• Breaking News

    সম্মানরক্ষার লড়াইয়ে জিতলেন জিকো

    এফসি গোয়া ৫ চেন্নাইয়িন এফসি ৪


    (কোয়েলহো ৫, ৭৬, হোফ্রে-পেনাল্টি ২১, তাভোরা ৬৮, ৯০) (লালরিনজুয়ালা ৪, আর্নোলিন আত্মঘাতী ১৩, ডুডু ২৮, রিসে-পেনাল্টি ৮৮)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2683" align="alignleft" width="300"]চাপেকোয়েনসে ক্লাবের মৃত ফুটবলারদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাল এফসি গোয়া। ছবি - আইএসএল চাপেকোয়েনসে ক্লাবের মৃত ফুটবলারদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাল এফসি গোয়া। ছবি - আইএসএল[/caption]

    জয় বা হার নিয়ে কোনও মাথাব্যথা ছিল না কোনও দলেরই। জিতলেই সেমিফাইনালে পৌঁছনোর প্রশ্ন নেই, হারলেও হারানোর কিছু নেই আলাদা করে! এমন পরিস্থিতিতে গতবারের দুই ফাইনালিস্ট খেলল মুক্তমনে। তৃতীয় হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে এমন ম্যাচ সচরাচর দেখা যায়নি যেখানে দুটি দলই রক্ষণে তত বেশি মনোযোগ না দিয়ে আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে আরও বেশি গোল করার লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছিল। ফলে, এবারের আইএসএল দেখল সবচেয়ে বেশি গোল, এক ম্যাচে।

    গতবারের ফাইনালে ইনজুরি টাইম-এ স্তিভেন মেন্দোজার গোলে চেন্নাইয়িন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার, আইএসএল-এর গ্রুপ পর্যায়ে এই দুই দলের শেষ ম্যাচে তাভোরার ইনজুরি টাইম-এর গোলে গোয়া শেষ পর্যন্ত জিতল ৫-৪। মোট ৯ গোলের ম্যাচ, আইএসএল-এর কোনও ম্যাচে এত গোল হয়নি আগে কখনও।

    তিনবার এগিয়েছিল গোয়া। ১-০, ২-১ ও ৩-২। দুবার এগোয় গোয়া। ৪-৩, ৫-৪। শেষবার আর সমতা ফেরাতে পারেনি চেন্নাই।

    লালরিনজুয়ালার চমৎকার ফ্রি কিকে গোল দিয়ে শুরু। কোয়েলহো শোধ করেন পরের মিনিটেই, হোফ্রের পাস থেকে। চেন্নাই এগিয়ে যায় খানিক পরই। এবার দানিয়েল বল দিয়েছিলেন থই-কে। থইয়ের ক্রস কোনওরকমে বাঁচালেও কাট্টিমনির হাতে লেগে বল চলে গিয়েছিল নবাগত থাপার কাছে। থাপার শট আর্নোলিনের পায়ে লেগে জালে।

    খাবড়া ফাউল করেছিলেন রাফায়েল কোয়েলহোকে। রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিতে সময়ই নেননি, এতটাই নিশ্চিত ছিলেন। অধিনায়ক হোফ্রে এগিয়ে এসেছিলেন, করণজিৎ ঠিক দিকে ঝাঁপালেও আটকাতে পারেননি। ডুডু অবশ্য প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার অনেক আগেই ৩-২ এগিয়ে দেন। দানিয়েলের পাস খুঁজে নিয়েছিল ডুডুকে। বিরতিতে এগিয়েই সাজঘরে ফিরেছিল চেন্নাই।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মন্দার রাও দেশাইকে বসিয়ে সাহিল তাভোরাকে নামিয়েছিলেন জিকো। সেই সাহিলই ৩-৩ করেছিলেন, রাফায়েলের শট করণজিৎ বাঁচানোর পর ফাঁকায় তাঁর পায়ে এসে পড়ায়। এবার গোয়ার এগিয়ে যাওয়ার পালা। ত্রিনদাদের পাস ধরে রাফায়েল নিজের দ্বিতীয় গোল পেলেন, মার্কারদের এড়িয়ে। গোটা ম্যাচেই দু-দলের রক্ষণভাগ অবশ্য মার্কিং নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামিয়েছিল বলে মনেই হয়নি!

    তবে চতুর্থ গোলও শোধ। এবার রাজু গায়কোয়াড়ের বোকামিতে। পেনাল্টি বক্সের মধ্যে হাত উঁচু করে বলে হাত লাগিয়ে ফেলেছিলেন পরিবর্ত রিসের থ্রো ইন-এ। পেনাল্টি এবং রিসের জোরালো শটে ৪-৪। নাটক অবশ্য তখনও বাকি ছিল। তাভোরা আবার। এবার দুর্দান্ত গোল, সঞ্জয় বালমুচুর পাস ধরে, বাঁদিকে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে শটে যা দূরের পোস্টে ধাক্কা খেয়ে গোলে গিয়েছিল। মনে রাখার মতো জয় গোয়ার, যদিও প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়ার পর।

    গতবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই তৃতীয় আইএসএল শেষ করল ১৪ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে থেকে। আর গতবারের রানার্স গোয়া পেল ১৪ পয়েন্ট, অষ্টম স্থান। কাকতালীয় হলেও সত্যি, দুটি দলই এবার ১৪ ম্যাচে গোল খেল ২৫টি করে!

    No comments