• Breaking News

    গোল পাচ্ছি কিন্তু সেরা ছন্দে পৌঁছইনি এখনও: বিনীত

    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2718" align="alignleft" width="300"]গোল করছেন বিনীত। ছবি - আইএসএল গোল করছেন বিনীত। ছবি - আইএসএল[/caption]

    ৬ ম্যাচে ৫ গোল। কেরালা ব্লাস্টার্সকে তৃতীয় হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের তালিকায় শেষ দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে তুলে এনেছিলেন, শীর্ষে-থাকা মুম্বইয়ের ঠিক পেছনে। ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোল করলেও, সিকে বিনীত মনে করছেন, এখনও নিজের সেরা ছন্দে পৌছননি।  কেন, জানালেন এই সাক্ষাৎকারে। সঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন, কেন খেতাব জেতাটা জরুরী কেরালা ব্লাস্টার্সের কাছে।

    প্রশ্ন: স্বপ্নের দৌড় প্রায়, আপনার এবারের আইএসএল-এ। ৬ ম্যাচে ৫ গোল,তিনটি গোলের পাস। এমন হতে পারে, ভেবেছিলেন?
    বিনীত: সত্যিই ভাবিনি। এসেছিলাম দলকে সেমিফাইনালে উঠতে সাহায্য করব,ভেবে। কিন্তু এমন কিছু করতে পারব, ভাবিনি। এখন আমার আর দলের সবার ভাবনা একটাই - ফাইনালের যোগ্যতা অর্জন ও পারলে ট্রফিজয়।

    প্রশ্ন: বেঙ্গালুরু এফসি-র হয়ে এএফসি কাপের ফাইনাল খেলে এসে অষ্টম ম্যাচের পর কেরলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। দলের বাকি সবার সঙ্গে বোঝাপড়া ঠিকঠাক করাটা কতটা কঠিন ছিল?
    বিনীত: জানতাম, ব্যাপারটা বেশ কঠিন হবে। কিন্তু সতীর্থরা এতটাই সাহায্য করল যে, আমার কাজটা সোজা হয়ে গিয়েছিল। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের গোলটা, যা শেষে জয়সূচক গোল হয়ে দাঁড়ায়, আমার আত্মবিশ্বাস একলাফে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছিল। প্রথম ম্যাচ ছিল এই মরশুমে। পরের ম্যাচগুলোতে আরও ভাল খেলতে সাহায্য করেছিল। আর ওই গোলটার পর থেকেই আত্মবিশ্বাস ক্রমশ বেড়েছিল।

    প্রশ্ন: এত ভাল ছন্দে আছেন, জীবনের সেরা ফর্মে খেলছেন কি?
    বিনীত: ঠিক এই মুহূর্তে আমি কিন্তু সেরা ফুটবল খেলছি না। গোলগুলো পাচ্ছি শুধু। কিন্তু, সেরা ফুটবল খেলছি না। এখন এটুকুই বলতে পারি।

    প্রশ্ন: জাতীয় দলে ডাক পেতে কি গোলগুলো যথেষ্ট মনে হচ্ছে?
    বিনীত: ঠিক বলতে পারব না। এখন এগুলো নিয়ে ভাবার সময় নেই। মনোযোগ শুধু পরের ম্যাচে। জানি যে, যদি ভাল খেলে যেতে পারি, ডাক পাব একদিন। প্রমাণ করতে হবে যে, জাতীয় দলে খেলার যোগ্য। পরেরটা নিয়ে না ভাবলেও চলবে।

    প্রশ্ন: কোচিতে এবার ফাইনাল বলে কি কেরালা ব্লাস্টার্সের ওপর ফাইনালে উঠতেই হবে বলে আলাদা চাপ তৈরি হয়েছে? 
    বিনীত: আমাদের ভক্তদের জন্যই আইএসএল-টা আমাদের জেতা দরকার। কোনও সন্দেহ নেই যে আমাদের ভক্তরাই সবার সেরা। এই ট্রফিটা ওদের প্রাপ্য। কিন্তু, কোনও আলাদা চাপ নেই। স্বাভাবিক খেলাই খেলব। সমর্থকরা মাঠে আসবেন, খেলা উপভোগ করতে। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত উপবোগ করেন তাঁরা। এখন এই যে আমরা সেমিফাইনালে উঠেছি, এটাও ওরা নিজেদের মতো করেই উপভোগ করছেন।

    প্রশ্ন: ভক্তদের এই যে সমর্থন তা ঘরের মাঠে কেরলের খেলায় কতটা প্রভাব ফেলে? 
    বিনীত: ঠিক বলে বোঝাতে পারব না, এই অবিশ্বাস্য দর্শক সমর্থনের সামনে খেলতে যে কী ভাল লাগে! সত্যিই অবিশ্বাস্য! মাঠে তো অন্য ফুটবলাররা কী বলছে তা-ও শুনতে পাই না। শোনা যায় না এমনকি রেফারির বাঁশিও। গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে এত শব্দ, চিৎকার – এমন পরিবেশ সত্যিই অভাবনীয়।

    প্রশ্ন: লিগের শেষ ম্যাচের আগে দর্শকদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন। এই আবেগটাই কি আপনাকে কেরলের হয়ে খেলার সময় ওই বাড়তিটুকু দতে সাহায্য করে? 
    বিনীত: সবসময়। ওঁরা আমার ঘরের মানুষ। আইএসএল-এর সেরা দর্শক। আর এটা একা আমি বলছি না, সবাই-ই বলছেন। সবসময় চেয়েছি ঘরের মানুষের সামনে এভাবে খেলতে। ভালবাসি ওঁদের সামনে খেলতে, সেরা ছন্দে। খেলতে খেলতে যদি কখনও মনে হয় যে সেরাটা দিতে পারছি না, ওঁদের কথা ভেবে আরও ভাল খেলার জন্য উদ্বুদ্ধ হই।

    প্রশ্ন: কোচ হিসাবে স্টিভ কোপেল কেমন? বাইরে থেকে তো মনে হচ্ছে আপনাকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে মাঠে, নিজের ইচ্ছমতো খেলার?

    বিনীত: যতজন কোচের সঙ্গে কাজ করেছি, বোধহয় সবচেয়ে শান্ত কোচ। শান্ত মানে বোঝাতে চাইছি যে, সহজে রাগেন না বা রেগে গিয়ে কিছু বলেন না। সবসময়্ বলেন, মাঠে গিয়ে নিজেকে উপভোগ করতে, খেলার আনন্দ নিতে।  আনন্দে থাকতে বলেন, কোনও ভুল করলেও সেটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভুলে যেতে বলেন। বিরতিতে যখনআমরা সাজঘরে ফিরে আসি তখনও মেজাজ হারান না কখনও। বলেন, পরের ৪৫ মিনিটের দিকে তাকিয়ে সেরাটা দিতে।  বারবার মনে করিয়ে দেন, ভক্তরা আমাদের খেলা দেখছেন, তাই ওদের জন্যও আমাদের সেরা খেলাটাই তুলে ধরা উচিত। যতদিন কেরালা ব্লাস্টার্স-এ আছি, কখনও রাগতে দেখিনি ওঁকে। সত্যিই জানি না, সবসময়ই এমন থাকেন কিনা!

    No comments