• Breaking News

    বুকেনিয়ার হেডে ১ পয়েন্ট অগোছালো ইস্টবেঙ্গলের

    ইস্টবেঙ্গল - ১   আইজল – ১


    (বুকেনিয়া ৮৯)  (গুরবিন্দর আত্মঘাতী ৪৫)


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    [caption id="attachment_2810" align="alignleft" width="300"]গোলের হেড দেওয়ার পর বুকেনিয়া। ছবি - এআইএফএফ গোলের হেড দেওয়ার পর বুকেনিয়া। ছবি - এআইএফএফ[/caption]

    খালিদ জামিল বললেন, ‘স্বপ্নের শুরু’। দুঃস্বপ্নের শুরু হতেই পারত ট্রেভর জেমস মর্গ্যানের। কোনও রকমে বাঁচলেন, ইভান বুকেনিয়ার সৌজন্যে!

    গতবারের আই লিগ থেকে নেমে-যাওয়া দলের বিরুদ্ধে তৃতীয় দলের ম্যাচে দাপট অবশ্যই দেখাল অবনমন থেকে ফিরিয়ে-আনা আইজল এফসি। নতুন দলের দায়িত্ব পেয়ে খালিদ দেখালেন, ইস্টবেঙ্গলকে বিব্রত করার পুরনো অভ্যাস ছাড়েননি!

    জাতীয় লিগের নাম বদলে আই লিগ হওয়ার পর একবারও খেতাব জেতেনি ইস্টবেঙ্গল। এবার শুরু থেকেই আটঘাট বেঁধে নামার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু, প্রথম ম্যাচে যথেষ্ট অগোছালো দল। তিন বিদেশির মধ্যে সচল দেখা গেল উইলিস প্লাজাকে। দ্বিতীয়ার্ধে জ্যাকিচাঁদ সিংয়ের জায়গায় নেমে যিনি বাঁদিকের প্রান্ত থেকে কয়েকবার বিপজ্জনক দৌড়লেন। বল নিয়ন্ত্রণ, চকিত টার্ন, শরীরের দোলায় বিপক্ষ ডিফেন্ডারকে বোকা বানানোর চেষ্টা – সফল ফরোয়ার্ডদের যে-গুণগুলো থাকতেই হয়, ঝলক দেখা গেল। সবচেয়ে দেরিতে কলকাতা এসে পৌঁছনো ও মাত্র একবারই অনুশীলনে নামার পর। আলবিনো গোমস ৮০ মিনিটে দুর্দান্ত রিফ্লেক্স দেখিয়ে বল বাইরে না-পাঠালে প্লাজার বাঁপায়ের শটে প্রথম গোলও হতেই পারত। যদিও প্রথম ম্যাচ দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছন একেবারেই অনুচিত, হাইতির ওয়েডসন আনসেলমে সেই তুলনায় প্রথম রাতে খানিকটা ফ্যাকাশে। দুবার দুটি শট নিয়েছিলেন আইজলের গোল লক্ষ্য করে। দুর্বল সেই দুই শট তিনকাঠিতে থাকলেও গোমসের কোনও অসুবিধাই হয়নি নির্বিষ বলগুলো ধরতে। পাসিংয়েও ভুল চোখে পড়ল বারবার।

    যে-বিদেশি শেষ পর্যন্ত মান রাখলেন ইস্টবেঙ্গলের, মাঠে এসেছিলেন ৬৭ মিনিটে। প্রধানত, জোর বাড়াতে রক্ষণে, দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ইস্টবেঙ্গলের যে-রক্ষণ বেশ নড়বড়ে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে গুরবিন্দর সিং যেভাবে আত্মঘাতী গোল করেছিলেন, মর্গ্যানও বলে গেলেন সাংবাদিক সম্মেলনে যে, অনুশীলনে ১০০ বার ওই পরিস্থিতি থেকে গোলে শট নিতে বললে আরও একবার ওই জায়গায় রাখতে পারবেন কিনা, সন্দেহ! জয়েশ রানে বল দিয়েছিলেন বাই কামো স্টেফানে-কে, ইস্টবেঙ্গলের তিন ডিফেন্ডার ছিলেন পাশেই। বিপজ্জনক বল ‘ক্লিয়ার’ করতে গিয়ে গুরবিন্দরের শট বাই কামো স্টেফানের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করেছিল, এ-ও সত্যি।

