• Breaking News

    মোহনবাগান: খেলব না! ইস্টবেঙ্গল: মাঠে থাকব!

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    eb-mb-1291388

    সোমবার এইটুকুই বলা বাকি ছিল। মঙ্গলবার যা সরকারিভাবে জানিয়ে দিল মোহনবাগান। ৭ সেপ্টেম্বর ডার্বি ম্যাচ খেলবে না!

    আযোজক সংস্থা কী করবে এখন? আইএফএ-র নিয়ম বলছে, ওয়াকওভারের ক্ষেত্রে মাঠে হাজির দল তিন পয়েন্ট পাবে ম্যাচ থেকে। গরহাজির দলের তিন পয়েন্ট বাদ যাবে, এখনও পর্যন্ত অর্জিত পয়েন্ট থেকে। তারপর লিগ সাবকমিটির সভা হবে। সেখানে আরও ২ পয়েন্ট কাটা হতে পারে।

    মানে, মোহনবাগান কল্যাণী স্টেডিয়ামে বড় ম্যাচ খেলতে না-গেলে যা যা হতে পারে – এই মুহূর্তে ৬ খেলে মোহনবাগানের পয়েন্ট ১৫। বড় ম্যাচে ওয়াকওভার দিলে, সেটা ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্টে নেমে আসবে। লিগ সাব কমিটি যদি তাদের সভায় আরও ২ পয়েন্ট কেটে নেয়, ৭ ম্যাচ খেলে ১০ পয়েন্টে দাঁড়াবে মোহনবাগান। আর, ইস্টবেঙ্গল ৮ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে যাবে পরের ম্যাচের দিকে।

    এটা অবশ্য নিয়ম। হবে কিনা, পরের ব্যাপার!

    লিগ শুরুর আগে থেকেই মোহনবাগান বলে এসেছিল, প্রদর্শনী ম্যাচ খেলবে না। সরাসরি আইএফএ-কে না বলে যদিও সেই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল সংবাদমাধ্যমকে। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জলের মতো অনেক টালবাহানা চলল। শেষ পর্যন্ত বড় ম্যাচ না-খেলার কী কারণ দেখাল মোহনবাগান?

    অঞ্জন মিত্র বলে দিলেন, ‘সাত তারিখের জায়গায় আট তারিখ ম্যাচ করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু হল না। আমরা পালিয়ে যাব না। এখনও যাচ্ছি না। এর পেছনে কোনও একটা শক্তি কাজ করছে। উৎপলবাবুর ক্ষমতা নেই এর সমাধান করবেন। ইস্টবেঙ্গল ওই মাঠে খেলেছে। পুলিস অনুমতি দেয়নি এখনও। আমরা ঝুঁকি নিতে পারছি না। তাই খেলছি না।’

    দেবাশিস দত্ত জানিয়ে দেন, ‘দুহাজার করে টিকিট দেবে বলেছে আইএফএ। এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না। এই ম্যাচটা মোহনবাগান মাঠে হওয়ার কথা ছিল। পুলিসের জন্য হল না। আজ (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জানানো হল। ম্যাচের আগে অন্তত ৪৮ ঘন্টা পাওয়ার দাবি এবং, মাত্র দু’হাজার টিকিট পেলে চলবে না, দুটো দাবির কোনওটাই মানা হয়নি। একটা দলকে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য যদি হয়, কিছু বলার নেই। উৎপলবাবু কারও হাতের পুতুল!’

    আইএফএ যা শুনে জবাবে বলল, ‘পুলিসের অনুমতি নেই, একেবারেই ভুল কথা। আমাদের পক্ষে তারিখ পাল্টানো সম্ভব নয়। যদি মোহনবাগান খেলতে না আসে, খুব খারাপ দৃষ্টান্ত হবে। অজুহাত কিনা, আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়।’

    ইস্টবেঙ্গলও থাকল নিজেদের অবস্থানেই। ‘মোহনবাগান কেন ম্যাচ খেলবে না, ওদের নিজেদের ব্যাপার। আমরা জেনে কী করব? কিন্তু, ম্যাচ হঠাৎ পেছবে কেন? কেনই বা আমরা সাফার করব? কেউ নাটক করবে, তার জন্য ম্যাচ পিছনো হবে কেন? আইএফএ জানতে চেয়েছিল, সম্ভব কিনা। জানিয়ে দিয়েছি, পারব না।’

    ‘অশুভ শক্তি’ প্রসঙ্গে সরাসরি বক্তব্য ইস্টবেঙ্গলের যে, ‘এই অশুভ শক্তিটা কোথায়, কাদের? শুনছি যে, আঁতাত আছে আমাদের সঙ্গে। তা হলে ওরা গোপন মিটিং করছে কী করে? রেফারিংয়ের জন্য আমরা অনেক ভুগেছি। কিন্তু মেনে নিতে হয়েছে। ওরা টালিগঞ্জ ম্যাচটা খুন করল যেভাবে, তারপর ইউনাইটেড ম্যাচে রাজুর পেনাল্টিটা রেফারি দেখেও দেখলেন না। আসলে, ম্যাচের আগে ওরা যদি জানতে পারে জিতবে, তা হলেই খেলবে। ইউনাইটেড ম্যাচের মতো কোনও রেফারি খেলালে এবং জেতার নিশ্চয়তা পেলেই খেলতে চলে যাবে ঠিক। আই লিগে দল তুলে নেওয়ার জন্য যেমন শাস্তি হয়েছিল তেমন কিছুই প্রাপ্য ওদের। আর, সাত তারিখে ম্যাচের আয়োজক তো আইএফএ, ওরা তো নয়! আমরা গেলাম কী করে? কাল (বুধবার) সকালে ওরা মাঠে পৌঁছে গেলেও অবাক হব না!’

    মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত যা খবর, মোহনবাগান যাচ্ছে না বুধবার কল্যাণীতে, ওয়াকওভার দিচ্ছে। ইস্টবেঙ্গল যাচ্ছে মাঠে উপস্থিত থাকতে। পরের ‘এপিসোড’-এ কী হবে, জানতে রোজ নজর রাখা ছাড়া উপায় নেই, কলকাতা ফুটবলের নতুন এই মেগা-সিরিয়ালে!

    No comments