• Breaking News

    দেবজিৎ-জুয়েল দ্বিতীয় ট্রফি আনলেন কলকাতায়

    কেরালা ব্লাস্টার্স ১ আতলেতিকো দে কলকাতা ১

    (রফি ৩৭) (সেরেনো ৪৪)

    টাইব্রেকারে জয়ী কলকাতা, ৪-৩

    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2798" align="alignleft" width="300"]দেবজিতের সেই ‘সেভ’। ছবি - আইএসএল দেবজিতের সেই ‘সেভ’। ছবি - আইএসএল[/caption]

    দ্বিতীয়বারেও সৌরভ গাঙ্গুলির দলই হারাল শচীন তেন্ডুলকারের দলকে, ফাইনালে! দ্বিতীয়বারের জয় আরও কৃতিত্বের, কারণ, খেলা ছিল কেরালা ব্লাস্টার্সের ঘরের মাঠ কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে। সেখানে পিছিয়ে পড়েও হাজার ৫৫ দর্শকের গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দিলেন দুই বঙ্গসন্তান। দেবজিৎ মজুমদার দুর্দান্তভাবে বাঁচালেন সেদরিক এঙ্গেবার্তের শট আর জুয়েল রাজার শটে এল ট্রফি।

    টাইব্রেকার সবসময়ই হৃদয়বিদারক। সেমিফাইনালে দ্বিতীয় পর্বে টাইব্রেকারেই জিতেছিল কেরালা ব্লাস্টার্স। সেই দিন তাদের বিরুদ্ধে একটিও গোল হয়নি, সন্দীপ নন্দী বাঁচিয়েছিলেন একটি শট। ফাইনালে সন্দীপকে খেলাননি কোচ স্টিভ কোপেল। দায়িত্ব দিয়েছিলেন গ্রাহাম স্ট্যাককে। চেষ্টা করেছিলেন স্ট্যাক। ইয়াইন হিউম কেরলের বিরুদ্ধে গোল পেলেন না, এমনকি পেনাল্টি থেকেও। জোরেই মেরেছিলেন কিন্তু গোলরক্ষক স্ট্যাকের জন্য একেবারে ঠিক জায়গায়, ঠিক উচ্চতায়। সহজেই বাঁচিয়ে দিয়ে তখন নায়ক হয়ে গিয়েছিলেন স্ট্যাক। কিন্তু পরে এনডয় আর এঙ্গেবার্ত, দুজন পারলেন না। ফলে ৪-৩ জিতে তিনবারে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হল আতলেতিকো দে কলকাতা।

    নির্ধারিত সময়ে দুটি গোলই ছিল সেট পিস থেকে। প্রায় একই রকম। প্রথমে মেহতাবের কর্নার থেকে মহম্মদ রফির হেড। আতলেতিকো কলকাতার রক্ষণ দেখছিল। সঙ্গে প্রীতম ছিলেন, কিন্তু লাফিয়েছিলেন হয়ত সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময় পরে। রফি প্রথম মরশুমে খেলেছিলেন কলকাতার হয়েই। তাদের বিরুদ্ধেই গোল পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি আনন্দিত ছিলেন রফি।

    কলকাতা গোল শোধ করেছিল একই ভাবে। দুতির কর্নার থেকে সেরেনোর হেড। সেরেনোর গায়েই কিন্তু লেগেছিলেন সন্দেশ ঝিঙ্গন। কিন্তু সেরেনো তবুও মাথায় ছোঁয়াতে পেরেছিলেন বল, ঝিঙ্গন পড়ে গিয়েছিলেন মাটিতে। পরে, মাঠে সংঘর্ষে মাথা ফেটে যায় সেরেনোর। কিন্তু মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধেও দুর্দান্ত খেলেছিলেন সেরেনো, যে কারণে ফাইনালের নায়ক।

    হিউম, পোস্তিগারা সুযোগ পেয়েছিলেন। কাজে লাগাতে পারেননি। প্রথমার্ধেই শুরু থেকে আক্রমণের রাস্তায় ছিল আতলেতিকো। দুই স্ট্রাইকারের পাশে সমীঘ দুতির একটি জোরালো শটও বাঁচিয়েছিলেন স্ট্যাকই। কেরল চেষ্টা করেছিল নিজেদের মতো করেই। কিন্তু বেলফোর্ট বা নাজোন, গোলের কাছাকাছি পৌঁছে সেই দক্ষতা দেখাতে পারেননি। ঘরের মাঠে ফাইনাল হারার রীতি বজায় থাকল, গতবার এফসি গোয়ার মতোই!

    অ্যারন হিউজ চোট পেয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন প্রথমার্ধেই। মেহতাব হোসেন শেষ দিকে দাঁড়িয়ে ছিলেন মাঠে, ইসফাক আমেদও যথেষ্ট সমস্যায় ছিলেন। কোপেল যেহেতু তিনজন ফুটবলার পরিবর্তন করে ফেলেছিলেন, শেষে মেহতাব আর ইসফাকের পরিবর্ত নামানোর সুযোগ ছিল না তাঁর কাছে। এখানেই ইংরেজ কোচকে টেক্কা দিয়ে গেলেন স্পেনীয় হোসে মোলিনা। তিনি শুরু থেকেই রোটেশন-এ বিশ্বাসী ছিলেন। প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম ১১ জনে ৯ জনকে পাল্টানোর অসমসাহসিকতা দেখিয়েছিলেন দ্বিতীয় সেমিফাইনালে, শুধুই সেরা ফুটবলারদের তরতাজা রাখতে। তাই ফাইনালে তুলনামূলক বেশি সুস্থ দেখাল তাঁর দলকে, নিতে পারল ১২০ মিনিট খেলার পর টাইব্রেকারের টেনশনও। চুপ করিয়ে দিতে পারল কেরলের ইয়েলো ব্রিগেড-কে, তাঁদের নিজেদের মাঠেই।

    দেবজিতের পেনাল্টি বাঁচানো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, দক্ষতার কারণেও। এঙ্গেবার্তের শটে তিনি আগেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন নিজের ডানদিকে। কিন্তু ফরাসি ফুটবলারের জোরালো শট এসেছিল সোজা। একেবারে শেষ মুহূর্তে, পায়ে লেগে গিয়ে বলটা ফিরে গেল এমন নয়। রীতিমতো বাঁপায়ে শট করে বল বাইরে পাঠিয়েছিলেন দেবজিৎ। ওইভাবে পেনাল্টি বাঁচানোর আত্মবিশ্বাসই বোধহয় সংক্রমিত হয়েছিল জুয়েলের মধ্যে। হেলায় স্ট্যাককে পরাস্ত করেন জুয়েল। প্রথম খেতাব এসেছিল রফিকের হেডে, আর কলকাতার দ্বিতীয় খেতাব এল জুয়েলের শটে! দুই তত বিখ্যাত নন এমন ভারতীয় ফুটবলার, যাঁরা জায়গা করে নিলেন আইএসএল ইতিহাসে।

    No comments