    মর্গ্যান দল সাজিয়েছিলেন ৪-৩-২-১। এক স্ট্রাইকারে অনূর্ধ্ব-২২ নিখিল পূজারি। তাঁর পেছনে এই ম্যাচের অধিনায়ক মহম্মদ রফিক ও ওয়েডসন। যদিও, রফিককেই বেশি দেখা গেল স্ট্রাইকারের জায়গায়, নিখিল ডানদিক থেকে আক্রমণে উঠছিলেন, আর ওয়েডসন খেলছিলেন অনেকটাই নিচে নেমে। জ্যাকিচাঁদ ও রাহুল ভেকে দু-দিক থেকে ডানা মেলতে চেষ্টা করছিলেন। আইএসএল-এ চোখ টেনে নেওয়া জ্যাকিচাঁদের গতি আইজলের ডিফেন্ডারদের সমস্যায়ও ফেলেছিল এক-দু’বার। পরে সেই কাজটাই হয়ত আরও একটু ভাল করতে চেয়েছিলেন নতুন বিদেশি প্লাজা।

    খালিদের পরিকল্পনা সহজ। ৪-৩-৩ ছকে সাজানো দলে ভারতের নর্থইস্ট প্রদেশের ফুটবলারদের ভিড়। রক্ষণে দুই লাল – লালরিনজুয়ালা খিয়াংতে, লালরুয়াথারা। মাঝমাঠে লালবিয়াক থাঙ্গা, ফরোয়ার্ডে লালমুয়ান কিমা। পরে এই কিমা-র জায়গায় ভ্যানলালরেমডিকা ও বাই কামো-র জায়গায় লালথাকিমা, যা নিয়ে অন্য বিতর্ক। বাই কামো চোট পেয়ে পড়েছিলেন, তাঁর জায়গায় যে ৯২ মিনিটে লালথাকিমাকে নামানো হয়ে গিয়েছে, খেয়াল করেননি। শুশ্রূষা শেষে মাঠে নেমে পড়েন। ম্যাচের ওই শেষ মিনিটে তখন মাঠে আইজল এফসি-র বারোজন! চতুর্থ রেফারি ডেকে রেফারি ওম প্রকাশ ঠাকুরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন যখন, সেকেন্ড  ১৫ বারোজনে খেলে ম্যাচ শেষ করে ফেলেছে আইজল। রেফারি বাই কামোকে খেলা শেষেই ডেকে হলুদ কার্ড দেখালেন তারপর। পরে খানিক জলঘোলা হতেও পারে এই ঘটনা নিয়ে।

    আইজল বল পেয়ে দৌড়ল প্রাণপণ। ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ মাঝেমাঝেই মাঝখানে গুরবিন্দর-আনোয়ার জুটির বোঝাপড়ার অভাবে বেসামাল। লাইবেরিয়ার কেমা জারিয়ান ও নাইজেরিয়ার বাই কামোর সঙ্গে জয়েশ রানের বোঝাপড়া বরঞ্চ সুন্দর। দ্রুত প্রতিআক্রমণ আর নাইজেরিয়ার কিংসলে ওবুমনেমের নেতৃত্বে সংগঠিত রক্ষণ জোমিংলিয়ানা রালতেরও - খালিদ খেললেন পুরনো কৌশলে ভর করেই। অ্যালবার্ট জোমিংমাউইয়ার শট দুবার বাঁচালেন রেহনেশ, একবার জারিয়ানের জোরালো হেড ফিরল বারে লেগে। খালিদ সেই জন্যই বললেন, স্বপ্নের শুরুটাও আরও ভাল হতেই পারত, তিন পয়েন্ট পেলে!

    প্রথম ম্যাচে হার প্রায়-নিশ্চিত হতে চলেছে যখন, ইস্টবেঙ্গলের রক্ষাকর্তা বুকেনিয়া। কর্নারে বোর্জেসের হেড থেকে বল সামান্য উঁচুতে যাচ্ছিল ছোট বক্সের মধ্যে, দিশাহীন। সেই বলকে দিশা দিলেন বুকেনিয়া, হেডে। ২৩ মিনিট মাঠে থেকেই আনলেন একটি মহামূল্যবান পয়েন্ট। ঘরের মাঠ বারাসতের বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে। মর্গ্যান নিজেই স্বীকার করলেন, ওই একটা পয়েন্ট পাওয়ার কারণেই খুশি। দলের খেলায় একেবারেই নয়!

    পরের দুটি ম্যাচই কিন্তু ইস্টবেঙ্গলকে খেলতে হবে বাইরে, যথাক্রমে ডিএসকে শিবাজিয়ান্স ও চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে। খেতাবের যুদ্ধে টিকে থাকতে হলে অনেকটাই উন্নতি জরুরি ইস্টবেঙ্গলের।

    ইস্টবেঙ্গল:  রেহনেশ ; রাহুল, গুরবিন্দর (বুকেনিয়া ৬৭), আনোয়ার, নারায়ণ; রোওলিন, মেহতাব, রফিক, ওয়েডসন, জ্যাকিচাঁদ (প্লাজা ৪৫); নিখিল (অবিনাশ ৬৩)।

    No comments