• Breaking News

    ড্র হলেই ফাইনাল, মোলিনা তবু রক্ষণে ভিড় বাড়াতে রাজি নন

    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2757" align="alignleft" width="300"]অনুশীলনে আতলেতিকো দে কলকাতার ফুটবলাররা। ছবি - আইএসএল অনুশীলনে আতলেতিকো দে কলকাতার ফুটবলাররা। ছবি - আইএসএল[/caption]



    মুম্বই সিটি এফসি-র সবচেয়ে বড় অসুবিধা হয়ে দেখা দিতে পারে দিয়োগো ফোরলানের অনুপস্থিতি। আতলেতিকো দে কলকাতার বিরুদ্ধে প্রথম সেমিফাইনালে হারের বদলা নিয়ে ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে মঙ্গলবার তারা খেলতে নামবে মুম্বই ফুটবল এরিনায়, হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের প্রথম সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বে।

    ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপে সোনার বুটজয়ী ফোরলান দুটি হলুদ কার্ড দেখে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন প্রথম পর্বে। ফলে, এই ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। আর,প্রতিযোগিতায় পাঁচের মধ্যে চারটি গোল ফোরলান করেছিলেন এই মুম্বই ফুটবল এরিনাতেই। মুম্বইয়ের ঘরের মাঠে এই মরশুমে ফোরলানকে ছাড়া মুম্বই কোনও ম্যাচই জেতেনি। কলকাআর বিরুদ্ধে গ্রুপ লিগের ম্যাচও ১-১ ড্র হয়েছিল, ফোরলান খেলেননি।

    আর শুধুই তো ফোরলানের ফর্ম নয়, সেট পিসের সময়ও ফোরলানের অনুপস্থিতি টের পাবে মুম্বই, বারবার। প্রথম পর্বে যে দুটি গোল করেছিল মুম্বই, দুটিই সেট পিস থেকে,দুবারই ফোরলান নিয়েছিলেন ফ্রি কিক। খেলা চলাকালীন পিছিয়ে মাঝমাঠে নেমে এসে খেলা তৈরিতেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

    ‘বলা মুশকিল, ফোরলানের অনুপস্থিতি আমাদের ঠিক কতটা সমস্যায় ফেলবে। এখন কিছুতেই বলা সম্ভব নয়, ম্যাচের পর হয়ত বলতে পারব। এমনিতে যে ম্যাচগুলো ফোরলানকে ছাড়া খেলেছিলাম, দল কিন্তু খারাপ খেলেনি। তার মধ্যে ঘরের মাঠে আতলেতিকো ম্যাচটাও ছিল। ওর জায়গায় যে মাঠে নামবে, সেরাটাই দেবে আমাদের ফাইনালে নিয়ে যেতে, সন্দেহের লেশমাত্র নেই,’ বলেছেন কোচ আলেকজান্দ্রে গিমারায়েস।

    সত্যিই ফোরলান নেই বলে মুম্বইয়ের ভবিষ্যৎ অনুজ্জ্বল এমন নয়। ঘরের মাঠে বেশ ভাল খেলেছে তারা। আর সেই ভাল খেলার পেছনে ছিল তাদের প্রায় নিশ্ছিদ্র রক্ষণ। এই মরশুমে ঘরের মাঠে তারা মাত্র তিনটি গোল খেয়েছে। অন্য সব দলের তুলনায় কম। সাতের মধ্যে চারটি ম্যাচে একটিও গোল খায়নি, যা এই মরশুমের আইএসএল-এ ঘরের মাঠে সেরা ডিফেন্সিভ রেকর্ড।

    ‘নিজেদের দর্শকদের সামনে খেলতে পারবে ভেবে ফুটবলাররা উচ্ছ্বসিত। জানে,মরশুমজুড়ে এই ভক্তরা ঠিক কতটা পাশে ছিল, তাদের সমর্থন নিয়ে। আশা করছি মঙ্গলবার আবারও মাঠ ভরে যাবে। সমর্থকদের চিৎকার উদ্বুদ্ধ করবে ফুটবলারদের, নিজেদের সেরাটা বের করে আনতে। স্মার্ট ফুটবল খেলতে হবে। অযথা আত্মঘাতী ফুটবল খেলার কোনও প্রয়োজন নেই,’ মনে করছেন গিমারায়েস।

    মুম্বইয়ের বিপক্ষ আতলেতিকো দে কলকাতাই একমাত্র দল যারা আইএসএল-এর তিন মরশুমেই সেমিফাইনাল খেলছে। গতবার সেমিফাইনালে চেন্নাইয়িন এফসি-র কাছে তাদের হতাশাজনক হারের কথা ভোলাতে আগ্রহী তারা, আবারও ফাইনালে উঠে।

    কলকাতার আরও সুবিধা, ড্র করতে পারলেই কোচিতে রবিবারের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত তাদের। কিন্তু কোচ হোসে মোলিনা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে,রক্ষণে লোক নামিয়ে এসে গোল না খাওয়ার চেষ্টা করবেন না তাঁরা, ম্যাচজুড়ে।

    ‘কলকাতায় কী হয়েছিল তা মনে রেখে আমাদের অন্তত কোনও লাভ নেই। তাতে আমাদের খেলার ধরন বদলাবে না। মানতে অসুবিধা নেই যে, খুব সামান্য সুবিধা আছে আমাদের দিকে, প্রথম ম্যাচটা জেতায়। কিন্তু সে-কারণে উত্তেজিত হলে চলবে না, ধৈর্য রাখতে হবে, সব কিছুই কিন্তু নির্ভর করছে মঙ্গলবার কেমন খেলি তার ওপর,’ বলেছেন মোলিনা।

    আতলেতিকো দে কলকাতা আগে কখনও সেমিফাইনালের অ্যাওয়ে ম্যাচে গোল করেনি। একই সঙ্গে এ-ও সত্যি যে,মঙ্গলবারের ম্যাচে গোল না-খাওয়াটা আরও বেশি জরুরি তাদের কাছে। গোল না খেলেই তো পৌঁছে যাবে ফাইনালে। এই মরশুমে আততলেতিকো দে কলকাতা কিন্তু ঘরের মাঠে মাত্র ৮ পয়েন্ট পেয়েছিল গ্রুপ লিগে। আইএসএল-এর ইতিহাসে কোনও সেমিফাইনালিস্ট দল ঘরের মাঠ থেকে এত কম পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ লিগে প্রথম চারে থাকেনি কখনও। আর, এই তথ্যই বলে দিচ্ছে যে, ঘরের মাঠের খারাপ পারফরম্যান্স তারা কিন্তু ঢেকে দিয়েছিল বাইরের মাঠ থেকে ১২ পয়েন্ট তুলে। সেটাও আগের দুবার কলকাতার অ্যাওয়ে পারফরম্যান্সের চেয়ে ভাল।

    ‘জানি, ১৫-র মধ্যে মাত্র দুটি ম্যাচ হারাটা পারফরম্যান্স হিসাবে যথেষ্ট ভাল। কিন্তু মঙ্গলবারের ম্যাচের সঙ্গে এই সবের কোনও তুলনাই নেই। আগে কী করেছি, একেবারেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। যদি ফাইনালে যেতে পারি, যাব মঙ্গলবারের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে, ভাল খেলে। আগে কী করেছি, কতটা ভাল বা খারাপ খেলেছি, তার ভিত্তিতে নয়। আর আমি বর্তমানে বাঁচি, অতীতে নয়,’ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মোলিনা

    No comments