• Breaking News

    এল ক্লাসিকোয় রেয়ালের পরিত্রাতা সেই রামোস!

    বার্সেলোনা ১ রেয়াল মাদ্রিদ ১


    (সুয়ারেজ ৫৩)  (রামোস ৯০)


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য



    [caption id="attachment_2702" align="alignleft" width="300"]রামোসের সেই হেড, বল যাচ্ছে গোলে। ছবি - টুইটার রামোসের সেই হেড, বল যাচ্ছে গোলে। ছবি - টুইটার[/caption]

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল হোক বা এল ক্লাসিকো, সের্গিও রামোসই সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবলার রেয়াল মাদ্রিদের!

    আতলেতিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ০-১ পিছিয়ে ছিল রেয়াল। ইনজুরি টাইম শুরু হওয়ার পরও। ৯৩ মিনিটে রামোসের হেড এনে দিয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে খেলার সুযোগ। আর এক মিনিট গোল না খেলেই দিয়েগো সিমিওনের আতলেতিকো পেয়ে যেত প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। কিন্তু রামোসের গোলের পর অতিরিক্ত সময়ে আর পারেনি। রেয়ালের বাকি তারকারা জ্বলে ওঠেন তারপর।

    ২০১১-১২ মরসুমের পর ২০১৬-১৭য় আবার লা লিগা জেতার দিকে এগোতে থাকা রেয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশাও বাঁচিয়ে রাখলেন সেই রামোসই। এবার চিরশত্রুর ডেরায়, কাম্প নু-তে। বার্সেলোনা এগিয়েছিল লুই সু্য়ারেজের একমাত্র গোলে। ৯০ মিনিটে সেই রামোস আবারও খুঁজে নিলেন বার্সেলোনা রক্ষণের ফাঁক। লুকা মোদরিচের ফ্রি কিকে ঠিক সময়ে মাথা ছোঁয়ালেন। বার্সেলোনার জার্মান গোলরক্ষক টের স্টেজেন বুঝে প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই জালে বল।

    কোচ জিনেদিন জিদানের প্রশিক্ষণে শুধু লা লিগায় রেয়ালের শততম গোল এর চেয়ে ভাল সময়ে আসতে পারত না! ৩৪ ম্যাচ খেলে ষষ্ঠ ড্র জিদানের দলের। জিতেছেন ২৭, হেরেছেন মাত্র একটি ম্যাচে। পেপ গারদিওলা বা লুইস এনরিকেরও লা লিগায় কোচ হিসাবে প্রথম ৩৪ ম্যাচে এত ভাল রেকর্ড নেই এখন!

    টানা ৩৩ ম্যাচে অপরাজিত রেয়াল ● জিদান-জমানায় লা লিগায় শততম গোল ৩৪ ম্যাচে ● বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট এগিয়েই থাকল রেয়াল ● কাম্প নু-তে প্রথম ২ ম্যাচে অপরাজিত জিদান ● ‘শেষ পেরেক এনরিকের কফিনে’ টুইট জাভির


    রামোসের এই গোল রেয়ালকে রেখে দিল শীর্ষেই, ১৪ ম্যাচ পর ৩৪ পয়েন্টে। বার্সেলোনা সমসংখ্যাক ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে থাকল দ্বিতীয় স্থানে। তবে, সে জন্য লিওনেল মেসির দল ধন্যবাদ জানাতেই পারে সেভিয়াকে। গ্রানাদার কাছে যারা ১-২ হেরে সুযোগ করে দিয়েছিল বার্সেলোনাকে, দ্বিতীয় স্থানেই থেকে যাওয়ার।

    রেয়ালের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমানোর চেষ্টায় নেইমারের ফ্রি কিকে সুয়ারজের হেড ৫৩ মিনিটে। ঘরের মাঠে ৯৮ হাজার ৪৮৫ দর্শকের তখন বিস্ফোরণ। পরে দেখা গেল, ম্যাচের দুটি গোল প্রায় একই রকম, সেট পিস থেকে তো বটেই!

