• Breaking News

    বড় ম্যাচে জিতল ‘না-হারা’র ইচ্ছে! - কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    ইস্টবেঙ্গল - ০ মোহনবাগান - ০


    শিলিগুড়ি, ১২ ফেব্রুয়ারি


    হাইভোল্টেজ ম্যাচ। হাইপার টেনশন। মরসুমের প্রথম ডার্বি।
    গর্জন ছিল, ‘শীত-শেষে’র আকাশ বর্ষাল না! শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত আই লিগের দ্বিতীয় ডার্বি নিষ্ফলা।
    আভাস ছিলই। দুই দল এত গায়ে-গায়ে, পার্থক্যে হাতে ‘পেনসিল’-ও থাকছে না, বলা ছিল প্রিভিউতেই। সবে অষ্টম এবং সপ্তম ম্যাচ খেলল ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান, যথাক্রমে। এই ম্যাচের আগে হারেনি একবারও। তাই জিতে গেল ‘না-হারা’র ইচ্ছে। ফিরতি ম্যাচে সর্বস্ব দিয়ে তিন পয়েন্টের জন্য ঝাঁপানো যাবে। আপাতত এক পয়েন্টই সই! তা ছাড়া, বেঙ্গালুরু যে হারে অন্যান্য ম্যাচেও পয়েন্ট হারাচ্ছে, কলকাতার দুই দল ‘সই’ তো পাতিয়ে নিতেই পারে! লিগ খেতাবের দৌড়ে থেকে যাওয়া যাচ্ছে যখন, শীর্ষ দুই স্থানে।
    সোনি নর্দে ততটা সুস্থ ছিলেন না। ফলে, ছিলেন না স্বভাবসিদ্ধ ছন্দে। ডার্বিতে গোল এখনও অধরাই থেকে গেল তাঁর। কর্নারটা যেমন রেখেছিলেন সরাসরি গোলে, বাঁচিয়ে দিয়ে ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিয়ে গেলেন রেহনেশ। ইস্টবেঙ্গলের তিন বিদেশিরই প্রথম ডার্বি। প্লাজা-ওয়েডসন দুজনকেই গোল করতে দিলেন না দেবজিৎ। রক্ষণে বুকেনিয়াকে তেমন পরীক্ষার মুখে পড়তে না হলেও এদুয়ার্দো প্রায় নিখুঁত। যদিও, তাঁর কারণেই প্লাজা নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন। আর, এই ম্যাচটা যত শীঘ্র সম্ভব ভুলে যেতেই চাইবেন জাপানি কাতসুমি।
    দেশীয় ফুটবলারদের মধ্যেও আশার বাড়তি কিরণ জেগেছিল যাঁদের নিয়ে, মোটামুটি ব্যর্থই। দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে ডার্বিতে সবচেয়ে বেশি গোল রবিন সিংয়ের। একটা ব্যাকহেড, প্রাপ্তি। কোচ তুলে নিতে বাধ্য হলেন। জেজে এই মাঠেই গতবার পেনাল্টি আদায় করেও গোল করতে পারেননি। তাঁর পারফরম্যান্সও তথৈবচ।
    ম্যাচের আগে দু-দলের রক্ষণ নিয়ে চিন্তা ছিল। দুই কোচই দেখা গেল জোর দিয়েছেন এতটাই, দুদলের রক্ষণ সসম্মানে পাস পরীক্ষায়। তুলনায় মোহনবাগানের মাঝমাঠ খুব সামান্য, সাড়ে উনিশ-বিশ এগিয়ে থাকল এই ম্যাচে, প্রণয় ও শৌভিকের কারণে। ডিকা নিজের ছন্দে না-থাকার কারণে ইস্টবেঙ্গল মাঝমাঠ থেকে প্রয়োজনীয় বল এল না।
