• Breaking News

    জিতলেও তেমন আহামরি নয় মোহনবাগান, ‘কষ্টার্জিত জয়’ মানলেন সঞ্জয়

    মোহনবাগান - ১       চার্চিল - ০



    (বলবন্ত ২৮)


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    [caption id="attachment_2821" align="alignleft" width="300"]আই লিগে এই মরসুমে মোহনবাগানের প্রথম গোল দিলেন বলবন্ত সিং। ছবি - ইন্টারনেট মোহনবাগানকে প্রথম ম্যাচে তিন পয়েন্ট এনে দিলেন বলবন্ত সিং। ছবি - ইন্টারনেট[/caption]

    নতুন করে শীত আসছে কলকাতায়। আই লিগের প্রথম ম্যাচে মোহনবাগানের পারফরম্যান্সেও সেই শৈত্যের প্রতিফলন!

    ইস্টবেঙ্গলের মতো ততটা অগোছালো নয়। কিন্তু, প্রথম ম্যাচে তেমন কিছু আহামরিও নয় মোহনবাগান। বিদেশিহীন, কোচহীন, প্রস্তুতিহীন চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে দশজনে খেলেও তিন পয়েন্ট, ম্যাচ শেষে এই যা সান্ত্বনা। তবে, সমস্যায় পড়েও তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়া বুঝিয়ে দিল, খেতাবের লক্ষ্যে প্রথম ম্যাচে পাস মার্ক পেল মোহনবাগান!

    ম্যাচের একমাত্র গোল বলবন্ত সিংয়ের। প্রায় এক বছর পর মাঠে ফিরেই তিন পয়েন্ট আনলেন সবুজমেরুনের স্ট্রাইকার। ডানদিক থেকে সেন্টার রেখেছিলেন প্রীতম কোটাল। বক্সের মাঝে বলবন্ত প্রায় বিনা বাধায় জোরালো হেডে গোল করে যান। চার্চিলের ডিফেন্ডাররা সেই সময় কোথায়? পেছন থেকে যে-বলটা পেয়েছিলেন প্রীতম, চার্চিলের সতীশ সিং চেষ্টা করেও আটকাতে পারেননি। শেষ যে-বার মোহনবাগান খেলেছিল চার্চিলের বিরুদ্ধে, গোল করেছিলেন বলবন্তই। এবারও তিনিই রক্ষাকর্তা।

    দলগত শক্তি এবং বিপক্ষের ছন্নছাড়া অবস্থা সত্ত্বেও যে-দাপট প্রত্যাশিত ছিল, মোহনবাগান দেখাতে পারেনি। উল্টে দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটাই দমে-যাওয়া। প্রধান কারণ হয়ত দশজন হয়ে যাওয়া, ৬৪ মিনিটে । ৫৫ মিনিটে আলমেইদাকে ফাউল করে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন শুভাশিস বসু। অনূর্ধ্ব ২২ ফুটবলার তারপরও সতর্ক হননি। ফলে, ৬৪ মিনিটে সেরিতন ফেরনানদেজকে বিপজ্জনকভাবে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলেন। বল নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন সেরিতন। পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরে পেছন থেকে তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিলেন অনভিজ্ঞ শুভাশিস। বাকি ২৬ মিনিট দশজনেই খেলতে হয় মোহনবাগানকে।

    সঞ্জয় সেন বাধ্য হয়েছিলেন সঙ্গে সঙ্গেই দুটি পরিবর্তন করতে। কিন লুইসের জায়গায় নিয়ে আসেন প্রবীর দাসকে, আর ম্যাচের প্রথম গোলদাতা বলবন্তকে তুলে নামান প্রণয় হালদারকে, যথাক্রমে  ৬৭ ও ৭১ মিনিটে। লেফট ব্যাকে প্রবীর আর মাঝমাঠে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ভূমিকায় প্রণয়। দশজনে খেলতে হওয়ায় রক্ষণে জোর দিতেই হত মোহনবাগান কোচকে।

    প্রথমার্ধে সেই সমস্যা ছিল না। ৪-৪-২ ছকে ড্যারিল ডাফি আর বলবন্ত দুই স্ট্রাইকার। কিন লুইস বাঁদিক থেকে আর কাতসুমি ইউসা ডানদিকের প্রান্ত ধরে উঠবেন, পরিকল্পনা। আইএসএল-এ কিন লুইসকে যত বিপজ্জনক মনে হয়েছিল, আই লিগের প্রথম ম্যাচে সেই দৌড়গুলো অদৃশ্যই। আক্রমণে মোহনবাগান বরঞ্চ বারবারই বুঝল সোনি নর্দের অভাব। যদিও সঞ্জয় মানেননি সে-কথা। ‘কাউকেই মিস করিনি’, সাফ জবাব তাঁর।

    একেবারে শেষ মুহূর্তে পরিবর্ত আগনেলো কোলাসোর শট দেবজিৎকে দাঁড় করিয়ে রেখে বারে ধাক্কা খেয়ে বাইরে না গেলে চিন্তা আরও বাড়তেই পারত মোহনবাগানের। ‘কষ্টার্জিত জয়’, মেনে নিলেন  বাগান-কোচ, ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে। কিংসলে ফেরনানদেজ ম্যাচের সেরা। চার্চিল মিডফিল্ডারের বলসহ দৌড় চোখে পড়লেও, ম্যাচের সেরা হোয়ার মতো পারফরম্যান্স কিনা, প্রশ্ন থাকছেই। অবশ্য এমন ম্যাচে ম্যাচের সেরা বেছে নেওয়ার কাজটাও বেশ কঠিন, সন্দেহ নেই!

    মোহনবাগানের পরের ম্যাচ বারাসতেই, শিলং লাজংয়ের বিরুদ্ধে, আগামী শুক্রবার। জেজে-কে কি প্রথম এগারয় রাখবেন সঞ্জয়? নাকি, গোল পেয়ে যাওয়ায় আবার শুরুতে বলবন্তই?

    মোহনবাগান:  দেবজিৎ ; প্রীতম, কিংশুক, আনাস, শুভাশিস (লালকার্ড ৬৪ মিনিট); কাতসুমি, শৌভিক, শেহনাজ, লুইস (প্রবীর ৬৭); বলবন্ত (প্রণয় ৭১), ডাফি (বিক্রমজিৎ ৮৯)

    No comments