• Breaking News

    ৮-৩! আবার মোরিনিওর হার, গারদিওলার কাছে!

    ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ১ ম্যাঞ্চেস্টার সিটি ২
    (ইব্রা ৪২) (দে ব্রুইন ১৫, কেলেচি ৩৬)


    [caption id="attachment_1664" align="alignleft" width="300"]নিজের দলের ডিফেন্ডার জোনস এভাবেই লেগেছিলেন ব্রাভোর সঙ্গে, যে-কারণে হাত থেকে বল ফস্কে গিয়েছিল চিলের অধিনায়কের। ছবি – টুইটার নিজের দলের ডিফেন্ডার জোনস এভাবেই লেগেছিলেন ব্রাভোর সঙ্গে, যে-কারণে হাত থেকে বল ফস্কে গিয়েছিল চিলের অধিনায়কের। ছবি – টুইটার[/caption]

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    রেকর্ড এখন ৮-৩। ব্যবধান ক্রমশ বেড়েই চলেছে। ফুটবল খেলতে-চাওয়া আর না-খেলতে চাওয়া কোচের!
    স্পেনে পেপ গারদিওলা স্বাগত জানিয়েছিলেন হোসে মোরিনিও-কে, পাঁচ গোল দিয়ে। বার্সেলোনা বেশি ভাল দল, এই যুক্তিতে ইংরেজ বিশেষজ্ঞ এবং ইংরেজি আলোয় আলোকিত ভারতীয় ও বাংলা বাজার বারবারই এই পরিসংখ্যানকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে এসেছিল। ইংল্যান্ড মোরিনিওর জায়গা। পর্তুগিজ কোচ চেনেন সব মাঠের মাটি, ঘাস! রেফারিদেরও। জানেন কী করে চাপ বাড়াতে হয়। আর একেবারে নতুন দলে এসে গারদিওলা বিরাট চাপে পড়বেন, নিশ্চিত ছিল ইংরেজ প্রচারমাধ্যম। সঙ্গে ছিলেন ব্রিটিশ ফুটবলের ধারক ও বাহক স্কটিশ গ্রেম সোনেসরা। ওয়েন রুনির ‘দুরন্ত’ (!) প্রতিভা, জ্লাটান ইব্রোহিমোভিচের ক্ষোভের আগুন, পল পোগবা, সর্বোপরি মোরিনিওর উপস্থিতি এবং খেলা নিজেদের মাঠে, বিপক্ষে আবার সের্খিও আগেরো, ইয়াইয়া তুরেও নেই! ম্যাঞ্চেস্টার ডার্বি, ইংরেজ প্রচারমাধ্যম, দিয়েই দিয়েছিল ইউনাইটেডকে।
    ম্যাচে প্রথম গোল কেভিন দে ব্রুইনের। পেছন থেকে লম্বা বল বাড়িয়েছিলেন কোলারভ। সিটির তরুণ প্রতিভা কেলেচি ইহেয়ানাচো হেডে বল বের করে দেন দে ব্রুইনের জন্য। বেলজিয়ামের পঁচিশ বছর বয়সী তারকা সহজেই পরাস্ত করেন দে খেয়া-কে, ডান পায়ের শটে। দ্বিতীয় গোলের সময়ও সেই দে ব্রুইন। ইউনাইটেড ডিফেন্ডাররা দাঁড়িয়ে দেখছিলেন তখন। বিনা বাধায় দে ব্রুইন এবার বাঁপায়ে শট নেন। দে খেয়াকে বিহ্বল করে রেখে সেই শট দূরের পোস্টে লেগে ফিরছে যখন, সামনে ছ’গজের বক্সেই দাঁড়িয়ে কেলেচি। গোল করতে ভুল করেননি নাইজেরিয়ার উনিশ বছরের তরুণ প্রতিভা। সম্প্রতি তানজানিয়ার বিরুদ্ধে বাঁপায়ের দুরন্ত শটে গোল করে যিনি এই মুহূর্তে খ্যাতির চূড়ায়। দে ব্রুইন আর কেলেচি, দুজনের একটি করে গোল, একটি করে অ্যাসিস্ট!
    কিন্তু, ইউনাইটেড ম্যাচে ফিরে এসেছিল ব্রাভো বল গ্রিপ করতে পারেননি বলে। বার্সেলোনা থেকে উড়ে এসে নতুন ক্লাবে তাঁর অভিষেক সুখকর হল না। রুনির একটি নির্বিষ ফ্রি-কিক ধরতে লাফালেন। ইংরেজ ডিফেন্ডার স্টোনস কাজটা কঠিন করে দিলেন তাঁর গায়েই লেগে থেকে। ইব্রা সেই পড়ে-পাওয়া চোদ্দ আনা সুযোগ সহজেই ডান পায়ের ভলিতে গোলে পাঠান।
    দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাভো আরও একবার বড় ভুল করে ফেলেছিলেন, বল পায়ে আগুয়ান ইউনাইটেড ফরোয়ার্ডকে কাটাতে গিয়ে বলের ওপর নিয়ন্ত্রণই ছিল না। এগিয়ে-যাওয়া বল বাঁচাতে গিয়ে পা বাড়িয়েছিলেন যখন স্টাড দেখা যাচ্ছিল। অন্য কোনও ম্যাচ, অন্য কোনও রেফারি, কিংবা এই রেফারি মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গও পেনাল্টি দিতে পারতেন হয়ত। ম্যাচের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে মোরিনিও অবশ্য এই সিদ্ধান্তের কারণে ক্ল্যাটেনবার্গ সম্পর্কে কী কী বলবেন, আন্দাজ করা মুশকিল!
