• Breaking News

    নিজেকে কোচ হিসাবে এখনই দেখছেন না বাইচুং

    মুম্বই আর দিল্লিকেই ফেভারিট ধরছেন আইএসএল-এ


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    [caption id="attachment_2724" align="alignleft" width="169"]মেয়ের সঙ্গে খোশমেজাজে বাইচুং। ছবি - রাইট স্পোর্টস মেয়ের সঙ্গে খোশমেজাজে বাইচুং। ছবি - রাইট স্পোর্টস[/caption]

    ‘বছর দুই ছিলাম আতলেতিকো দে কলকাতার সঙ্গে। এবার আর আমি নেই। দেখুন, কলকাতা আর তত ভাল খেলছে না!’

    কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক তাঁবুতে সাংবাদিক সম্মেলন শুরুই করলেন রসিকতায়। কিন্তু ফিরে এল সিরিয়াস সত্তা, সঙ্গে সঙ্গেই।

    ‘কলকাতার সবচেয়ে বড় শক্তি হল বিদেশিরা। গতবারের ছ’জনকে রেখে দিয়েছে। খুবই ভাল সিদ্ধান্ত। এতে একটা পরম্পরা তৈরি হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত কাজে লাগছে কলকাতার,’ মনে করছেন বাইচুং ভুটিয়া।

    কিন্তু, কলকাতাকে এবার আর ফেভারিট ধরছেন না ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক। ‘এবার মুম্বই আর দিল্লি খুবই ভাল খেলেছে। হয়ত ওদেরই পাল্লা ভারী। তবে, সমস্যা হল, আইএসএল-এ সব দলগুলোই এত কাছাকাছি যে, কোন্ দিন কারা একটু বেশি ভাল খেলে জিতে যাবে, বলা মুশকিল।’

    অর্থাৎ, সাদা বাংলায়, বাইচুং ফেভারিট বেছে নিলেন না কলকাতাকে!

    তাঁর পর ভারতীয় ফুটবলকে যিনি টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, সুনীল ছেত্রী সম্পর্কে প্রশংসায় অবশ্য পঞ্চমুখ। ‘গতবার আইএসএল-এ অনেক গোল করেছিল। ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশিই বোধহয়। এবার এখনও গোল পায়নি। দেরিতে খেলতে শুরু করেছে। দেখুন, হয়ত শনিবার সেমিফাইনালের প্রথম পর্ব থেকেই গোল পেতে শুরু করবে,’ বললেন বাইচুং।

    মাঝে রাজনীতিতে একটু বেশি ব্যস্ততা। নির্বাচনে দাঁড়িয়ে পরাজয়। ফুটবল অবশ্যই ছাড়েননি। সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার সঙ্গে জড়িত আষ্টেপৃষ্ঠে। আইএসএল নিয়ে এই যে এত কথা, ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি ঘটবে এই আড়াই মাসের লিগে?

    বাইচুং মনে করছেন, কিছু ইতিবাচক দিক অবশ্যই আছে আইএসএল-এর। ‘যেমন, মাঠে লোক হচ্ছে। মানুষ আসছেন মাঠে নিয়মিত। টিভিতে দেখানো হচ্ছে। বিদেশি ফুটবলাররা আসছেন, তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছেন ভারতীয় ফুটবলাররাও। ফুটবল থামছে না, এগিয়ে চলেছে। রাতারাতি দেশের ফুটবল পরিকাঠামো এবং সবার মানসিকতা পাল্টানো সম্ভব নয়। কিন্তু একটা আলোড়ম তো সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সংবাদপত্রগুলোর কভারেজ দেখুন, আইএসএল-এর জন্য বিরাট অংশ বরাদ্দ থাকছে। এগুলোও তো অস্বীকার করা যায় না, তাই না?’

    এমনকি, গোয়ার সেরা তিন ক্লাব যে আই লিগ থেকে নাম তুলে নিয়েছে, তাতেও এই সমর্থকদেরই অদৃশ্য হাত দেখতে পাচ্ছেন বাইচুং।

    ‘ডেম্পো, সালগাঁওকার, স্পোর্টিং নাম তুলে নেওয়ায় দুঃখ পেয়েছি। ভারতীয় ফুটবলে তিন ক্লাবেরই প্রচুর অবদান। আমরা যখন থেকে খেলতে শুরু করেছিলাম, তিনটি ক্লাবই, বিশেষত ডেম্পো, খুবই ভাল দল ছিল। পুরনো ক্লাব, ভারতীয় ফুটবলকে কত কিছু দিয়েছে। কিন্তু, আই লিগে গোয়ায় যখন এই তিনটি ক্লাবই খেলত, তাঁদের সমর্থকরা কোথায় থাকতেন? গ্যালারি কেন ফাঁকা থাকত? আইএসএল-এ এফসি গোয়া যখন খেলছে, গ্যালারি যদি ভর্তি থাকে, কেন ডেম্পো-সালগাঁওকার-স্পোর্টিংয়ের খেলার সময় সেই সমর্থকরা বাড়িতে বসে থাকতে পছন্দ করতেন? তাঁরা যদি সেই সময়ে মাঠে আসতেন নিজের প্রিয় দলের সমর্থনে গলা ফাটাতে, আজ কি এমন দিন দেখতে হত গোয়ার ক্লাবগুলোকে,’ প্রশ্নটা সরাসরিই তুলে দিয়ে গেলেন বাইচুং।

    আর শুধু প্রশ্ন তোলাই নয়, গোয়ার এই তিন ক্লাবের আই লিগ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ব্যথিত হলেও বাইচুংয়ের মনে হচ্ছে, এরই ইতিবাচক দিক রয়েছে।

