• Breaking News

    দেবজিৎ-বিতর্কে স্টিফেনকে ধিক্কার সঞ্জয়ের

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য ● শিলিগুড়ি


    ‘ক্লাব বনাম দেশ’ যুদ্ধটা লেগেই গেল!

    ক্লাব তাঁকে ছাড়েনি বলেই বিতর্ক। ফলে, সাহায্যের হাত পুরোপুরি বাড়িয়ে দিল সেই ক্লাবই। বলা উচিত, ক্লাবের কোচ।

    ভারতের জাতীয় ফুটবল দলের কোচ স্টিফেন কনস্টান্টাইন রবিবার বলেছিলেন, যেহেতু তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে জাতীয় দলের শিবিরে যোগ দেননি দেবজিৎ, তিনি আর দেবজিৎকে জাতীয় দলের জন্য ভাবছেন না।

    সোমবার দুপুরে মুম্বইয়ের বিমান ধরার আগে মোহনবাগানের কোচ সঞ্জয় সেন সম্পূর্ণ ‘যুদ্ধং দেহি’ মেজাজে। বললেন, ‘জাতীয় দলের কোনও কোচ এমন কথা বলতে পারেন, ভাবতেই কোচ হিসাবে লজ্জিত বোধ করছি। যে কোনও প্রতিভাবান ফুটবলারেরই স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলের হয়ে খেলার। সেই স্বপ্নটাকে সামনে রেখেই তারা পারফর্ম করে, এগিয়ে নিয়ে যায় নিজেদের। কিন্তু, জাতীয় কোচ কী করে এভাবে স্বপ্নটা ভেঙে দিতে পারেন? ধিক্কার জানাচ্ছি এমন মন্তব্যকে। ভারতে তো বটেই, বিশ্বের কোনও দেশে কখনও কোনও জাতীয় দলের কোচ কোনও প্রতিভাবান ফুটবলার সম্পর্কে এমন মনোভাব দেখিয়েছেন বলে শুনিনি, জানা নেই।’

    গত বছর স্টিফেন যখন দেবজিৎকে জাতীয় দলের শিবিরে ডেকেছিলেন, আই লিগে  আইজলের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ে ম্যাচ ছিল মোহনবাগানের। তখনও আই লিগের খেতাবি যুদ্ধে তরতর করে এগোচ্ছিল পালতোলা নৌকো, বেঙ্গালুরু এফসি-র সঙ্গে। তাই, সেই সময় দেবজিৎকে ছাড়া হয়নি। জাতীয় দলের কোচ যে সেই সিদ্ধান্তে এতটা চটে ছিলেন, পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল শিলিগুড়িতে ডার্বি শেষে। রাখঢাক না করে স্টিফেন জানিয়ে দিয়েছিলেন, মোটেও তিনি ভাল চোখে নেননি ব্যাপারটা।

    মোহনবাগান সমর্থকদের একটা বিরাট অংশ মনে করছে, শিলিগুড়ি ডার্বি-তে ম্যাচের সেরা হিসাবে বাগান-গোলরক্ষক দেবজিতকে বেছে না নিয়ে রেহনেশকে পুরস্কার দেওয়ার পেছনেও নাকি ছিল স্টিফেনের অদৃশ্য হাত!

    তাঁদের দাবি, দেবজিৎ বেশি ভাল খেলেছিলেন রেহনেশের তুলনায়। কিন্তু, ম্যাচের সেরা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ম্যাচ কমিশনার। আর ম্যাচ চলাকালীন কমিশনারের বক্সেই ছিলেন স্টিফেন। দেবজিতকে হয়ত সেই কারণেই ম্যাচের সেরার পুরস্কারও দেওয়া হল না। দুই গোলরক্ষকই ম্যাচে অন্তত দুবার করে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছিলেন, ঘটনা। স্টিফেনের দেবজিৎ-সংক্রান্ত মনোভাব প্রকাশ্যে আসার পর বাগান সমর্থকদের অবশ্য কোনও দ্বিধা নেই জানাতে যে, জাতীয় কোচের পরোক্ষ প্রভাবেই ম্যাচ কমিশনারের ভোট গিয়েছিল রেহনেশের পক্ষে।

    মাঠের খেলা যতই অনাকর্ষণীয় হোক, মাঠের বাইরের লড়াইটার পরিধি বেড়ে গেল এখন মোহনবাগানের। প্রতিপক্ষ হিসাবে যেহেতু এখানে মোহন-কোচের সামনে জাতীয়-কোচ!

    No comments