• Breaking News

    নির্বাচক দেবাং গান্ধী বিশ্বাসী ‘আরও পরিশ্রমে’

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    [caption id="attachment_1711" align="alignleft" width="200"]devang ছবি, দেবাং গান্ধীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে[/caption]

    লোধা কমিটির সুপারিশ মানেনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। জাতীয় নির্বাচক কমিটি যেন তিনজনের হয়, চেয়েছিলেন তাঁরা। বোর্ড সেই পাঁচজনকেই রেখেছে। ‘অঞ্চলভিত্তিক’ প্রথা তুলে দিতে বলেছিল লোধা কমিটি। বোর্ডে নতুন নির্বাচকরা বিভিন্ন অঞ্চলেরই – গগন খোড়া মধ্যাঞ্চল, যতীন পরাঞ্জপে পশ্চিমাঞ্চল, শরণদীপ সিং উত্তরাঞ্চল ও দেবাং গান্ধী পূর্বাঞ্চল। আর নির্বাচকদের চেয়ারম্যান  দক্ষিণাঞ্চলের এমএসকে প্রসাদ। কাজেই থেকে গেল আঞ্চলিক ভাবনাও, যা অবশ্য বোর্ডকর্তারা মানতে চাননি। বলেছেন, সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, অঞ্চল দেখে নয়। লোধা কমিটি সে-কথা শুনলে হয়!

    লোধা কমিটি আরও বলেছিল, টেস্ট ক্রিকেটার না হলে আর অন্তত পাঁচ বছর আগে অবসর না-নিলে যেন সিনিয়র ন্যাশনাল সিলেকশন কমিটিতে কাউকে জায়গা না দেওয়া হয়। যতীন পরাঞ্জপে আর গগন খোড়া, দুজনেই টেস্ট খেলেননি! বাকি তিনজন খেলেছিলেন, কিন্তু টেস্ট-সংখ্যা দু-অঙ্কের সর্বনিম্ন সংখ্যাও ছুঁতে পারেনি কারও ক্ষেত্রেই। নির্বাচকদের অধিনায়ক এমএসকে প্রসাদ খেলেছিলেন ৬ টেস্ট, দেবাং ৪, শরণদীপ ৩। কাজেই বোর্ড সরাসরি সংঘাতের রাস্তাতেই থাকল, লোধা কমিটির সুপারিশ সংক্রান্ত ব্যাপারে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ না-মেনে।

    বাংলার দেবাং গান্ধী অবশ্য নতুন দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত। সংবাদমাধ্যম জানতে পারার পর থেকেই বারবার কথা বলতে হচ্ছে, মোবাইল সবসময়ই ‘ব্যস্ত’। সাক্ষাৎকার দিলেন পরে। যা যা বললেন, বিভিন্ন বিষয়ে -

    নির্বাচক হিসাবে লক্ষ্য  

    আরও আরও পরিশ্রম। খেলার সময় যা করেছি, এখনও তাই-ই করতে হবে। যে কোনও ভাল কাজ করতে গেলে যা জরুরি, পরিশ্রম আর পরিশ্রম।

    পরিশ্রম অর্থে

    অনেক বেশি ম্যাচ দেখতে হবে। এত বড় দেশ আমাদের, ছড়িয়ে ছিটিয়ে সব প্রান্তেই খেলা হয়। মন দিয়ে দেখা, মনে রাখা কে কোথায় ভাল খেলছে, উঠে আসছে। যে কোনও সভায় যাওয়ার আগে নিজেকে পুরোপুরি তৈরি রাখতে হবে। সব তথ্য যেন হাতের কাছেই থাকে।

    নির্বাচক হয়ে অনুভূতি

    দুর্দান্ত, বলে বোঝানো যাবে না। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ, আমাকে বেছে নেওয়ার জন্য, আমাকে যোগ্য মনে করার জন্য।