    ফুটবল দুটো অর্ধের খেলা, বিশেষজ্ঞরা বলেন। শিলিগুড়ির ম্যাচও পরিষ্কার বিভক্ত থাকল দুই অর্ধে। প্রথমার্ধে খানিকটা এগিয়ে মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গল সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে দিল দ্বিতীয়ার্ধে।
    প্রথমার্ধে দুবার কর্নার থেকে বিপজ্জনক মুহূর্ত সৃষ্টি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল গোলমুখে। মোহনবাগান দ্বিতীয় কর্নার পেয়েছিল ১৪ মিনিটে। কাতসুমির কর্নারে বল বের করে দেওয়ার চেষ্টায় রবিনের হেড থেকে বল পেয়েছিলেন সোনি। বল ধরে বাইলাইনে চলে গিয়ে সেন্টার রেখেছিলেন সোনা, যা থেকে শট তিনকাঠিতেই রেখেছিলেন প্রীতম। কিন্তু রেহনেশ সতর্ক ছিলেন।
    পরে, ৩৪ মিনিটে সোনির কর্নার সরাসরি গোলে ঢোকার মুখে বাঁচিয়ে দেন রেহনেশ। ফিরতি বলে এদুয়ার্দোর শট সাইড নেটে। দ্বিতীয়ার্ধে বার দুয়েক কাতসুমি ও ডাফির শট, দুবারই গুরবিন্দরের বাড়ানো পায়ে লেগে বাইরে যায়। রেহনেশ অবশ্য প্রথম পোস্টে নিজের জায়গাতেই ছিলেন। সঙ্গত কারণেই তিনি ম্যাচের সেরার পুরস্কার পেলেন বাইচুং ভুটিয়া ও রেনেডি সিংয়ের হাত থেকে।
    আবার, ইস্টবেঙ্গলের ওয়েডসন প্রথমার্ধেই দুর্দান্ত থ্রু বাড়িয়েছিলেন প্লাজাকে। কিন্তু প্লাজার শট সোজা দেবজিতের হাতে। সেই প্লাজাই ৫৭ মিনিটে ম্যাচের সেরা সুযোগ নষ্ট করেছিলেন বলাই শ্রেয়। মাঝমাঠ থেকে একটা উঁচু বল, রবিন ব্যাকহেড করে পাঠিয়েছিলেন মোহনবাগান বক্সে। এদুয়ার্দোর ক্ষণিকের সিদ্ধান্তহীনতা। বল বের করে দেননি। পেছন থেকে নিঃশব্দে এগিয়ে এসে বলের দখল পেয়ে যান প্লাজা। সামনে একা দেবজিৎ, ছ-গজের বক্সে। প্লাজার শট দেবজিৎ বাঁচিয়ে দেন। বড় ম্যাচে এমন সুযোগ কিন্তু বারবার আসে না।
    যেমন ৮৪ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ডিকার লং বল প্রায় পেয়ে গিয়েছিলেন ওয়েডসন। কিন্তু প্রথম টাচ ঠিক না হওয়ায় বল বেরিয়ে যায়, আগুয়ান দেবজিতের ধরতে কোনও অসুবিধাই হয়নি।
    সুতরাং, ম্যাচ থেকে প্রাপ্তি বলতে এক পয়েন্ট আর অপরাজিত আখ্যা না-হারানো, কলকাতার দুই ক্লাবের। মোহনবাগান শিলিগুড়ি ছাড়ছে সোমবার সকালেই, গন্তব্য মুম্বই। ইস্টবেঙ্গল আরও দিন তিনেক থাকবে ‘গেটওয়ে অফ ডুয়ার্স’-এ, শিলং লাজং ম্যাচ খেলে ফিরবে।
    এক পয়েন্টের ম্যাচ শেষ। আবার ফিরে যাওয়া তিন পয়েন্টের লক্ষ্যে!


    ইস্টবেঙ্গল – রেহনেশ, রাহুল, গুরবিন্দর, বুকেনিয়া, নারায়ণ, ডিকা, মেহতাব, ওয়েডসন, নিখিল, প্লাজা, রবিন (হাওকিপ, ৬৭)।
    মোহনবাগান – দেবজিৎ, প্রীতম, এদুয়ার্দো, আনাস, শুভাশিস, কাতসুমি, প্রণয়, শৌভিক, সোনি (প্রবীর ৮৬), জেজে (বলবন্ত, ৭৫), ডাফি।
    রেফারি – রামস্বামী শ্রীকৃষ্ণ

    No comments