• Breaking News

    ৪৮ দেশের বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে, ফিফার লাভ বাড়বে ৬৮২২ কোটি টাকা!

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    the-solemn-and-sacred-world-cup-trophy-1

    একলাফে ৩২ থেকে ৪৮। ষোলর ঘরের নামতা যেন! ষোল দু’গুণে বত্রিশ ছিল, তিন ষোল আটচল্লিশ!

    ২০২৬ থেকে ফুটবলের বিশ্বকাপে অংশ নেবে ৪৮ দেশ। ফিফার সুপারভাইসরি ও স্ট্র্যাটেজিক কমিটি ৯ ও ১০ জানুয়ারি জুরিখে বিশেষ সভায় সিদ্ধান্ত নিল, বিশ্বকাপের মূলপর্বে দল বাড়বে ৫০ শতাংশ। পরিকল্পনা করেছিলেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফানতিনো। ফিফা কাউন্সিল সেই সিদ্ধান্তে সর্বসম্মতির সিলমোহর দিল।

    দেশের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ফলে কিছু প্রশ্ন জাগবে মনে। তার সম্ভাব্য উত্তর –

    প্রশ্ন – বিশ্বকাপে দেশের সংখ্যা কোন কোন সালে বেড়েছে?

    উত্তর – ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর বছরে অংশ নিয়েছিল মোট ১৩ দেশ। ১৬ দেশ খেলবে ঠিক ছিল। তাই চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিল দেশগুলিকে। কিন্তু সব দেশ না-আসায় ১৩। ইউরোপীয় বড় দেশগুলো বয়কট করেছিল। ১৯৩৪ সালে ইতালি বিশ্বকাপে ১৬ দেশই হাজির। একমাত্র ব্রাজিলে ১৯৫০ বিশ্বকাপে আবার ১৩ দেশ। ১৯৮২ সালে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ১৬ থেকে ২৪। তারও ষোল বছর পর, ফ্রান্সে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ থেকে ৩২ দেশ খেলছিল বিশ্বকাপে। খেলবেও আগামী ২০১৮ রাশিয়া এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। ২০২৬ থেকে সংখ্যা ৪৮।

    প্রশ্ন – এই বাড়তি ১৬ দেশ আসবে কোন কোন মহাদেশ থেকে?

    উত্তর – এখনও আলোচনাসাপেক্ষ। সবে, দেশের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে সম্মতি নেওয়া হয়েছে। এখন ৩২ দেশ যেভাবে আসে –

    ইউরোপ থেকে ১৩

    আফ্রিকা থেকে ৫

    দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ৪

    এশিয়া থেকে ৪

    কনকাকাফ (উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ) থেকে ৩

    দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া, কনকাকাফ আর ওশিয়ানিয়া – ফিফার এই চারটি অঞ্চল থেকে পারস্পরিক প্লে অফ-এর মাধ্যমে  ২

    আয়োজক দেশ ১

    ফিফার সব মহাদেশ থেকে দল বাড়বে, বলা বাহুল্য। আরও বেশি দেশ আসবে এশিয়া আর আফ্রিকা থেকে। ইউরোপ আর লাতিন আমেরিকার ফুটবলে বড় দেশগুলো আর বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নেবে না, নিশ্চিত প্রায়।

    প্রশ্ন – সম্ভাব্য দেশ কতগুলি হতে পারে বিভিন্ন মহাদেশ থেকে?

    উত্তর – যদিও নিশ্চিত নয়, তবে, এমন হতেই পারে।

    ইউরোপ – ১৬

    আফ্রিকা - ৯

    এশিয়া - ৮

    দক্ষিণ আমেরিকা - ৬

    কনকাকাফ – ৬

    ওশিয়ানিয়া - ১

    এশিয়া ও কনকাকাফ থেকে প্লে অফ-এর মাধ্যমে - ১

    আয়োজক দেশ ১

    প্রশ্ন – তা হলে, মোট ৯ বিশ্বকাপ খেতাব নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ৬ দেশ আর একটিও খেতাব না-পাওয়া আফ্রিকা থেকে ৯ আর এশিয়া থেকে ৮ দেশ?

