• Breaking News

    ইয়র্ক : সময় দিতেই হবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    20161211_162848

    যতটা খারাপ মনে করা হচ্ছে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অবস্থা তত খারাপ নয়, জানিয়ে গেলেন ডোয়াইট ইয়র্ক।

    ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে বসে সাংবাদিক সম্মেলনে ইয়র্কের বক্তব্য পরিষ্কার। ‘অ্যালেক্স ফার্গুসন চলে যাওয়ার পর দলকে মানিয়ে গুছিয়ে নেওয়ার সময় দিতেই হবে। প্রচুর নতুন ফুটবলার, সবচেয়ে দামী ফুটবলারও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেরই। নতুন কোচ এসেছেন। আগে লুই ফন গাল ছিলেন, ভালই কাজ করেছেন। এবার হোসে মোরিনিও আছেন। যথেষ্ট অভিজ্ঞ কোচ, জানেন কী করে ফুটবলারদের সেরাটা বের করে আনতে হয়। একটু সময় দিন।’

    ইয়র্ক মানতে রাজি নন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খারাপ সময় চলছে। ‘এফএ কাপ জিতেছি আমরা। এবার এখনও লিগের অর্ধেকও হয়নি। তাই, এই মুহূর্তে দল কোন জায়গায় আছে, আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইউরোপা লিগেও নকআউটের যোগ্যতার্জন করেছে। এখনই গেল-গেল করার কিছু হয়নি। মরসুম অনেকটাই বাকি। সময় দিতেই হবে, দল গড়ে উঠতে সময়ই জরুরি,’ বলছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ১৯৯৯ সালে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ইয়র্ক। সদস্য বললে কম বলা হবে, ফাইনালেো পুরো সময় মাঠে ছিলেন। আর প্রতিযোগিতায় মোট ৮ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার সম্মানও পেয়েছিলেন ব্রায়ান লারার দেশের ইয়র্ক।

    ‘আইলাভইউনাইটেড’ ইভেন্ট চলছে কলকাতায়। সেই অনুষ্ঠানের কর্মসূচিতে রবিবার ইস্টবেঙ্গল মাঠে ‘তিনজনের ফুটবল’ হল, ভক্তদের ফুটবল চলল আর তিন তারকার সাংবাদিক সম্মেলন। রাতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম টটেনহ্যাম হটস্পার খেলা সরাসরি দেখানোও হবে ইস্টবেঙ্গেল মাঠে, বড় স্ক্রিনে। থাকবেন ইয়র্কের সঙ্গেই কুইন্টন ফরচুন ও বোইয়ান দিওরদিচ। বোইয়ান আবার প্রথমবার হিরো আইএসএল-এ চেন্নাইয়িন এফসি-র হয়ে খেলে গিয়েছিলেন ভারতে।

    ‘ভারত দেশটা ক্রিকেটের। যখন চেন্নাইতে খেলতে এসেছিলাম, শহরজুড়ে একটাই দল ছিল, চেন্নাই সুপার কিংস। চেন্নাইয়িন এফসি-র তেমন সমর্থন ছিল না। ভারতে ফুটবলের উন্নতি করতে হলে প্রথমে ছোটদের হাতে ব্যাট-বল তুলে দেওয়ার আগে পায়ে ফুটবল দিন। যদি তা হলে কিছু হয়,’ সোজাসাপটা কথা সার্বিয়ার

    বোইয়ানের। ভারতে ইংল্যান্ডের এই ক্লাবের সাড়ে তিন কোটি সমর্থক আছেন। তাঁদের জন্যই আগমন এই তিন প্রাক্তন ফুটবলারের।

    ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি হিসাবে বোইয়ানকে তুলে ধরা হলেও  ইউনাইটেডের হয়ে মাত্র একটিই ম্যাচ খেলেছিলেন বোইয়ান, বলছে উইকিপিডিয়া। তবে, ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির স্বার্থে বোইয়ানের পরামর্শগুলো কাজের। ‘যখন এখানে খেলতে এসেছিলাম, দেখেছিলাম, ভারতীয়রা ভাল খেলে, ভাল দৌড়য়, গোলও করে, কিন্তু আধুনিক ফুটবলে অর্গানাইজেশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর ভারতীয়রা পিছিয়ে আছে সেখানে। খাবড়া আর জেজে-র কথা মনে আছে, খুবই ভাল ফুটবলার দুজনেই, কিন্তু সমস্যা ওই একই। ভারতের জাতীয় দলকে দেখুন। যখন মনে হবে, বেশ ভাল খেলছে, ০-১ পিছিয়ে পড়েছে ততক্ষণে! ভারতে কোনও কিছুই দীর্ঘমেয়াদি নয়। আজ ১০ ডলার ইনভেস্ট করতে বললে করে দেবেন অনেকে। কিন্তু কী কী করলে সেই ১০ ডলার ১০০ ডলার হয়ে ফেরত আসবে, সেই ভাবনাটা ফুটবলে একেবারেই নেই!’

    ফরচুন যেমন বলছিলেন, ‘আইএসএল-এর কোনও ক্লাবের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার কোনও পরিকল্পনা এখনও নেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। তার চেয়ে অনেক বেশি উৎসাহী আমরা ফুটবল স্কুলের ক্ষেত্রে। আর, আমরা কিছু পরামর্শ দিতে পারি মাঝেমাঝে এসে, ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির জন্য সবচেয়ে বেশি করে ভাবতে হবে ভারতীয় ফুটবল সংস্থাকেই।’

    No comments