    ভাবনা ছিল কিনা

    ক্রিকেটার হিসাবে স্বপ্ন ছিল টেস্ট খেলব। যে দিন সেই ডাক পেয়েছিলাম, ভারতের হয়ে টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়ার খবর এসেছিল কানে, মনে হয়েছিল স্বপ্ন সফল হল। কিন্তু, নির্বাচক হওয়াটা মনে হয় না কারও স্বপ্ন বা তেমন কিছু ব্যাপার থাকে। এটা হয়ে যায় আসলে। খেলেছি দীর্ঘদিন, তারপরও খেলার সঙ্গেই জড়িয়ে আছি। ম্যাচ দেখতাম, লিখতাম, ধারাভাষ্যও দিতাম। কখনও ক্রিকেট থেকে দূরে চলে যাইনি। মনে হয় এগুলোই সাহায্য করল। জাতীয় নির্বাচক হওয়া মানে বিরাট দায়িত্ব। এখন তিনটি ফর্ম্যাটের দল গড়তে হয়। একসময় টেস্ট খেলব ভাবতাম, এখন আমি টেস্ট ক্রিকেটারদের বেছে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করব, কমিটির বাকি সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে - ভাবতে ভালই লাগছে।

    উঠতি ব্যাটসম্যানের মধ্যে কী খুঁজবেন

    বিভিন্ন উইকেটে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রান পাচ্ছে কিনা। সবচেয়ে বড়, রানটা কখন করছে আর সেই রান দলের কতটা কাজে লাগছে। টেকনিক তো দেখতেই হবে। তবু বলব টেম্পারামেন্ট খুব জরুরি আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য পেতে।

    প্রতিভাবান বোলারের মধ্যে

    কী ধরনের উইকেটে কেমন বল করছে, কতটা ধারাবাহিক থাকতে পারছে, লম্বা স্পেলে বল করতে পারছে কিনা ইত্যাদি। ফাস্ট বোলার হলে, যদি সত্যিই বেশি গতি থাকে, ফাটকা খেলা যায়, খেলিয়ে দেওয়া যায় হঠাৎ করে। কিন্তু, স্পিনারের ক্ষেত্রে অন্তত বছর দুই অপেক্ষা করতে চাই। মার খাওয়ার পর তারা কেমন করে ফিরে আসার চেষ্টা করবে বা করছে, দেখে নেওয়া উচিত।

    রনজি ম্যাচ নিরপেক্ষ জায়গায়

    খুবই ভাল সিদ্ধান্ত। নিজেদের মাঠের সুবিধে নিতে পারবে না কোনও দল। যাদের স্পিনার বেশি আছে, ঘূর্ণি-পিচ বানিয়ে বিপক্ষকে অস্বস্তিতে রাখত। আবার যাদের জোরে বোলার বেশি আছে, সবুজ পিচ তৈরি করত। এখন নিজেদের মাঠে খেলার ব্যাপার যেহেতু থাকছে না, সবাই একই রকম স্পোরটিং পিচ তৈরি করবে যা আখেরে কাজে লাগবে ভারতীয় ক্রিকেটের। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সাধুবাদ দেব ভারতীয় বোর্ডকে। খুবই বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।

    রনজিতে আরও ফাঁকা মাঠ

    রনজি ম্যাচে কবেই বা আর বেশি লোক আসে! নিজের রাজ্য খেললে কয়েকজন আসতেন হয়ত। তাঁরা আসতেন খেলাটাকে ভালবাসেন বলেই। তাঁরা এখনও আসবেন। আমরা তো যাবই। ধরুন মুম্বই খেলতে আসছে কলকাতায়। যাদের বিরুদ্ধেই খেলুক, অজিঙ্ক রাহানে, রোহিত শর্মারা খেলতে আসবে, যিনি ক্রিকেট ভালবাসেন, কী করে বসে থাকবেন ঘরে? মাঠে যাবেন না, হয় নাকি! আর, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আসল উদ্দেশ্য তো ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেই দিকে তাকালে এর চেয়ে ভাল সিদ্ধান্ত আর হয়ই না!

    No comments