    কোচ এনরিকে তার ৬ মিনিট পর ইভান রাকিতিচের জায়গায় আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে নামিয়ে ছিলেন, ব্যবধান বাড়াতে। চোট সারিয়ে মাঠে ফিরে ইনিয়েস্তা একেবারেই পুরনো ছন্দে। তাঁর পাস থেকে ৬৮ মিনিটে নেইমার বক্সের মধ্যে বল পেয়ে কার্ভাহালকে দুর্দান্ত ইনসাইড ডজে উল্টোদিকে যেতে বাধ্য করে, ভেতরে ঢুকে, সামনে একা রেয়াল-গোলরক্ষক নাভাসকে পেয়েও বল উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কী করে, নিজেও সম্ভবত বোঝেননি! এমন সুযোগ হাতছাড়া করলে এল ক্লাসিকোয় পয়েন্ট নষ্ট হওয়াই স্বাভাবিক।

    ৮২ মিনিটে আবারও ইনিয়েস্তা সাজিয়ে দিয়েছিলেন মেসিকে, তিন ডিফেন্ডারের পায়ের নাগাল এড়িয়ে। মেসির বাঁপায়ের শটও বাইরে। ৭১ মিনিটে মেসির পাস থেকে নেইমারের শট ভারানের পায়ে, আর ইনিয়েস্তা নিজেও একবার ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি। এল ক্লাসিকোয় এভাবে প্রাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে না পারলে ভুগতে হয়। বার্সেলোনাও ভুগল।

    গোলশোধ হওয়ার ঠিক আগের মিনিটে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সামনে সুযোগ এসেছিল নায়ক হওয়ার। সামনে ফাঁকা গোল ছিল, মার্সেলোর ক্রসও ছিল তাঁর সামনে। ঠিক সময়ে হেড দিয়ে কাছের পোস্টে বল জালে পাঠানোর সুযোগ ছিল রোনালদোর কাছে। সময়ের একটু গণ্ডগোল, রোনালদোর হেড মাটিতে, আলবার পায়ে লেগে কর্নার। স্পেনীয় মিডিয়ায় আজই প্রকাশিত ১৫০ মিলিয়ন ইউরো কর ফাঁকির অভিযোগ, রোনালদোর বিরুদ্ধে। নিশ্চয়ই কারণ সেটা নয়, কিন্তু রোনালদো নিজের মেজাজে ছিলেন না, নিশ্চিত।

    প্রথমার্ধে দাপট ছিল রেয়ালের যদিও তেমন গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পাওয়া এবং ইনিয়েস্তা মাঠে আসার পর বার্সেলোনাকে পরের মিনিট কুড়ি মনে হয়েছিল, পুরনো দিনের মতো। মাঝমাঠ দাপট দেখাচ্ছে, সুযোগ তৈরি হচ্ছে, খেলার রাশ নিজের পায়ে রেখেছিলেন ইনিয়েস্তা। কিন্তু বার্সেলোনার রক্ষণ এনরিকের কাজটা এবারও কঠিনই করে রাখল, ১৪ ম্যাচে ১৫ গোল খেয়ে!

    ৩৩৪ দিন হয়েছে সবে, রেয়ালের দায়িত্ব নিয়েছেন জিদান। এখনই তিনি ইউরোপ-সেরা, ইউরোপের সুপার কাপ জয়ী কোচ। যেভাবে এগোচ্ছেন, লা লিগা চ্যাম্পিয়নও হতেই পারেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৩ ম্যাচে অপরাজিত থাকল রেয়াল, জিদান-জমানায়। এবার ইউরোপের পাঁচ দেশের নামকরা লিগে এখনও পর্যন্ত একমাত্র দল হিসাবে অপরাজিত রেয়াল।

    গতবার ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবেউ-তে ০-৪ হারার পর চাকরি গিয়েছিল রাফা বেনিতেজের। এসেছিলেন জিদান এবং কাম্প নু-তে জিতেছিলেন ফিরতি ক্লাসিকো। যদিও সেই জয় খেতাবের প্রশ্নে প্রভাব ফেলেনি। এবার ড্র। এখনও ২৪টি করে ম্যাচ বাকি, অনেক কিছুই সম্ভব। কিন্তু যা নিশ্চিত, চিরশত্রুর মাঠে তাঁর প্রথম দুটি এল ক্লাসিকো-য় আপাতত অপরাজিতই থেকে গেলেন জিনেদিন জিদান!

    লুইস এনরিকের দিন কি শেষ হয়ে এল বার্সেলোনায়? জাভি এরনানদেজ টুইট করলেন ম্যাচ শেষে, ‘শেষ পেরেক এনরিকের কফিনে। একই ভুল বারবার করছে, ঠিক পথে এগোতেই পারছে না। ফুটবলারদেরও নেতিবাচক ও নিরুৎসাহিত মনে হচ্ছে।’ ভুল বলার লোক সচরাচর তো আর নন ‘এল মায়েস্ত্রো’!

    No comments