• Breaking News

    ১২ বছরের তপস্যা সফল, বলছেন সাক্ষী

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    [caption id="attachment_1458" align="alignleft" width="300"]দেশকে প্রথম পদক দেওয়ার পর সাক্ষী। ছবি‌— টুইটার দেশকে প্রথম পদক দেওয়ার পর সাক্ষী। ছবি‌— টুইটার[/caption]

    হরিয়ানার রোহতকের ২৩ বছরের মেয়েকে নিয়ে দেশ জুড়ে চলছে উৎসব। পোডিয়ামে গিয়ে দাঁড়ানো সাক্ষী মালিকের চোখ উপচে তখন বাঁধভাঙা জল। হাসছেন। সেই হাসিতে মিশে অতীত। স্বপ্ন দেখার দিনগুলো।

    হারতে হারতে যিনি ব্যাপক ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া কী? ৫৮ কেজি কুস্তিতে পদক জেতার পর সাক্ষী বলেছেন, ‘আমার বারো বছরের তপস্যা সফল হল।’ গলায় তখন ঝুলছে সদ্য জেতা ব্রোঞ্জটা। কান্না ভিজিয়ে দিচ্ছে সাক্ষীর গলা থেকে বেরিয়ে আসা শব্দগুলো। থেমে থেমে সাক্ষী বলেছেন, ‘গত বার লন্ডন অলিম্পিকে গীতা (ফোগাট) দিদি ভারতের প্রথম মহিলা কুস্তিগীর হিসেবে অলিম্পিকে নেমেছিল। আমি তো সেই ১১ বছর বয়স থেকে এই স্বপ্নটাই দেখে আসছিলাম যে, অলিম্পিকে নামব, আর আমার গলায় থাকবে পদক।’

    দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিতাভ বচ্চন, শচীন তেন্ডুলকার থেকে লিয়েন্ডার পেজ — সাক্ষীর সাফল্য দেখে উচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছেন সকলেই। রিওতে পদকের হাহাকার নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন অনেকেই। খরা কাটালেন সাক্ষী।

    যাঁকে নিয়ে এত হইচই সেই সাক্ষী ভাবেননি একমাত্র তিনিই কুস্তিতে পদক দেবেন দেশকে। ‘আরও রেসলার ছিল মেয়েদের টিমে, যারা ভালো পারফর্ম করতে পারত। সত্যি বলতে কী, আমি কখনও ভাবিনি, ভারতের প্রথম মেয়ে হিসেবে কুস্তিতে পদক জিতে ফেলব।’

    কিরঘিজস্তানের রেসলারের বিরুদ্ধে ব্রোঞ্জ ম্যাচে ০-৫ পিছিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে খেলা ঘোরালেন কী করে? ‘ম্যাচটা হেরে যাচ্ছি, এটা কখনও মাথায় আসেনি। বরং মনে হয়েছিল, ছ‘মিনিট যদি লড়ে যেতে পারি, ঠিক ম্যাচ বের করে নেব। শেষ রাউন্ডটাতে নিজের সবটা উজাড় করে দিই। আত্মবিশ্বাস ছিল, পাল্টে দিতে পারব ম্যাচের ফল।’ নাটকীয় ভাবে ব্রোঞ্জ জেতার পর বলেছেন সাক্ষী।

    দেশের ২৩ বছরের মেয়েকে নরেন্দ্র মোদী টুইটারে লিখেছেন, ‘রাখীবন্ধনের মতো পবিত্র দিনে ভারতের মেয়ে সাক্ষী দেশের মুখ উজ্জ্বল করল। ওর বোঞ্জ জেতায় গর্বিত আমরা। আগামী দিনে অনেকের অনুপ্রেরণা হবে সাক্ষী।’

    বেকবাগানের লিয়েন্ডার পেজ এ বার সপ্তম অলিম্পিকে নামলেও ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু সাক্ষীর গলায় পদক দেখে খুব খুশি তিনি। লিয়েন্ডার টুইটারে লিখেছেন, ‘দেশকে পদক দেওয়ার জন্য সাক্ষীকে অভিনন্দন। আমি, আমরা সবাই গর্বিত তোমার জন্য।’ আর শচীন তেন্ডুলকার? রিও অলিম্পিকের শুভেচ্ছা-দূত লিখেছেন টুইটারে, ‘সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এর থেকে ভাল খবর আর কী হতে পারে!’

    অমিতাভ বচ্চন জেগেছিলেন সাক্ষীর ব্রোঞ্জজয়ের ম্যাচ দেখবেন বলে। যার পর তাঁর টুইট, ‘অবশেষে এক মেয়ে সারা ভারতকে গর্বিত করল। বিশেষ করে কুস্তিতে। সাক্ষী তোমার জন্য গর্ব হচ্ছে।’

    No comments