• Breaking News

    ফোরলানের লাল কার্ড, ফাইনালের দিকে এক পা কলকাতার

    আতলেতিকো দে কলকাতা ৩  মুম্বই সিটি এফসি ২


    (ডিকা ৩, হিউম ৩৯, ৪৫-পেনাল্টি) (লিও কোস্তা ১০, জেরসন ১৯)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2735" align="alignleft" width="300"]পেনাল্টি থেকে গোল হিউমের। ছবি - আইএসএল পেনাল্টি থেকে গোল হিউমের। ছবি - আইএসএল[/caption]

    ঘরের মাঠ থেকে কোচির ফাইনালের দিকে এক পা বাড়িয়ে রাখল আতলেতিকো দে কলকাতা। গ্রুপ লিগে এই মুম্বই সিটি এফসি-র কাছেই হারতে হয়েছিল, দিয়েগো ফোরলানের একমাত্র গোলে। সেমিফাইনালের প্রথম ৯০ মিনিট শেষে এগিয়ে তো থাকলই, ফোরলানও খেলতে পারবেন না ফিরতি সেমিফাইনালে, নিজেদের মাঠ মুম্বই ফুটবল এরিনায়। একটু হলেও মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা নিয়েই মুম্বই যাবে কলকাতা, নিশ্চিত। মুম্বইকে জিততেই হবে, ড্র হলেও চলবে কলকাতার।

    হতাশা থেকেই কি লাল কার্ড দেখলেন ফোরলান? মার্কি ফুটবলার হিসাবে ফোরলান এবং তাঁর মানসিকতা নিয়ে নেতিবাচক কিছু শোনাই যায়নি গোটা প্রতিযোগিতা জুড়ে। প্রতিটি ম্যাচ খেলতে চেয়েছেন, সর্বস্ব দিয়েই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেমিফাইনালের প্রথম পর্বে মেজাজ হারালেন অযথা। দুবারই বল-ছাড়া ফাউল করেছিলেন, যথাক্রমে সেরেনো (৫১ মিনিট) ও জুয়েল রাজাকে (৭৪ মিনিট)। সবচেয়ে বড়, একবার হলুদ কার্ড দেখে থাকা সত্ত্বেও জুয়েলকে ওভাবে মাথা গরম করে ফাউল করা ফোরলানের মতো আন্তর্জাতিক স্তরে অভিজ্ঞ ফুটবলারের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত। ওই একটি লাথিই তাঁকে বাইরে রাখবে ফিরতি সেমিফাইনালে। যদি সতীর্থরা ফাইনালে তুলতে পারেন, ফেরার সম্ভাবনা থাকছে একমাত্র তখনই ফোরলানের।

    সাড়ে বারো হাজারের গ্যালারি ভাল করে বসার আগেই কলকাতার প্রথম গোল, তিন মিনিটে। বোরহা ক্রস রাখতে চেয়েছিলেন বক্সে। ডিকা হেডে ফ্লিক করে দেন, পেছনে। বল উঁচু হয়ে অমরিন্দারের বাঁদিকের পোস্টে। এগিয়ে ছিলেন অমরিন্দার। যতক্ষণে বুঝতে পারেন যে বলটা গোলে ঢুকছে, কিছু আর করার ছিল না।

    মুম্বই অবশ্য সময় নেয়নি গোল শোধ করতে। ফোরলানের ফ্রি কিক থেকে সুনীল ছেত্রী সবার ওপরে লাফিয়ে হেডে বল সাজিয়ে দিয়েছিলেন লিও কোস্তাকে, যাঁর ডান পায়ের শট দূরের পোস্টে জালে জড়া্য, স্পেনীয় গোলরক্ষক দানিয়েল কাস্ত্রোকে পরাস্ত করে। ৯ মিনিট পরই এগিয়েও যায় মুম্বই, সেই ফোরলানের ফ্রি কিক থেকেই, আবার। এবার সরাসরি হেড জেরসন ভিয়েইরার। দুটি গোলের ক্ষেত্রেই আতলেতিকো দে কলকাতার রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন ছিল। দ্বিতীয় পর্বের সেমিফাইনালে কি এই দুর্বলতাগুলো ঢেকে ফেলতে পারবে কলকাতা?

    কলকাতা সমতা ফেরায় ৩৯ মিনিটে ইয়াইন হিউমের প্রতিযোগিতায় ষষ্ঠ গোলে। প্রবীর থেকে ডিকা হয়ে দুটি এবং দুতির পাস থেকে হিউমের জোরালো শটে গোল। ঘরের মাঠে কলকাতাকে এগিয়েও দেন হিউম, প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে। বক্সের মধ্যে পোস্তিগাকে ফাউল করেন সেনা রালতে। পোস্তিগাকে বল বাড়িয়েছিলেন সেই দুতিই। রেফারি কাছেই ছিলেন, বিন্দুমাত্র সময় নেননি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানাতে। কিন্তু, একটি হলুদ কার্ড দেখে-থাকা সেনা রালতেকে এই ফাউলের পরও কেন দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হল না, আতলেতিকো দে কলকাতার ফুটবলাররা। বিশেষত দুতি, সরব হয়েছিলেন। রেফারি অবশ্য নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। হিউম পেনালটি থেকে গোল করতে ভুল করেননি। ৪৫ মিনিটে ম্যাচের পঞ্চম ও কলকাতার তৃতীয় গোলের পরই বিরতির বাঁশি।

    [caption id="attachment_2736" align="alignleft" width="300"]লাল কার্ড দেখে বেরিয়ে আসছেন ফোরলান। ছবি - আইএসএল লাল কার্ড দেখে বেরিয়ে আসছেন ফোরলান। ছবি - আইএসএল[/caption]

    দক্ষিণ আফ্রিকার সমীঘ দুতি প্রথম থেকে মাঠে থাকলে কলকাতা সুবিধা পায়, প্রমাণিত হয়েছে বারবার সেমিফাইনালের প্রথম পর্বে। আবার দুতিই গোলের সুযোগ তৈরি করে ফেলেছিলেন ৭৮ মিনিটে। তিনজনকে কাটিয়ে তাঁর শট, অমরিন্দার বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন। সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন পোস্তিগা, গোলে ঠেলে দেন। কিন্তু সহকারী রেফারি অনেক আগেই অফসাইডের পতাকা তুলে রেখেছিলেন। তারপরই পোস্তিগার জায়গায় মাঠে এসেছিলেন হাভি লারা।

    হিউম সুযোগ পেয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে বার দুই তিনি যে সুযোগগুলো পেয়েছিলেন, কাজে লাগাতে পারলে, প্রথম সেমিফাইনালেই ফাইনালের রাস্তা নিশ্চিত করে ফেলতে পারতেন। শুধু তাই-ই নয়, খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে, ইনজুরি টাইং ধরে যখন ৯৪ মিনিট, একা পেয়ে গিয়েছিলেন অমরিন্দারকে। কিন্তু, তাঁর ডানপায়ের শট দূরের পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে যায়। মুম্বইতে যদি ফাইনালে যেতে ব্যর্থ হয় কলকাতা আবার, গোলগুলোর পাশাপাশি হিউমের এই মিসটাও কিন্তু থেকেই যাবে আলোচনায়!

    No comments