• Breaking News

    ঘরের মাঠের সুবিধা কেরলের দিকে, ইতিহাস সঙ্গে কলকাতার

    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2777" align="alignleft" width="300"]স্টিভ কোপেল, অ্যারন হিউজ, এলদের পোস্তিগা ও হোসে মোলিনা। ফাইনালের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে, কোচিতে শনিবার। ছবি - আইএসএল স্টিভ কোপেল, অ্যারন হিউজ, এলদের পোস্তিগা ও হোসে মোলিনা। ফাইনালের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে, কোচিতে শনিবার। ছবি - আইএসএল[/caption]

    কেরালা ব্লাস্টার্স সমর্থকদের উত্তেজনা চরমে। তাদের সমর্থন আর ঘরের মাঠে টানা ছয় ম্যাচ জেতার রেকর্ড সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ফাইনালে আতলেতিকো দে কলকাতার বিরুদ্ধে রবিবার কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে খেলার জন্য তৈরি হচ্ছে ব্লাস্টার্স।

    নিজেদের মাঠে টানা ছয় ম্যাচ জিতে রেকর্ড গড়েছে কেরালা ব্লাস্টার্স। খুব ভাল করেই জানে যে, ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থন তাদের ক্ষেত্রে কাজ করবে দ্বাদশ ব্যক্তি হিসাবে। শুধু তা-ই নয়,কোচিতে আট ম্যাচ খেলে চার ম্যাচে একটিও গোল খায়নি কেরল। মাত্র চারটি গোল খেয়েছে এই মরশুমে, নিজেদের মাঠে। কিন্তু,ম্যানেজার স্টিভ কোপেল জানেন, আগের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই ম্যাচের কোনও কিছুই ধরে নেওয়া সম্ভব নয়।

    ‘মাঠের পরিবেশ আমাদের জন্য অবশ্যই স্বস্তিদায়ক। সমর্থকরা আমাদের জন্য গলা ফাটাতে সবসময় তৈরি। কিন্তু, সমস্যা হল,মাঠে সমর্থকরা খেলবে না। ওদের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, জিততে হলে মাঠে ভাল খেলতে হবে। যারা সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারবে তারাই জিতবে। দুটো দলই নিজেদের তাগিদে মাঠে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে। দর্শক সমর্থন খুবই ভাল প্রেক্ষাপট। কিন্তু, গোটা মাঠ আমাদের দিকে আছে বলে আমরা একগোলে এগিয়ে থাকব না, বা বিপক্ষের গোলও আটকাতে পারবে না দর্শকরা,’ বলেছেন কোপেল।

    আইএসএল-এ আগের রেকর্ড জানেন কোপেল। জেনে নিয়েছেন,গতবার নিজেদের মাঠে ফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েছিল এফসি গোয়া। কিন্তু হেরে গিয়েছিল চেন্নাইয়িন এফসি-র কাছে। এবারের ফাইনাল কেরলের কাছেও রেকর্ড সমান-সমান করার সুযোগ। প্রথম আইএসএল ফাইনালে তারা হেরেছিল এই আতলেতিকো দে কলকাতার কাছেই।

    ‘দেখুন, ম্যাচ শুরুর আগে নানা ব্যাপার থাকে। কিন্তু ম্যাচ শুরু হয়ে যাওয়ার পর বাইরে বা গ্যালারিতে কী হচ্ছে, আদৌ বিশেষ প্রভাব ফেলে না,’ মনে করছেন কোপেল।

    তবে, কোচির গ্যালারির এই পরিবেশও কলকাতার কাছে অচেনা নয়। তারা সেই দলগুলির অন্যতম যারা এই মাঠ থেকেও জিতে ফিরেছে, এবারের মরশুমেই। হাবি লারারা দ্বিতীয়ার্ধের গোলে জিতেছিল কলকাতা। এমন বড় স্টেডিয়ামে দর্শক সমর্থনের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা আছে কলকাতার মার্কি ফুটবলার এলদের পোস্তিগারও। জানেন, দর্শকরাও কীভাবে বিপক্ষ দলের খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে।

    ‘রবিবার পরিবেশ অন্যরকম থাকবে। আইএসএল-এ দর্শক সমর্থনের দিক দিয়ে অবশ্যই সেরা কোচি এখন। যখন খেলেছিলাম, বুঝতে পেরেছিলাম, এই মাঠে কেরলের বিরুদ্ধে খেলা ঠিক কতটা কঠিন,’ বলেছেন পোস্তিগা।

    এবারের আইএসএল-এ আতলেতিকো দে কলকাতা নিশ্চিতভাবেই সবচেয়ে ধারাবাহিক দলগুলির অন্যতম। মাত্র দুটি ম্যাচই হেরেছে,এখনও পর্যন্ত ১৬ ম্যাচে। মুম্বইয়ের মাঠে মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বে কলকাতার স্পেনীয় কোচ হোসে মোলিনা প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম একাদশের ৯ জন ফুটবলারকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন, দলের সেরা ফুটবলারদের ফাইনালের জন্য তরতাজা রাখতে চেয়ে। তবুও কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে অসুবিধা হয়নি।

    ‘ঠিক জানি না আমরাই সবচেয়ে ধারাবাহিক কিনা। এটুকুই জানি যে, মরশুমে মাত্র দুটো ম্যাচ হেরেছি। অন্য সব দলের জন্য যথেষ্ট সম্ভ্রম আছে আমার, আমাদের মনে। কেরলও দুর্দান্তই খেলেছে গোটা মরশুম জুড়ে। তবে, আমরা চেষ্টা করবে ফাইনালটাও জিততে। ট্রফিটা চাই আমাদের,’ বলেছেন মোলিনা।

    এখনও পর্যন্ত কলকাতার বাইরে চারটি নকআউট ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতেই জিতেছে কলকাতা, আইএসএল-এর ইতিহাসে। আর সেই ম্যাচটি ছিল প্রথম আইএসএল-এর ফাইনাল, ২০১৪ সালে, যা খেলা হয়েছিল মুম্বইতে, এই কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধেই। এবারও সেই ফলের পুনরাবৃত্তি চাইবে কলকাতা, দর্শক-সমর্থনপুষ্ট কেরলের ঘরের মাঠে, রবিবার।

    No comments