    উত্তর – হলে, অবাক হবেন না! কনকাকাফ থেকেও ৭ দেশ খেলতেই পারে মূলপর্বে। দক্ষিণ আমেরিকার দুর্ভাগ্য, মাত্র ১০ দেশই আছে তাদের ফিফা-স্বীকৃত ‘অঞ্চলে’। ফলে, ৬০ শতাংশ জায়গা দিয়েও মাত্র ৬ দেশই পাওয়া সম্ভব!

    প্রশ্ন – প্রতিযোগিতা এখন হয় ৩২ দেশকে ৮ গ্রুপে ভাগ করে। সেরা দুটি করে দল নিয়ে প্রথম ১৬ দেশ নিয়ে নকআউট। নতুন ফর্ম্যাটে কী হবে?

    উত্তর – ৪৮ দেশকে ভাগ করা হবে ১৬ গ্রুপে। প্রতিটি গ্রুপে তিনটি করে দেশ। গ্রুপ লিগে প্রতিটি দেশ খেলবে দুটি করে ম্যাচ। গ্রুপ লিগ শেষে প্রতি গ্রুপের প্রথম দুটি দেশ নিয়ে মোট ৩২ দেশের নকআউট পর্ব শুরু হবে। এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছলে প্রতিযোগিতায় মোট ৭টি ম্যাচ খেলতে হয়। নতুন ফর্ম্যাটেও ম্যাচের সংখ্যা থাকবে সেই সাতই। গ্রুপ লিগে একটি ম্যাচ কমে নকআউটে বাড়ছে আর একটি ম্যাচ।

    প্রশ্ন – ৩২ দেশের প্রতিযোগিতা চলে ৩২-দিন। ৪৮ দেশের প্রতিযোগিতা কতদিন চলবে?

    উত্তর – ফিফা প্রতিযোগিতার দিন বাড়াতে আগ্রহী নয়। এখন মোট ৬৪ ম্যাচ হয় বিশ্বকাপে। ৪৮ দল নিয়ে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে হবে ৮০। কিন্তু, ফিফা দিনসংখ্যা রাখতে চাইছে একই। ম্যাচের মাঝে বিশ্রামের দিনের সংখ্যাও একই থাকছে। অর্থাৎ, একদিনে ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে।

    প্রশ্ন – এমন করে লাভ?

    উত্তর – বিশ্বকাপ থেকে সম্ভাব্য লাভের পরিমাণ বাড়বে। আশা করা হচ্ছে, এক বিলিয়ন ডলার বেশি লাভ হবে। আজকের হিসাবে যা ভারতীয় টাকায় ৬ হাজার ৮২১ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা!

    প্রশ্ন – শুধু লাভ বাড়াতেই এই পদক্ষেপ?

    উত্তর – বড় কারণ তো বটেই। সঙ্গে, ফিফার নতুন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফানতিনোর গদি ধরে রাখার রাজনীতিও। সেপ ব্লাটারকে দুর্নীতির অভিযোগে সরে যেতে হয়েছিল যখন, দায়িত্ব নিয়ে ইনফানতিনো প্রথমেই জানিয়েছিলেন, ফিফার প্রতিটি সদস্য দেশকে ৫০ লক্ষ ডলার করে সাহায্য করবেন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ফুটবলের প্রসারের কাজে। সেই বাড়তি টাকাটা আসবে কোত্থেকে, যদি জোগান না বাড়ানো যায়? আর, হোয়াও আভেলানজে থেকে ব্লাটার যেমন করেছিলেন, বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা বাড়িয়ে গদি ধরে রাখা, ইনফানতিনোও হাঁটছেন সেই পথেই।

    প্রশ্ন – বিশ্বকাপে ফুটবলের মান কি বাড়বে?

    উত্তর – তা নিয়ে কার মাথাব্যথা? গ্রুপ লিগে দুটি করে ম্যাচ নির্ধারণ করে দেবে ভবিষ্যৎ, মানে নকআউটে যাওয়া যাবে কিনা। কোন্ দেশ আর সাধ করে আক্রমণে যাবে! গ্রুপ লিগে তিনটি ম্যাচ হলে তবুও যেটুকু চেষ্টা হত অন্তত প্রথম ম্যাচটা জেতার, এবার সেটাও বন্ধ। নকআউটে তো এখন প্রচলিত রীতিই হল বাসপার্কিং জিন্দাবাদ!

    No comments