• Breaking News

    ফাইনালে আবার সৌরভ বনাম শচীন!

    দিল্লি ডায়নামোস ২ কেরালা ব্লাস্টার্স ১


    (মার্সেলিনিও ২১, রোকা ৪৫)  (নাজোন ২৪)


    টাইব্রেকারে ৩-০ জয়ী কেরালা ব্লাস্টার্স


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2763" align="alignleft" width="300"]কেরলকে ফাইনালে তুলে মহম্মদ রফিক। ছবি - আইএসএল কেরলকে ফাইনালে তুলে মহম্মদ রফিক। ছবি - আইএসএল[/caption]

    সৌরভ গাঙ্গুলির দলের সামনে ফাইনালে আবার শচীন তেন্ডুলকারের দল। প্রথমবারের হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের মতোই। এবং, সেই প্রথম ফাইনালে যিনি গোল করে আতলেতিকো দে কলকাতাকে জিতিয়েছিলেন কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে, সেই মহম্মদ রফিকই কেরলকে এবার ফাইনালে তুললেন টাইব্রেকারে চতুর্থ শট থেকে গোল করে। ফলে, কোচিতে তৃতীয় আইএসএল-এর ফাইনালে কলকাতা বনাম কেরল, আবার। আর, এবার কেরল ফাইনাল খেলবে নিজেদের মাঠে!

    খেলায় নিজের গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে বারবার ভুল করেছিলেন সন্দীপ নন্দী। কিন্তু টাইব্রেকারে লাইন ছেড়ে বেরতে হয়নি। আর মেমোর শট বাঁচান ঠিক দিকে ঝাঁপিয়ে। যেমন দোবলাসও বাঁচিয়েছিলেন আন্তোনিও জার্মানের শট। কিন্তু দোবলাসের দলের কেউই টাইব্রেকারে গোল করতে পারলেন না। মালুদা আর ব্রুনো পেলিসারির মতো অভিজ্ঞরা বল ওড়ালেন। সেখানে গোল করে গেলেন হোসু, বেলফোর্ট আর রফিক। ঘরের মাঠে নিজেরাই চাপে পড়ে গিয়েছিলেন দিল্লি ডায়নামোসের ফুটবলাররা।

    জিয়ানলুকা জামব্রোতার কাছে প্রথম মরশুমের শেষটা তেমন হল না যেমন চেয়েছিলেন। কিছু সুযোগ নষ্ট আর আধঘন্টার মধ্যে দলকে দশজনে হতে দেখার পরও তাঁর দিল্লি অবশ্য লড়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ২৮ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন মিলন সিং। মেহতাব হোসেনকে বাজেভাবেই ফাউল করে। রেফারি সামনেই ছিলেন, সরাসরি লাল কার্ড দেখান। যুক্তিহীন ফাউল মিলনের। যখন দল চেয়েছিল তাঁকে মাঠে, নিজের দোষে সাজা দিয়ে যান দলকে, নির্ধারিত সময়ের ৬২ মিনিট ও পরের ৩০ মিনিটও দশজনে খেলতে বাধ্য করে। সেই ক্লান্তির প্রভাবই হয়ত পড়েছিল দিল্লির ফুটবলারদের টাইব্রেকারে শট নেওয়ার সময়।

    প্রথমে কিন্তু দিল্লিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন এবারের আইএসএল-এর সর্বোচ্চ গোলদাতা মার্সেলিনিও। কিন্তু, সন্দীপের ভুলের কারণে সুযোগ এসে গিয়েছিল মার্সেলিনিওর কাছে। তেবারের লং বল ছিল গ্যাডজের জন্য। কিন্তু কাদিও ঠিক সময়েই পৌঁছে গিয়েছিলেন। পেছনে পাঠিয়েছিলেন বল, যা পায়ে গিয়ে পড়েছিল মার্সেলিনিওর। সন্দীপও এগিয়ে এসেছিলেন, ফিরতে পারেননি নিজের জায়গায়। ফলে, মার্সেলিনিওর সামনে প্রায় ফাঁকা গোল। এবারের আইএসএল-এ নিজের দশম গোল পেয়ে যান ব্রাজিলীয় মার্সেলিনিও।

    কেরলকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন নাজোন, একক কৃতিত্বে বলাই ঠিক। আনাসকে পেছনে ফেলেন, রোকা-কে সুযোগই দেননি তাঁর শট আটকানোর। দূরের পোস্টে দোবলাসকে পরাস্ত করেন, ডানপায়ের নিখুঁত ও জোরালো শটে। তিন মিনিটের বেশি পিছিয়ে থাকতে হয়নি কেরলকে তখন।

    প্রথমার্ধের শেষে দিল্লিকে ঘরের মাঠে আবারও এগিয়ে দিয়েছিলেন রোকা। ফ্রি কিক নিয়েছিলেন তেবার। সন্দীপ আবারও এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু বলের কাছেই পৌঁছতে পারেননি। রুবেন রোকার হেড, কোনও রকমে। হিউজ এসেছিলেন, কিন্তু বল তাঁর গায়ে লেগেই গোলে যায়। সন্দীপ গোললাইন ছেড়ে ওভাবে বেরিয়ে এসে বল ধরতে ব্যর্থ না হলে হয়ত গোল হত না।

    সন্দেশ ঝিঙ্গন নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে কেরলকে খেলায় রেখে দিয়েছিলেন ৭৮ মিনিটে। এবারও তেবারের ফ্রি কিক, এবারও সন্দীপ বেরিয়ে এসে বল ধরতে ব্যর্থ। মালুদার ব্যাকহেড গোলে ঢোকার মুখে ঝিঙ্গন পিছিয়ে যেতে যেতে গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন হেড করে। ওই গোল হলে দিল্লি তখন ৩-১ এগিয়ে গিয়ে ফাইনালের রাস্তা খুলে ফেলতেও পারত।

    তারপরও সুযোগ পেয়েছিল দিল্লি। মার্সেলিনিও বেরিয়ে এসেছিলেন বল নিয়ে। কিন্তু যেখানে চলে গিয়েছিলেন, সন্দীপ এগিয়ে এসে কোণ ছোট করে দেওয়ায় ডানদিক থেকে বাঁপায়ে মার্সেলিনিওর পক্ষে তিনকাঠিতে বল রাখা প্রায় অসম্ভবই ছিল। রাখতে পারেননি মার্সেলিনিও।

    জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে বুধবার তৃতীয় হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের সেমিফাইনালে দ্বিতীয় পর্বে শেষ পর্যন্ত নাটকীয়তায় ভরা টাইব্রেকার যেখানে একটিও গোল করতে পারলেন না দিল্লির ফুটবলাররা। পরপর দুবার সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হল দিল্লি ডায়নামোসকে।

    No comments