• Breaking News

    ঘরের মাঠে টানা ষষ্ঠ ম্যাচ জিতল কেরল

    কেরালা ব্লাস্টার্স ১  দিল্লি ডায়নামোস ০


    (বেলফোর্ট ৬৪)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2751" align="alignleft" width="300"]গোলের পর বেলফোর্ট ও কেরলের ফুটবলাররা। ছবি – আইএসএল গোলের পর বেলফোর্ট ও কেরলের ফুটবলাররা। ছবি – আইএসএল[/caption]

    নিজেদের মাঠে টানা ষষ্ঠ ম্যাচ জিতল কেরালা ব্লাস্টার্স। কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শচীন তেন্ডুলকারের উপস্থিতিতে সেমিফাইনালের প্রথম পর্বে ১-০ জিতে খানিকটা মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা নিয়ে রাজধানীর দিকে রওনা হবে স্টিভ কোপেলের দল।

    আইএসএল-এর ইতিহাসে ৫০-হাজারি গ্যালারির দুর্দান্ত সমর্থন নিয়েও তিন বছরে আগে কখনও দিল্লি ডায়নামোসকে হারাতে পারেনি কেরল। কিন্তু যখন সবচেয়ে বেশি জরুরি, ঠিক তুলে নিল জয়। খানিকটা হলেও চাপে রেখে দিল দিল্লি ডায়নামোসকে এখন। দিল্লিকে জিততেই হবে ফিরতি ম্যাচে। উল্টোদিকে, ড্র করলেই ঘরের মাঠে ফাইনাল খেলার সুযোগ কেরলের সামনে।

    প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে, ইনজুরি টাইম-এ একবার গোল করে ফেলেছিলেন সেই বেলফোর্টই। কিন্তু গোলে শট নেওয়ার আগের মুহূর্তে বুকে বল রিসিভ করার সময় দুটি হাতই শরীরের খুব কাছাকাছি রেখেছিলেন। সহকারী রেফারির মনে হয়, বল রিসিভ করার সময় হাতে লাগিয়েছেন বেলফোর্ট। যে কারণে বিরতির বাঁশি বাজার সময় কেরলের ফুটবলাররা রেফারি ও সহকারীদের ঘিরে ধরে নিজেদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন।

    দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময় অবশেষে গোল বেলফোর্টের। বলটা ধরেছিলেন নিজেদের অর্ধের মাঝামাঝি, ম্যাচের নায়ক এঙ্গেবার্তের পাস থেকে। সোজা দৌড়ন, রোচাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান, শট নেন গোলে, দিল্লির ডিফেন্ডার আনাস শেষ মুহূর্তে পা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, সেই বাড়ানো পায়ে লেগে বল দিক পাল্টে জালে চলে যায়, দোবলাসের কিছু করার ছিল না আর।

    তৃতীয় আইএসএল-এর সর্বোচ্চ গোলদাতা মার্সেলিনিও চেষ্টা করেছিলেন তাঁর দশম গোল পেতে। কিন্তু ৭৫ মিনিটে কীন লুইসের সেন্টারে তাঁর হেড গোলে ঢোকার মুখে গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন সেদরিক এঙ্গেবার্ত। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে আবার দলের গোলের ক্ষেত্রে বেলফোর্টের পায়ে বল পাঠিয়ে ম্যাচের সেরা তিনিই।

    প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম পর্বে যেখানে প্রথম ৪৫ মিনিটেই পাঁচ গোল হয়েছিল, তেমন নাটকীয়তা ছিল না কেরল-দিল্লি খেলায়। দু-দলই যেন খেলতে নেমেছিল মেনে নিয়েই যে, ফয়সালা হবে দিল্লিতে ৯০ মিনিট খেলা হওয়ার পর। কোচির ৯০ মিনিট দু-দলই তাই খেলল সতর্ক ফুটবল। খেলার একেবারে শুরুতে বিনীত একেবারে ফাঁকায় বল পেয়েও বাইরে মেরেছিলেন। আর, মার্সেলিনিওর শট একবার সন্দীপ নন্দী নিচু হয়ে হাতে করে মাঠের বাইরে পাঠিয়েছিলেন। এ ছাড়া তেমন সুযোগও তৈরি হয়নি।

    [caption id="attachment_2752" align="alignleft" width="300"]৫০-হাজারি গ্যালারির অভিনন্দন নিলেন শচীন তেন্ডুলকার ও নীতা আম্বানি। ছবি - আইএসএল ৫০-হাজারি গ্যালারির অভিনন্দন নিলেন শচীন তেন্ডুলকার ও নীতা আম্বানি। ছবি - আইএসএল[/caption]

    তবে, শুরুতেই মেহতাব এবং হোসু হলুদ কার্ড দেখে ফেলায় এবং হোসু তারপরও শান্ত না থেকে বারদুয়েক ফাউল করে ফেলায়, চট করে তাঁকে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন কোপেল। আর শেষে যখন ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিট চলছে, মার্সেলিনহো কেরল বক্সে পড়ে গিয়ে পেনাল্টির দাবি করেছিলেন ঝিঙ্গনের সঙ্গে সংঘর্ষে। সেই পেনাল্টি না দেওয়ার জন্য শেষ বাঁশি বাজার পর দিল্লির ফুটবলাররা একইভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

    ইন্ডিয়ান সুপার লিগের নিয়ম হল, অ্যাওয়ে ম্যাচে গোল বাড়তি গুরুত্ব পাবে না। তাই, কলকাতায় গিয়ে মুম্বইয়ের দুই গোল যেমন পরে দু-দলের গোল সমান-সমান হলে চার গোল হয়ে দাঁড়াবে না, তেমনই, দিল্লির কোনও গোল করতে না-পারাটাও বাড়তি চাপ নয়। ঘরের মাঠে ফিরতি সেমিফাইনালে ১-০ জিতলে খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, পরে টাইব্রেকারেও গড়াতে পারে, আরও গোল না হলে।

    গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল যেমন, সেরা চার দল পেতে, ফাইনালের দু-দলও পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে, দ্বিতীয় পর্বের দুটি সেমিফাইনাল শেষ হওয়া পর্যন্তই। আইএসএল-এর দলগুলি শক্তি অনুযায়ী এতটাই কাছাকাছি!

    No comments