• Breaking News

    শেষ পাঁচ সপ্তাহে সবচেয়ে হতাশাজনক ম্যাচ, মানলেন মর্গ্যান | কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    ● শিলিগুড়ি - ট্রেভর জেমস মর্গ্যানের ইস্টবেঙ্গলের আই লিগে শুরুটা বরাবরই বেশ ভাল। যত সময় যায়, ক্রমশ ফুরিয়ে আসে রসদ। পয়েন্ট হারানোর খেলা শুরু হয়ে যাওয়ার পর আর সেই ধারা আটকাতে পারেন না কোচ, বলছে তাঁর অতীত।
    এবার এখনও পর্যন্ত হারেনি, ঠিক। কিন্তু, টানা ছয় ম্যাচ জেতার পর ছন্দ হারিয়েছে। বিপক্ষের গোলের সামনে পরিকল্পনাহীন। নিজেরা গোল খাচ্ছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। বিপজ্জনক প্রবণতা!
    কোচ মর্গ্যান চিন্তিত, পরিষ্কার সাংবাদিক সম্মেলেন। ফুটবলারদের পাশে থাকেন বলেই পরিচিতি তাঁর। কিন্তু বুধবার কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে মিডিয়ার সামনে দৃশ্যতই হতাশ মর্গ্যান মেনে নিলেন, শেষ পাঁচ সপ্তাহে সবচেয়ে হতাশাজনক ম্যাচ খেলল তাঁর দল।
    ‘ফুটবলাররা নিজেরাই তাদের পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলে আসে। এখন নিজেরাই দলের বাইরে চলে যাচ্ছে পারফরম্যান্সেই! ৬ পয়েন্ট না হলেও অন্তত ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে চেয়েছিলাম। পেলাম ২ পয়েন্ট শুধু। হতাশ তো বটেই’, বললেন মর্গ্যান।
    খুশি নন। কী করেই বা হবেন? যেভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গোল খেল রক্ষণ, কোচ হিসাবে নিরাশা স্বাভাবিক। ‘ক্রস আসছে বক্সে, ওভাবে রক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখবে? আমাদেরও কিছুই ঠিকঠাক হয়নি। শুরুটা ভাল হয়েছিল। প্রথম পনের মিনিট বেশ গুছিয়ে খেলছিলাম। কিন্তু তারপর যা যা হল, খুব তাড়াতাড়ি সেগুলো পাল্টানো জরুরি।’
    লাজংকে তিনি এখনও হারাতে পারেননি, ইস্টবেঙ্গলে তাঁর দ্বিতীয় ইনিংসে। তা হলে, লাজংই কি তাঁর কাছে সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ এখন? মর্গ্যান তা-ও মানেননি। তবে, ব্যাখ্যাও দেননি, কেন বারবার আটকে যাচ্ছেন।
    তাঁকে এখন যা ভাবাচ্ছে, বিপক্ষ বক্সে পৌঁছে তাঁর ফুটবলারদের ক্ষণিকের সিদ্ধান্তহীনতা। ‘যখন ওই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া জরুরি মাঠে, সেই সময়েই পারছে না। বল পায়ে থাকছে, কিন্তু কী করবে বুঝতে না পেরে আরও একটা পাস খেলে ফেলছে হয়ত। যে-কারণে আক্রমণের সম্ভাবনা দানা বাঁধতে পারছে না। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে,’ মনে করছেন মর্গ্যান।
    অস্ট্রেলীয় পেইনের প্রথম দিনের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট নন, যদিও খুব বেশি সমালোচনাও করেননি। পেইনের ফিটনেস সংক্রান্ত প্রশ্নে তাঁর জবাব, ‘প্রাক-মরসুম অনুশীলন করে এসেছে। খেলেছিল গোটা চারেক ম্যাচও। তবে যে লিগে খেলেছিল আর এখানে যে লিগে খেলছে, দুটোর মধ্যে পার্থক্য তো রয়েইছে।’
    দলে কি তা হলে পরিবর্তন হবে? সেট-টিম নিয়ে খেলতে অভ্যস্ত কোচ। সচরাচর পরিবর্তন করতে চান না। কিন্তু, তাঁর দলের ফুটবলাররাই যখন জায়গা ধরে রাখতে পারছেন না, হয়ত নিজেকেও পাল্টাবেন মর্গ্যান এবার। রোমিও ফেরনান্দেস, রোওলিন বোর্জেসদের জায়গা হতেই পারে প্রথম এগারয়!
    লাজং কোচ খুশি নিজের দলের পারফরম্যান্সে। ‘ইস্টবেঙ্গলের মতো বড় দলের বিরুদ্ধে এক পয়েন্ট পাওয়া সবসময় বড় ব্যাপার। আমরা এগিয়ে ছিলাম। লিড ধরে রাখতে পারিনি হয়ত। পারলে আরও ভাল হত। কিন্তু, লিগের শীর্ষে থাকা দলের বিরুদ্ধে সবসময় যা চাইছি, করে দেখানো সম্ভব হয় না। খুব খুশি দলের ফুটবলারদের খেলায়।’ এই ম্যাচ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস ভবিষ্যতে আরও ভাল খেলতে সাহায্য করবে, তাঁর বিশ্বাস।

    No comments