• Breaking News

    অন্ধকার থেকে সোনার আলোয় সবজি বিক্রেতার ছেলে মারিয়াপ্পান

    [caption id="attachment_1654" align="alignleft" width="300"]মারিয়াপ্পান, সোনা জেতার পর। ছবি— টুইটার মারিয়াপ্পান, সোনা জেতার পর। ছবি— টুইটার[/caption]

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    সোনা জিতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন যিনি, সেই মারিয়াপ্পান থাঙ্গাভেলুর উত্থানের গল্প শুনলে চোখে এসে যাবে জল।

    তামিলনাড়ুর সালেম জেলার ছোট্ট গ্রাম থেকে উঠে আসা ২২ বছরের ছেলের মা সরোজা সবজি বিক্রি করেন বাজারে। দিনে রোজগারের ১০০ টাকা দিয়েই চলে সংসার। সেখান থেকেই উঠে এসেই প্যারালিম্পিকে সোনা জিতেছেন মারিয়াপ্পান! ভারতীয় সময় অনুযায়ী ভোররাতে ছেলেকে হাইজাম্পে সোনা জিততে দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন সরোজা।

    অভাবের সংসারে তিন ছেলে ও এক মেয়েকে একাই বড় করেছেন সরোজা। একটা সময় ছিল, যখন দিন মজুরের কাজ করতেন তিনি। ‘এক দিন মারিয়াপ্পান এক জনের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার করে এনে আমাকে বলে, আর দিন মজুরের কাজ করো না। এ বার থেকে সবজি বিক্রি করো বাজারে।’

    ছেলেকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চোখের জলে ভেসেছেন মারিয়াপ্পানের মা। পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়ার সময় সরকারি বাসের তলায় পড়ে ডান পা-টা হারান মারিয়াপ্পান। ক্ষতিপূরণের দাবি করেছিলেন সরোজা। কিন্তু সেই টাকা মিলতে লেগে যায় বেশ কয়েক বছর। ২ লাখ টাকা শেষ পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছিল। যার এক লাখ টাকা চলে যায় উকিলের ফি মেটাতে। বাকি এক লাখ টাকা ব্যাঙ্কে ‘ফিক্সড’ রেখেছেন সরোজা। সেই সরোজাই বলেছেন, ‘ওকে অলিম্পিকে সোনা জিততে দেখে আমরা নিজেদের ঠিক রাখতে পারিনি। বারবার জল চলে আসছিল চোখে। কত পরিশ্রমের পর ছেলেটার স্বপ্নপূরণ হল।’

    অভাবের সংসারে বাকি তিন ছেলে-মেয়েকে সে ভাবে পড়াতে পারেননি সরোজা। ব্যতিক্রম একমাত্র মারিয়াপ্পান। তামিলনাড়ুর এভিএস কলেজ থেকে বিবিএ করেছেন। মারিয়াপ্পানও হয়তো হারিয়ে যেতেন অভাবের অন্ধকারে। কিন্তু তাঁর প্রতিভাই আলোতে এনে দিয়েছিল তাঁকে। ওই কলেজের ফিজিক্যাল এডুকেশন ডিরেক্টর মারিয়াপ্পানের হাইজাম্প দেখে বুঝে যান, এ ছেলে অনেক দূর যাবে। তার পর বেঙ্গালুরুতে কোচ সত্য নারায়ণের হাতে পড়েন তিনি। সেখান থেকেই ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা।

    খুব ছেলেবেলায় বাবা ছেড়ে চলে যান মারিয়াপ্পানদের। দীর্ঘ দিনের লড়াই এত দিনে সফল। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা ২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে দিয়েছেন মারিয়াপ্পানের জন্য।

    ভেসে যেতে যেতে এ ভাবেও যে ফিরে আসা যায়, মারিয়াপ্পান না থাকলে হয়তো বিশ্বাসই হত না!

    No comments