• Breaking News

    প্রভাবে সেরা সোনি, জেজে-ডাফির জোড়া গোল

     

    মোহনবাগান - ৪ মিনার্ভা – ০


    (ডাফি ১৬, ৩২, জেজে ২৮, ৭৬)


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    [caption id="attachment_2849" align="alignleft" width="300"]sony প্রথম দিন মাঠে নেমেই দুটি গোলের পেছনে সোনির পা। ছবি - রনি রায়[/caption]

    আইএসএল-এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে আই লিগেও বহু দলের নামের শেষে এখন ‘এফসি’। ফুটবল ক্লাব তো বটেই, খেলায় ফুটবলের ছাপ কম, এই যা!

    ছ’জন অনূর্ধ্ব ২২ ফুটবলার প্রথম এগারয়। আই লিগে নবাগত মিনার্ভা পাঞ্জাব এফসি যে বিরাট প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে না, এ আর আশ্চর্য কী!

    কিন্তু, ফুটবলে সব সময় প্রত্যাশানুযায়ী ফল পাওয়া যায় না। মোহনবাগানের কৃতিত্ব, ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় থাকলেন ফুটবলাররা। প্রথমার্ধেই ৩-০ এগিয়ে ম্যাচ শেষ। দ্বিতীয়ার্ধে প্রচুর সুযোগ নষ্ট করে ব্যবধান বাড়ল আরও এক। তবে, এমন ম্যাচগুলো থেকে আরও বেশি গোল তুলে নিতে পারলে লিগের শেষদিকে গোল-পার্থক্য যখন বিচার্য হয়, সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা যায়।

    সোনি নর্দে মাঠ এলেন প্রথমবার। এসেই মোহনবাগান আক্রমণকে দিলেন দিশা। গোল পাননি। তাঁর শট বারে লেগেছে। আর একবার তো নিশ্চিত গোল সামনে পেয়েও বাইরে মেরেছিলেন, ঠিক যেমন হ্যাটট্রিকের সুযোগ হারিয়েছিলেন জেজে লালপেখলুয়াও, নিজের দ্বিতীয় গোলটি পাওয়ার পরই। দুটি গোলের পেছনে সরাসরি থাকল সোনির অবদান। মোহনবাগান সমর্থকদের ভরসা বাড়ল। ম্যাচের সেরার পুরস্কার তিনি পেলেই যথার্থ হত হয়ত। তবে, শুরু থেকে মাঠে নেমেই জোড়া গোল বলেই হয়ত জেজের হাতে উঠল সেই পুরস্কার।

    প্রতিটি ম্যাচেই শুরুর দিকে গোল পাচ্ছে মোহনবাগান। যেমন পেল তৃতীয় ম্যাচেও। বড় বক্সের ঠিক বাইরে বাঁদিকে সোনিকে ফাউল করেছিলেন লাভডে ওকেচুকু। ফ্রি কিক নেন সোনিই। বল বাঁক খেয়ে ছোট বক্সে ঢুকছে যখন ডাফি লাফিয়ে মাথা ঠেকিয়ে বলের দিক পরিবর্তন করিয়ে জালে পাঠান। মিনার্ভার দুই ডিফেন্ডার রমনদীপ ও লাভডে দাঁড়িয়ে দেখলেন!

    দ্বিতীয় গোলের সময় শৌভিক বল বাড়িয়েছিলেন শুভাশিসকে। সোনির সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে নেন শুভাশিস। বক্সে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। জেজে শুয়ে পড়ে পা লাগিয়ে এনে দেন মোহনবাগানের দ্বিতীয় গোল। তৃতীয় গোলের সময় কাতসুমির চিপ, বুঝতে ভুল করে এগিয়ে এসেছিলেন মিনার্ভার অনূর্ধ্ব ২২ গোলরক্ষক কমলদীপ সিং। ডাফি আগে পৌঁছন, ডান পায়ের টোকায় ফাঁকা গোলে ঠেলে দিতে ভুল করেননি স্কটিশ স্ট্রাইকার। চার গোল হয়ে গেল তিন ম্যাচে। এখন তিনিই আই লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

    জেজের দ্বিতীয় গোলের আক্রমণ শুরু জেজের পায়েই। প্রণয়কে দিয়েছিলেন, সেখান থেকে বিক্রমজিত। পেছন থেকে কমলদীপ আটকাতে চেয়েও পারেননি। বিক্রমজিৎ সামনে এগিয়ে দেন। মিনার্ভার গোলরক্ষক এগিয়ে এসেও বল ধরতে পারেননি ঠিকঠাক। জেজে ঠেলে দেন গোলে।

    ম্যাচে মোহনবাগানের এতটাই দাপট যে দেবজিৎকে প্রথম গোলমুখী বল ধরতে হল একঘন্টা হয়ে যাওয়ার পর! বার দুই যদিও মিনার্ভার ফুটবলারদের শট বারে লাগল, কিন্তু সেই অর্থে সত্যিই কোনও পরীক্ষা হল না মোহনবাগান রক্ষণ আর গোলরক্ষকের। যে কারণে ৮২ মিনিটে দেবজিৎকে তুলে শিল্টন পালকে মাঠেও নামালেন কোচ সঞ্জয় সেন।

    রেফারি ওম প্রকাশ ঠাকুরের পক্ষে সব কিছু দেখা সম্ভব নয়, ঠিক। কিন্তু, সহকারী রেফারি রিঙ্কাহাও ভাসুমের দেখা উচিত ছিল, মননদীপ সিং কীভাবে কনুই চালিয়েছিলেন আনাসের মুখে। বেশ খানিকক্ষণ মাঠে পড়েওছিলেন আনাস। পরে রেফারি তাঁকে হলুদ কার্ড দেখালেও, যেভাবে কনুই চালিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন মননদীপ, লাল কার্ড দেখার মতো অপরাধ নিঃসন্দেহে।

    তৃতীয় ম্যাচে প্রথম এগারয় পাঁচ পরিবর্তন করেও ৩ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে কলকাতার বাইরে বেরচ্ছে মোহনবাগান। সঙ্গে তিনটি ‘ক্লিন শিট’। তিন ম্যাচে ৭ গোল, একটিও গোল খায়নি। আই লিগে এমন শুরু আগে কি হয়েছে? পরের দুটি অ্যাওয়ে ম্যাচ যথাক্রমে চেন্নাই সিটি এবং ডিএসকে শিবাজিয়ান্সের বিরুদ্ধে। ৫ ম্যাচে ১৫ নিয়েই আই লিগ খেতাব ফিরে-পাওয়ার অভিযান শুরু করা উচিত সোনি-কাতসুমি-ডাফিদের!

    মোহনবাগান - দেবজিৎ (শিল্টন ৮৩) ; প্রীতম, এদুয়ার্দো, আনাস, শুভাশিস; কাতসুমি, শৌভিক (বিক্রমজিৎ ৬৫), প্রণয়, সোনি; জেজে, ডাফি (বলবন্ত ৮০)

    No comments