• Breaking News

    ডাফির জোড়া গোলে মোহনবাগানের দ্বিতীয় জয়

    মোহনবাগান - ২     লাজং – ০


    (ডাফি ২১, ৭৭)


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    [caption id="attachment_2839" align="alignleft" width="300"]দ্বিতীয় গোল করতে চলেছেন ডাফি। শুক্রবার রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে। ছবি – সন্দীপ দত্ত দ্বিতীয় গোল করতে চলেছেন ডাফি। শুক্রবার রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে। ছবি – সন্দীপ দত্ত[/caption]

    প্রথম ম্যাচে গোল পাননি। চাপে ছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করে জানিয়ে দিলেন ড্যারিল ডাফি, খানিক অপেক্ষা করতে হতেই পারে জেজে লালফেখলুয়াকে!

    সালগাওকারের হয়ে আই লিগে ৩৮ ম্যাচে ২১ গোল ছিল স্কটিশ ফুটবলারের। এবার আপাতত দুই ম্যাচে ২ গোল, ৩২ বছর বয়সী ফুটবলারের। নিশ্চিত করলেন, ঘরের মাঠে মোহনবাগানের দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেও পুরো পয়েন্টই। ফলে, ১৮ ম্যাচের লিগে দ্বিতীয় ম্যাচের পর ৬ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত শীর্ষে মোহনবাগান।

    কোচ সঞ্জয় সেন অবশ্য আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, গোল পাবেন ডাফি। কলকাতা লিগে খেলতে দেখে তেমন মনে হয়েছিল বলেই কর্ণেল গ্লেন-এর জায়গায় রেখে দিয়েছিলেন ডাফিকে। ‘কলকাতায় খেলার একটা চাপ আছে। লিগে খেলার সময় ডাফি সেটা বুঝতে পেরেছে। আস্থা ছিল, মর্যাদা রেখেছে। আরও গোল পাবে,’ বললেন সঞ্জয়, ম্যাচ শেষে।

    চার্চিল ব্রাদার্সে বিদেশি ছিল না একজনও। শিলং লাজং আবার অনূর্ধ্ব ২২ দল! এগারজনে চার বিদেশি বাদে সাতজনই অনূর্ধ্ব ২২। থংবই সিংতো-র দল নিতান্তই অনভিজ্ঞ। সম্বল দৌড় আর সেট পিসে কিছু করার চেষ্টা। কিন্তু অ্যাটাকিং থার্ডে যতটা তৎপরতা এবং খুঁতহীনতা জরুরি, দেখাতে পারেনি। ফলে, রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে ১৫ বছর পর ভারতের সেরা লিগের প্রথম ম্যাচে সেভাবে দাগ কাটতে পারেনি লাজং।

    মোহনবাগান দুটি ম্যাচেই শুরু করল একই ফর্মেশনে, ৪-৪-২। বলবন্ত আর ডাফিকেই রেখেছিলেন কোচ সঞ্জয় সেন, প্রথম এগারয়। এই দুই স্ট্রাইকারের যুগলবন্দিতে অবশ্য দ্বিতীয় গোল, দ্বিতীয়ার্ধে। ডানদিক থেকে পরিবর্ত প্রণয় হালদারের উঁচু করা বল বক্সের ভেতর পড়ছে যখন, বলবন্ত শুয়ে পড়ে কোনও রকমে পা লাগিয়ে বলটা বের করে দিয়েছিলেন আগুয়ান ডাফির জন্য। সামনে ফাঁকা গোল, ডাফির কাজ ছিল শুধু বলটাকে জালে পাঠানো। ভুলের প্রশ্নই ছিল না।

    প্রথম গোলের সময় অবশ্য মাঝমাঠ থেকে বলটা তুলেই দিয়েছিলেন কিংশুক, তেমন বিশেষ কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। তবে, বল পেয়ে যান ডাফি। ধরে হাফটার্ন, ডিফেন্ডার কেটে যান। সামনে একা গোলরক্ষক। ডাফি বাঁপায়ে বল রাখেন দূরের পোস্ট দিয়ে জালে। প্রথম ম্যাচে চার্চিলের বিরুদ্ধে বলজিতের গোল ছিল ২৮ মিনিটে, এবার ২১ মিনিটে এগিয়ে দেন ডাফি। পরে, জোড়া গোলের সৌজন্যে ম্যাচের সেরার পুরস্কারও পেলেন ডাফি। জেজে মাঠে এসেছিলেন ৮৭ মিনিটে, বলবন্তের জায়গায়। একটা সুযোগও তৈরি হয়েছিল তাঁর জন্য। ডানপায়ের শট তিনকাঠিতে রাখতে পারেননি। কোচের সুবিধা, দলে জায়গা পাওয়ার জন্য স্ট্রাইকার হিসাবে এখন আরও বেশি লড়তে হবে ভারতের এই মুহূর্তের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারকে।

    [caption id="attachment_2842" align="alignleft" width="300"]লাজংয়ের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের প্রথম গোলের পর ডাফি। বাঁদিকে বলবন্ত। ছবি – সন্দীপ দত্ত লাজংয়ের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের প্রথম গোলের পর ডাফি। বাঁদিকে বলবন্ত। ছবি – সন্দীপ দত্ত[/caption]

    মোহনবাগানের মাঝমাঠ এবং রক্ষণকে সেভাবে পরীক্ষা দিতে হল না, দ্বিতীয় ম্যাচেও। কর্নার বা ফ্রি কিক থেকে লাজং কিছু সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু প্রতিবারই হেড বাইরে যায়। সাত নম্বর জোদিংলিয়ানা, ১৩ নম্বর আইজ্যাক ভানমালসাওমা চোখ টানলেন। ব্রাজিলীয় ফাবিও পেনাও ছটফটে, কিন্তু গোলমুখে সেই তৎপরতা দেখাতে পারেননি। মোহনবাগানের কোচ অবশ্য মেনে নিলেন, সেট পিস থেকে বক্সে যতবার হেড দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল লাজং, ততবার সুযোগ দেওয়া উচিত হয়নি সবুজমেরুন ডিফেন্ডারদের। ‘প্রথম ম্যাচের তুলনায় খানিকটা উন্নতি হয়েছে। এই ম্যাচে আরও বেশি সুযোগ তৈরি হয়েছে। দু-ম্যাচে গোল খাইনি, সন্তুষ্ট। কিন্তু আরও উন্নতি জরুরি।’

    মোহনবাগানের আরও সুবিধা, সোনি নর্দে হয়ত খেলবেন পরের ম্যাচে। আগামী মঙ্গলবার তাদের সামনে আই লিগে নতুন ক্লাব মিনার্ভা সিটি। তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়েই কলকাতার বাইরে বেরনো উচিত মোহনবাগানের।

    মোহনবাগান - দেবজিৎ ; প্রীতম, কিংশুক, আনাস, শৌভিক ঘোষ; কাতসুমি, শৌভিক, শেহনাজ (প্রণয় ৬২), রেনিয়ের (প্রবীর ৬৯); বলবন্ত (জেজে ৮৭), ডাফি

    No comments