• Breaking News

    দশজনের কলকাতাই পৌঁছল ফাইনালে!

    মুম্বই সিটি এফসি ০        আতলেতিকো দে কলকাতা ০


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2760" align="alignleft" width="300"]দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলেন রবার্ট। ছবি - আইএসএল দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলেন রবার্ট। ছবি - আইএসএল[/caption]

    মুম্বইতে গিয়ে মু্ম্বই সিটি এফসি-র স্বপ্ন চুরমার করে কোচিতে ফাইনালে পৌঁছে গেল আতলেতিকো দে কলকাতা! প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে জিতেছিল ৩-২। অ্যাওয়ে ম্যাচে গোল করতে দিল না মুম্বইকে। ফলে, দু-পর্ব মিলিয়ে সেই ৩-২ ফলেই জিতে আবারও ফাইনালে কলকাতা।

    প্রচুর প্রশ্ন ছিল কলকাতার প্রথম এগারো নির্বাচন নিয়ে। ন’জন পাল্টেছিলেন, কলকাতার প্রথম সেমিফাইনালের দলে। হিউম, পোস্তিগা, দুতি – কলকাতার সেরা তিন বিদেশি ত্রয়ীকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন হোসে মোলিনা। দল নির্বাচনেই পরিষ্কার বলে দেওয়া ছিল, জিতে এগিয়ে থাকার সুবিধা ধরে রাখতে এই ম্যাচে রক্ষণে বেশি মন দেবে কলকাতা। হলও তা-ই। দশজন হয়ে গিয়ে সমস্যায় পড়লেও, শেষ পর্যন্ত দেবজিতের দুর্দান্ত গোলকিপিং, মুম্বই সিটির ফরোয়ার্ডদের বিপক্ষের গোলমুখে সুযোগ নষ্ট আর কলকাতার মানসিক দৃঢ়তা ও ফুটবলারদের শৃঙ্খলা, তৃতীয় হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে দ্বিতীয়বার ফাইনালে নিয়ে গেল কলকাতাকে।

    ৬ মিনিটে ম্যাচের প্রথম সুযোগ পেয়েছিলেন সুনীল ছেত্রী। নিজেদের মাঝমাঠ থেকে ক্লিয়ার করা বলে একেবারে একা পেয়ে গিয়েছিলেন দেবজিৎ মজুমদারকে। কিন্তু দেবজিৎকে পরাস্ত করতে পারেননি। প্রথম সেমিফাইনালে খেলতে পারেননি দেবজিৎ। ঘরের মাঠ রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে স্পেনীয় গোলরক্ষককে খেলিয়েছিলেন মোলিনা। মুম্বইতে সুযোগ পেয়ে দেবজিৎ অবশ্য বুঝিয়ে দিলেন বারবারই, তাঁকে আগে কেন পরপর খেলিয়ে গিয়েছিলেন স্পেনীয় কোচ।

    বিদ্যানন্দ সিং শুরুতেই চোট পেয়ে যাওয়ায় লালরিনডিকা রালতে-কে নামাতে বাধ্য হয়েছিলেন মোলিনা, ২৪ মিনিটেই। তখনই নিশ্চিত হয়ে যায় যে, হিউম, পোস্তিগা ও দুতির মধ্যে যে কোনও দুজনকেই নামাতে পারবেন। কিন্তু, সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায় ৪৩ মিনিটে। ৩৪ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন রবার্ট। দশ মিনিটও হয়নি, পেছন থেকে দেফেদেরিকোকে আবার ফাউল করেন। রেফারি কাছেই ছিলেন, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখাতে দ্বিধা করেননি। অন্তত ৪৭ মিনিট দশজনে খেলতে হবে কলকাতাকে, নিশ্চিত তখন। তা ছাড়াও দুই অর্ধেরই ইনজুরি টাইমও। সমস্যা তখন আরও বেশি কারণ, আরও এক ভারতীয় ফুটবলার মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায়, চাইলেও তাঁর তারকা বিদেশিদের কাউকেই কি মাঠে আর আনতে পারতেন মোলিনা?

    দ্বিতীয়ার্ধে অবিনাশ রুইদাসকে বসিয়ে কীগান পেরিরাকে মাঠে নামাতেই হত, রক্ষণ সুদৃঢ় করতে। শেষ পর্যন্ত ৯০ মিনিটে দুতিকে নামিয়েছিলেন লারার জায়গায়। লারা তার আগেই অবশ্য ম্যাচের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার তুলে নেওয়ার মতো পারফরম্যান্স দিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর পাস থেকে বেলেনকোসো এগিয়ে দিতে পারতেন কলকাতাকে, একটু সতর্ক থাকলেই। ৫৯ মিনিটে লারার পাস বুঝতেই পারেননি বেলেনকোসো। শুধু সেই বারই নয়, বেলেনকোসো বেশ কয়েকবার ঠিক জায়গায় ঠিক সময়ে থাকতে পারেননি। কিন্তু সেই হতাশা ম্যাচের শেষে ওভাবে হেডবাট করে প্রকাশ করার কোনও অধিকার ছিল না তাঁর। তাই, ফাইনালে নেই তিনি, খেলা শেষ হওয়ার পর লাল কার্ড দেখে।

    মুম্বইয়ের কোস্তা রিকান কোচ গিমারায়েস স্বীকার করেছিলেন প্রথম সেমিফাইনালের আগে যে, গ্রুপ লিগে শীর্ষে থাকলেও, তাঁরা প্রথমবার খেলবেন সেমিফাইনালে যেখানে তাদের বিপক্ষ আগের দুবারই খেলেছে। সেই অভিজ্ঞতার অভাবও হয়ত মুম্বইয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দাঁড়াল। সুনীল ছেত্রী, সোনি নর্দের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা দিয়েগো ফোরলানের অনুপস্থিতিতে তেমন অনুপ্রাণিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারলেন না। ফোরলানের লাল কার্ডের চেয়েও রবার্টের লাল কার্ড বেশি গুরুত্বূপর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল কারণ, বেশি সময় দশজনে খেলতে হয়েছিল কলকাতাকে। মুম্বই সেই সুবিধা নিতে পারেনি ঘরের মাঠে। ফলে, রনবীর কাপুরের দল এবার একধাপ এগিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছলেও শেষ ধাপে পৌঁছতে পারল না।

    আন্তোনিও আবাসের ছায়ার সঙ্গে লড়াই ছিল মোলিনার, শুরুর দিন থেকেই। ১৬ ম্যাচ পর, ১৭তম ম্যাচেও খেলার যোগ্যতার্জন বুঝিয়ে দিল, কলকাতা কোচ নিয়োগে বড় ভুল করেনি। আবাসের প্রথম মরসুমের মতোই মোলিনাও প্রথম বছরেই দলকে নিয়ে গেলেন ফাইনালে, দুর্দান্ত ফুটবলবোধের পরিচয় দিয়েই!

    No comments