• Breaking News

    স্বাধীন-ভারতে খেলা প্রথম বিদেশি ফুটবলার মাসুদ ফকরি প্রয়াত

    রাইট স্পোর্টস  ডেস্ক

    masood-fakhri

    ময়দানে খেলে যাওয়া সেরা বিদেশি কে?

    কলকাতার ফুটবল-জনতার তালিকায় একে থাকেন মজিদ বাসকার।

    আর সেরা বিদেশির তালিকায় দুই-য়ে?

    প্রবীণরা এমন এক জনের কথা বলবেন, এই প্রজন্ম যাঁর নামই শোনেনি। পাকিস্তানের মাসুদ ফকরি! লাল-হলুদ জার্সিতে অবিশ্বাস্য স্কিলের জন্য যিনি প্রবল জনপ্রিয় ছিলেন ময়দানে।

    পাঁচের দশকের শুরুতে ইস্টবেঙ্গলে খেলে যাওয়া এই পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড মারা গেলেন ৮৩ বছর বয়সে। বহু দিন আগেই দেশ ছেড়ে পাকাপাকি ভাবে চলে গিয়েছিলেন ওয়েলসে। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    প্রয়াত শৈলেন মান্না তাঁকে খেলতে দেখেছিলেন। সাংবাদিক মানস চক্রবর্তীর লেখা ‘শতাব্দীর সেরা শৈলেন মান্না’ বইতে মান্নার কথায়, ‘পাকিস্তানের লেফট উইঙ্গার মাসুদ ফকরিকে প্রথম দেখেছিলাম কোয়াড্রাঙ্গুলার ফুটবলে। চমৎকার চেহারা, ফর্সা, প্রায় পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চি লম্বা। বল ধরা বা নেওয়া এবং বল নিয়ে ওর দৌড়টা ছিল দেখবার মতো। ওর খেলায় ছিল বুদ্ধি ও সৌন্দর্যের নিখুঁত সংমিশ্রণ। ফকরির হেডিং ও বাঁপায়ের শট বিপক্ষ দলের কাছে ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক।’

    ‘শতাব্দীর সেরা শৈলেন মান্না’ বইতেই ফকরি সম্পর্কে বলেছিলেন পিকে ব্যানার্জিও। সরাসরি সেই বই থেকেই পিকে ব্যানর্জি-র উক্তি, ‘ওর খেলার ধরন, ছন্দ এবং বাঁ পায়ের প্রচণ্ড শুটিং কলকাতার দর্শকদের মাতিয়ে দিয়েছিল। খালি পা থেকে আস্তে আস্তে বুট পরে খেলার চল হচ্ছে – এই সময় ফকরির আবির্ভাব। প্রচণ্ড গতিসম্পন্ন ছিলেন না, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলতেন। দারুণ বল কন্ট্রোল ছিল, বিশেষ করে বাঁ পায়ে। তবে ফকরি কোনও সময়েই এক পায়ের ফুটবলার ছিলেন না। ডান পায়ে ওকে বহু গোল করতে দেখেছি। ওঁর সেন্টারিং, লিফটিং, শুটিং, হেডিং যা ছিল তাতে অনায়াসে তখনকার ভারতীয় দলে ঢুকে যেতে পারতেন। ফকরিকে আমার আরো্ ভাল লাগত কারণ ও ছিল দারুণ হ্যান্ডসাম।’

    ১৯৩২ সালে জন্ম ফকরির। ১৭ বছর বয়সে ফুটবল খেলা শুরু করেন। খুব দ্রুত নজরে পড়ে যান পাকিস্তানের ফুটবল কর্তাদের। ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানের রাইডার্স ক্লাবে পেশাদার জীবন শুরু। ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৫৪ সালে এশিয়ান গেমসে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করেছিলেন তিনি। পাকিস্তান জিতেছিল ৬-২। সেই প্রথম উপমহাদেশের কোনও ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ফুটবলে হ্যাটট্রিক।

    মাসুদ ফকরির জনপ্রিয়তা বেড়ে গিয়েছিল লাল-হলুদে পা দিয়ে। ভারতের স্বাধীনতার পর তিনিই প্রথম বিদেশি ফুটবলার। ১৯৫২ থেকে ১৯৫৪ সাল - তিন বছর খেলেছিলেন ইস্টবেঙ্গলে। প্রথম বড় ম্যাচ খেলতে নেমেই গোল করেছিলেন লেফট আউটে খেলা মাসুদ। সেই সময় ইস্টবেঙ্গলে পঞ্চপান্ডবের রাজত্ব। আমেদ খান, সালে, বেঙ্কটেশ, আপ্পা রাওদের পাশে খেলতেন তিনি। খেলেছিলেন সদ্যপ্রয়াত অমল দত্তর সঙ্গেও, ইস্টবেঙ্গলেই।

    পরের দু’বছর মহমেডানে খেলেছিলেন মাসুদ, ১৯৫৫ আর ১৯৫৬ সালে। তার পর পাকাপাকি ভাবে চলে যান ইংল্যান্ডে। সেখানকার তৃতীয় ডিভিশন একটি ক্লাবে খেলেন। ক্রমশ হারিয়ে যান তারপর।

    পাকিস্তানের খবর অনুযায়ী, ওয়েলসে ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাসুদ ফকরি। কিন্তু তাঁর পরিবারের তরফে কিছুই জানানো হয়নি। একটি স্থানীয় কাগজে মাসুদ ফকরির প্রয়াণের খবর বেরতেই হইচই পড়ে যায়। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের তরফে ফেসবুকে লেখা হয়, ‘মাসুদ ফকরি তিন বছর খেলে গিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলে। উপমহাদেশের প্রথম ফুটবলার যিনি ইংলিশ ফুটবল লিগেও খেলেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীর ভাবে শোকাহত।’

    No comments