• Breaking News

    দং মাঝমাঠে খেললে গোলের অনেক পাস পাই: আদিলেজা

    গুয়াহাটির হোটেল ল্যান্ডমার্ক থেকে মোবাইল ফোনেই কথা বললেন ইস্টবেঙ্গলের বিদেশি তারকা আদিলেজা, তাঁর পুরনো ক্লাব সিকিম ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে খেলার আগের দিন


    শিবম দাস

    adileja

    শেষ দু'ম্যাচে দুগোল। পুরনো ফর্মে ফেরার ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী?

    আদিলেজা: দেখুন, কলকাতা লিগ চলাকালীন ব্যাক্তিগত কিছু সমস্যায় ছিলাম। ভাই হাসপাতালে ভর্তি ছিল, মন পড়েছিল আফ্রিকাতেই। ফুটবলে পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে পারিনি। এখন সেই সমস্যা নেই। আগের থেকে অনেক বেশি ডুবে থাকতে পারছি ফুটবলে।

    কলকাতা লিগে চ্যাম্পিয়ন হলেও যতটা আশা করা গিয়েছিল তত বেশি গোল হয়নি। বরদলুই-এর প্রথম ম্যাচেই ছ'গোল। কীভাবে বদলে গেল ছবিটা?

    আদিলেজা: কলকাতা লিগের প্রতিটা দলই ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের সম্পর্কে জানত। অনেক বেশি ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলেছে। কিন্তু, বঙ্গবি অগ্রগামীর আমাদের নিয়ে কোনও সুষ্পষ্ট ধারণা ছিল না। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে আমাদের অসুবিধা হয়নি। বরদলুই-এর দলে অনেক বেশি তরুণ ফুটবলার। সুযোগের অপেক্ষায় ছিল, পেয়েই নিজেদের সেরা খেলাটা খেলেছে।

    আদিলেজা কিন্তু এখনও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মন জয় করতে পারেননি পুরোপুরি!

    আদিলেজা: সমর্থকদের কোনও দোষ নেই। ওদের অনেক বেশি প্রত্যাশা ছিল। আমি নিজেও পারফরম্যান্সে ততটা খুশি হইনি। তবে এ-ও ঠিক যে, কলকাতা লিগ চলাকালীন আমার ভাই মারা যায়। মানসিক অবসাদে ভুগছিলাম।

    কলকাতা লিগের মাঝপথে দেশে ফিরে গেছেন মর্গ্যান, পরে ড্রাইডেনও। বারবার কোচ বদল, দলে প্রভাব পড়ছে না তো?

    আদিলেজা: সবাই পেশাদার ফুটবলার, নিজের কাজ ও দায়িত্ব সকলেই ভাল বুঝি। মর্গ্যান আর ড্রাইডেন আমার ফুটবল কেরিয়ারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুই কোচ। মাঠের ভিতর ও বাইরে ওঁরা সবসময় উৎসাহ জুগিয়েছেন। ফুটবলারদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মেশেন। দলগত সংহতি বাড়াতে যা সাহায্য করেছে। আর, রঞ্জন চৌধুরি যেভাবে আমাদের মোটিভেট করছেন, মাঠেই তো তার প্রতিফলন দেখছেন।

    ডার্বি না খেলতে পারার জন্য আক্ষেপ আছে?

    আদিলেজা: মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলতে ভালবাসি। মহমেডানের হয়ে ওদের বিরুদ্ধে দুটো গোল করেছিলাম। এবার ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে গোল করতে চেয়েছিলাম। ডার্বি না হওয়াটা যন্ত্রণাদায়ক।

    শনিবার সামনে সিকিম ইউনাইটেড। মানসিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ?

    আদিলেজা: ভারতে আসার পর সিকিম ইউনাইটেড আমার প্রথম ক্লাব। বাইচুং আমাকে ভারতে নিয়ে এসেছিল। এখনও অনেক বন্ধু ওই পুরনো ক্লাবে আছে। ওদের বিরুদ্ধে একটু আবেগতাড়িত হয়েই মাঠে নামব। এই ম্যাচেও গোল করে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে চাই, আবার।

    দং ও ক্যালামের সঙ্গে খেলা কেমন উপভোগ করছেন?

    আদিলেজা: দং অসাধারণ ফুটবলার। ম্যাচ অনুযায়ী নিজেকে বদলাতে পারে। দং মাঝমাঠে খেললে গোলের অনেক পাস পাই। আর ক্যালাম এই দলের প্রকৃত নেতা। মাঠের মধ্যে দলকে সবসময় উজ্জীবিত রাখে। ওদের থেকে অনেক কিছু শিখছি।

    বরদলুই-এর পর, ভবিষ্যৎ?

    আদিলেজা: ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তা ও সমর্থকরা যেভাবে ভালবেসেছেন, কৃতজ্ঞ। বরদলুই ট্রফি জিতে কিছুটা ফিরিয়ে দিতে চাই। ওঁরা চাইলে ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে মাঠে নামতে তৈরি থাকব। না হলে, বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব, এই আর কী!

    No comments