একেবারে শেষ মুহূর্তে তো দংয়ের মাইনাস থেকে তৃতীয় গোলের পথও খুলে গিয়েছিল জিতনের সামনে। তাঁর বাঁপায়ের শট কোনওরকমে বাঁচান আর্মির গোলরক্ষক শরথ।
    তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত আবার কলকাতা লিগের শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল। হয়ত তিন ম্যাচের বিচারে সবচেয়ে ভাল ফুটবল খেলেই।

    No comments