• Breaking News

    রবিনের ২, ওয়েডসনের দুর্ধর্ষ গোলে বেঙ্গালুরু-বিজয় ইস্টবেঙ্গলের

    বেঙ্গালুরু – ১ ইস্টবেঙ্গল – ৩
    (বিনীত ৮৪) (ওয়েডসন ২৩, রবিন ৫৪, ৫৯)


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    বোঝা সহজ, ইউরোপের ক্লাব ফুটবল এখন তিনি নিয়মিত দেখেন! দু-ম্যাচে তিন গোল দিলেন পুরনো দলকে। কিন্তু, উৎসবে মাতলেন না, আগেই হাততুলে জানিয়ে দিলেন, ‘বেশি নাচানাচি করছি না, আমার পুরনো দল তো!’
    কান্তিরভায় রবিন সিং উৎসব না করলে কী হবে, ইস্টবেঙ্গল জনতার তেমন কোনও বাধা ছিল না। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়েও ২-১ হারিয়েছিল। এবার বেঙ্গালুরুতে গিয়ে জয়। এবং জয়ের রাস্তায় ফিরে আবার উঠে-আসা লিগের শীর্ষে। কয়েক ঘন্টার জন্য যে-জায়গাটা হারাতে হয়েছিল আইজল এফসি-র কাছে।
    কিন্তু, রবিনের জোড়া গোলেরও আগে ওয়েডসনের গোল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বুকেনিয়ার লং পাস ধরে বিপক্ষ বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁপায়ের বাঁকানো শটের গোলে সত্যিই ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের ঝলক। সেই সময় বেঙ্গালুরুরই প্রাধান্য ছিল। অপ্রত্যাশিত গোল ঘুরিয়ে দিয়েছিল খেলার মোড়। তারপরও বেঙ্গালুরুই বেশি আক্রমণ করলেও ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ গোল খায়নি, বিরতির বাঁশির আগে।
    বিরতির পর ম্যাচের সেরা রবিন তিন পয়েন্ট পাওয়া নিশ্চিত করে ফেলেন পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে। ৫৪ মিনিটে রবার্টের সেন্টারে লাফিয়ে মাথা ঠেকিয়ে। পরের বার রফিকের ক্রস বক্সের মধ্যে পেইনের কাছে। নিজে হেড না দিয়ে বুকে করে নামিয়ে দিয়েছিলেন পেইন, আগুয়ান রবিনের জন্য। রবিনের বাঁ পায়ের শট জালে। পেইন নিজে চেষ্টা না করে ঠিকই করেছিলেন। কারণ, প্রথমার্ধে বেঙ্গালুরুর গোলরক্ষক অরিন্দম ভট্টাচার্যকে একা গোলের সামনে পেয়েও পরাস্ত করতে পারেননি।
    বেঙ্গালুরু ফিরে আসার চেষ্টা করেছিল ইস্টবেঙ্গল রোওলিন বোর্জেস ও অধিনায়ক রবার্টকে তুলে নেওয়ার পর। সেই চেষ্টার ফলে বিনীতের একটি গোল এবং তারপর তেড়েফুঁড়ে আরও গোল করার চেষ্টা গতবারের চ্যাম্পিয়নদের। বেশ কয়েকবার দূর থেকে চেষ্টাও করেছিলেন বেঙ্গালুরুর প্রায় সবাই। ৬ মিনিটের ইনজুরি টাইম পেলেও ব্যবধান কমেনি। ১০ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে খেতাব ধরে রাখার লড়াই থেকে প্রায় ছিটকেই গেল বেঙ্গালুরু, বোধহয় বলে দেওয়া যায় এখন। শীর্ষে-থাকা ইস্টবেঙ্গলের (২৪) সঙ্গে এখন সুনীলদের পয়েন্টের পার্থক্য ১১।
    তবে, নিজেদের পারফরম্যান্সে যে একেবারেই হতাশ বেঙ্গালুরুর ফুটবলাররা, প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে তাঁদের আচরণে। যেভাবে সুনীল ফাউল করেছিলেন রফিককে এবং তারপর প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রেফারির ওপর, লাল কার্ড প্রাপ্য ছিল। এভাবে মেজাজ তখনই হারান তারকারা যখন প্রত্যাশানুযায়ী খেলতে পারেন না। খেলা শেষেও তাই ধস্তাধস্তি দেখা গেল সাইডলাইনের ধারে, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। তিন বছরে দুবার আই লিগ খেতাব আর এএফসি কাপের ফাইনালে পৌঁছনোর পর চতুর্থ আই লিগের মাঝপথেই যদি খেতাবের স্বপ্নটাকে ‘টা টা’ করে ফেলতে হয়, মেজাজ হারানো স্বাভাবিকও হয়ত!
    দুই দলের ৮ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে পাঁচবার জিতল ইস্টবেঙ্গল। আর এবারের আই লিগে ১১ ম্যাচে সপ্তম জয় ট্রেভর জেমস মর্গ্যানের দলের। কিন্তু, ৪ মার্চ আবার পাহাড়ে, শিলং লাজংয়ের বিরুদ্ধে। আইজলে পা ফস্কানোর পর নিশ্চিতভাবেই বাড়তি সতর্ক থাকবেন মর্গ্যান।


    ছবি ইস্টবেঙ্গল সমাচার-এর ফেসবুক পেজ থেকে

    No comments