    ‘পাঞ্জাবের দল আসছে, হায়দরাবাদ থেকেও। ওই রাজ্যগুলিতে তো লিগই হয় না এখন। তবু দল আসছে। মণিপুরে কোনও লিগ নেই, সেখান থেকেও। নর্থইস্ট থেকে কত ফুটবলার, বলুন তো? আইএসএল-এ প্রতিটি দলে নর্থইস্টের ফুটবলার। প্রথম দলে পাঁচজন ভারতীয় ফুটবলার খেলানো বাধ্যতামূলক। সেখানে প্রতি দলেই অন্তত দুই থেকে তিনজন নর্থইস্টের। ওই অঞ্চল থেকে একটা দল আই লিগে খুবই জরুরি। খেলাটা তো আর থেমে থাকতে পারে না। ফুটবল এগোবেই, নতুন নতুন দিক খুঁজে নেবে ঠিক। নতুন ফুটবলাররা আসবে, দর্শকরা আসবেন মাঠে, এভাবেই এগোয় ফুটবল।’

    অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ আর এক বছরও বাকি নেই। বাইচুং নিজেও তাকিয়ে আছেন অধীর আগ্রহ নিয়ে। ‘এত বড় প্রতিযোগিতা হবে আমাদের দেশে, এক সময় তো ভাবাই যেত না।’ কিন্তু, ভারতের অনূর্ধ্ব ১৭ দল কি বিশ্বকাপের জন্য তৈরি? বাইচুংয়ের জবাব, ‘যতটা আশা করা গিয়েছিল, ততটা তৈরি হয়ত নয়। কিন্তু এটাও সত্যি যে, দলটা ঠিকঠাক গড়ে তোলাও হয়নি যেমন, বিদেশে খেলতেও নিয়ে যাওয়া হয়নি সেভাবে, এমন প্রতিযোগিতার আগে যা জরুরি। কোনও রাজ্যই তাদের সেরা ফুটবলারদের তুলে ধরেনি আলাদা করে। তাই তো নতুন করে দল বেছে নেওয়ার আগে এআইএফএফ প্রতিটি রাজ্যে শিবির করছে। প্রধান কোচ আসছেন, দেখে বেছে নিচ্ছেন ফুটবলারদের। হাতে খানিকটা সময় এখনও আছে। দল তৈরি করে নেবেন কোচ, আস্থা রয়েছে। কিন্তু এই প্রতিযোগিতাটা যে কত বড়, বুঝে নিতে হবে আমাদেরও। মেসি-রুনিরা ওই বয়স থেকেই তো নিজেদের তুলে ধরেছিল।’

    এআইএফএফ-এর টেকনিক্যাল কমিটিতে আছেন, রাজ্যে রাজ্যে বাইচুং ভুটিয়া ফুটবল স্কুল চালাচ্ছেন যেখান থেকে ভবিষ্যতের ফুটবলারদের তুলে আনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু, কোচ হিসাবে বাইচুংকে কি দেখতে পাওয়া যাবে?

    ফুটবলের সঙ্গে আপাদমস্তক জড়িয়ে থাকলেও এই একটি বিষয়ে বাইচুং কিন্তু পরিষ্কার জানালেন যে, এই মুহূর্তে কোনওভাবেই নয়!

    ‘কোচিং ২৪ ঘন্টার কাজ। আমি সি, বি এবং এ লাইসেন্স করে নেব, ঠিক। কিন্তু সরাসরি কোচিংয়ে কখনও আসব কিনা, বলা মুশকিল। ভেবে দেখেছি অনেক। সব খেলা দেখতে হবে, কৌশল ভেবে ঠিক করতে হবে, সবার দিকে আলাদা আলাদা করে নজর রাখতে হবে যেমন, দলটাকেও চালাতে হবে। আর তারও ওপরে, এত কিছু করার পরও আপনি জানবেন না যে আপনার চাকরি তিন ম্যাচ থাকবে না তিন বছর! এই মুহূর্তে নানা কাজে এতটাই ব্যস্ত যে, সরাসরি কোচিংয়ে আসার কথা মাথাতেই নেই। আমি যা পারব না, বুঝতে পারি। তাই যাচ্ছি না কোচিংয়ে।’

    কিন্তু তাই বলে ভারতীয় ফুটবল নিয়ে ভাবনা বন্ধ নেই। আইএসএল-এ এখন নিয়ম, প্রথম এগারোয় ৬ জন বিদেশি খেলেন, সঙ্গে ৫জন ভারতীয় ফুটবলার। বাইচুং জানালেন, তিনিই গত বছর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, এটা উল্টে দেওয়া জরুরি। ‘৬জন ভারতীয় খেলুক প্রথম এগারোয়। সঙ্গে থাকুন ৫ বিদেশি। তাতে আরও বেশি ভারতীয় ফুটবলার খেলার সুযোগ পাবে সর্বোচ্চ আসরে। যত বেশি ভারতীয় ফুটবলার খেলবে তত লাভ। ফুটবলাররাও দুটো পয়সার মুখ দেখবে। তাতে আরও বেশি করে উঠে আসবে ফুটবলারও। আড়াই মাসের লিগে তো এটা অবশ্যই করা উচিত। পরে সাত মাসের লিগ হলে তখন সব দলেই এত বেশি ভারতীয় ফুটবলার, সমস্যাটা এতটা থাকবে না। এ নিয়ে ভারতীয় ফুটবলারদের সংস্থার সভাপতি রেনেডির সঙ্গেও মাঝেমাঝেই কথা হয়। সাত মাসের লিগটা হতেই হবে, জরুরি। কীভাবে কী কী হবে, সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার ব্যাপার, ওঁরা ঠিক করবেন। কিন্তু তা না হলে ফুটবলারদের সারা বছরের জন্য চাকরি দেবে কে,’ আবারও নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেলেন বাইচুং।

    No comments