    দ্বিতীয়ার্ধে সিটির দে ব্রুইনের শট একবার ফিরে এসেছিলেন দে খেয়াকে পরাস্ত করে পোস্টে লেগে। ইউনাইটেড নিজেদের মাঠে পাঁচ মিনিট সময় পেয়েছিল, ইনজুরি টাইম হিসাবে। চেষ্টা করেছিল ইউনাইটেড, নিজেদের মতো করে, রুনি বারবার বল তুলছিলেন বক্সে, আশায় কিছু একটা হবে। শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। উল্টে রুনি-ফেলাইনি-ইব্রাদের মারমুখী মেজাজ বলে দিল, মোরিনিও-ফর্মূলা কাজ করতে শুরু করেছে ওল্ড ট্রাফোর্ডেও!
    আর হ্যাঁ, ইংরেজ ক্লাব যাঁকে সবচেয়ে ‘বেশি দাম’ দিয়ে কিনল, সেই পল পোগবা ব্রাজিলে একেবারেই পাত্তা না-পাওয়া ফেরনান্দিনিওর বিরুদ্ধে, মাঠে ছিলেন?
    গারদিওলা অবশ্য হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন ইংরেজ প্রচারমাধ্যমের। দেশের হয়ে যত খারাপই খেলে থাকুন জো হার্ট বা সিটিকেও প্রয়োজনের মুহূর্তে যতবারই সমস্যায় ফেলে থাকুন, হাজার হলেও হার্ট যে ইংরেজ! কোথাকার কোন চিলে-র গোলরক্ষককে আদর করে ডেকে-আনা, গারদিওলা ইনিংসের শুরুতেই হাফভলি দিয়ে দিয়েছেন ইংরেজ প্রচারমাধ্যমকে! তাই, ব্রাভো ইউনাইটেডকে গোলটা ‘উপহার’ দেওয়ার পর মোটামুটি ধুয়েই খেল ইংরেজ প্রচারমাধ্যম, চিলের অধিনায়ককে। একেবারেই ভুলে গিয়ে যে, ইংরেজ ডিফেন্ডার জন স্টোনস ওভাবে ব্রাভোর গায়ে লেগে না-লাফালে এবং কনুইও না-চালালে, ব্রাভোর পক্ষে বলটা ফেলে দেওয়া মুশকিল ছিল!
    ব্রাভোর কোচকে এবার আরও বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হবে। কারণ, মোরিনিওর মাঠে মোরিনিওকে হারানোর অপরাধ করে ফেলেছেন, খোদ ইংল্যান্ডে! মোরিনিওর প্রশিক্ষণাধীন দল ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দ দিয়েছে ফুটবল ‘খেলে’ এই অভিযোগ নেই! রেয়াল মাদ্রিদে অমন ভাল দল পেয়েও যখনই কাছাকাছি মানের দলের বিরুদ্ধে খেলা হত, ফিরে যেতেন ধাক্কাধাক্কি-মারামারির ফুটবলে, লাসান দিয়ারাদের নামিয়ে। রিকার্দো কার্ভালিওর মতো ফুটবলারদের খুঁজে খুঁজে ঠিক ফিরিয়ে আনতেন, না-খেলার জন্য প্রসিদ্ধি যাঁদের। ইউনাইটেডে এসেও একই রকম অনুত্তেজক ফুটবল খেলছে তাঁর দল। ফুটবল খেলব, বল ছোঁব না – তাতেই নাকি বিরাটত্বের বীজ লুকিয়ে!
    ম্যাঞ্চেস্টার ডার্বির ঠিকঠাক শিরোনামই করেছিল ইংরেজ সংবাদমাধ্যম। ‘সবচেয়ে দামী’। কিন্তু সবচেয়ে দামী আর ‘সবচেয়ে ভাল’-র পার্থক্য আছে, যা বাজারি হলে বোঝা সম্ভব নয়! দুদলেই এমন ফুটবলারদের প্রাধান্য, বিশেষ করে ইউনাইটেডে, যাঁরা টানা পাঁচটা পাস তো দূরের কথা, পাশের ফুটবলারের পায়েও পাস দিতে গেলে হোঁচট খান।
    এমন ফুটবলাররা থাকলে যা হয়, ম্যাচে দৌড়োদৌড়ি হল প্রচুর, গা-জোয়ারিও। গারদিওলা সবে এসেছেন। সিটিকে শেখাচ্ছেন পাস খেলতে। তাঁর সুবিধা, তাঁর আগে যিনি ছিলেন কোচ সিটিতে, সেই মানুয়েল পেয়েগ্রিনি এমন খেলতে পছন্দ করতেন। গারদিওলার কাজ এখন নিজের কাঙ্ক্ষিত ছন্দ আনা, এই ফুটবলারদের পায়েই। যা বেশ কঠিন শুধু নয়, প্রায়-অসম্ভব!

    No comments