• Breaking News

    তিন দু’গুণে ছয় গোল, ডাফিই শীর্ষে!

    মোহনবাগান - ৩ আইজল – ২
    (ডাফি ২, ৮৪ পে্, জেজে ৬৩) (রানে ৪১, আশুতোষ ৭০)


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য - এএফসি কাপের ম্যাচের জন্য সবুজ-মেরুন বাকেট-চেয়ার বসানো হয়েছে রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে। সেই গ্যালারির সামনে, সবাই তখনও ভাল করে বসেনওনি হয়ত! কাতসুমি কেড়ে নিলেন বল, বাঁদিকের প্রান্তরেখা বরাবর। বলটা রেখে দিলেন বক্সে। নিচু হয়ে পড়ছে যখন, ড্যারিল ডাফিও নিচু হয়ে শরীর ছুড়ে হেড দিলেন, কিংসলে এজের পাশ থেকেই। দুরূহ কোণ থেকে দ্বিতীয় পোস্টে রাখলেন বল যখন, ঘড়ি বলছে ৬৫ সেকেন্ড। এবারের আই লিগের দ্রুততম গোল!
    ডাফির পঞ্চম গোল। আই লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে সিকে বিনীতকে ধরে ফেললেন মোহনবাগানের স্ট্রাইকার। মনে করা হয়েছিল, দ্রুত গোল পেয়ে যাওয়ায় মোহনবাগান বোধহ্য় সহজেই জিতবে, ঘরের মাঠে। জিতলও, কিন্তু বড্ড কষ্ট করে!
    জয়ের গোল এল পেনাল্টি থেকে। বাঁদিক থেকে আবার্ কাতসুমি ঢুকে পড়েছিলেন বক্সে। এবার আশুতোষ মেহতা পেছন থেকে জার্সি ধরে ফেলেছিলেন। কাতসুমি পড়ে যান, বক্সে। পেনাল্টি! ডাফি ধরের রাখলেন এবারের আই লিগে তাঁর জোড়া গোলের ট্র্যাডিশন। আলবিনো গোমস ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু, ডাফির শট নিখুঁত পেনাল্টির নিদর্শন। ব্যক্তিগত ষষ্ঠ গোল। আই লিগে এখন তিনিই সর্বো্চ্চ গোলদাতা।
    খালিদ জামিলের আইজল এফসি অবশ্য ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল। এগোয়নি একবারও। কিন্তু পিছিয়ে পড়েও সমতা ফিরিয়েছিল দুবার। প্রথম গোল ৪১ মিনিটে। লালমুয়ানকিমার দুরন্ত থ্রু-তে কেটে গিয়েছিল মোহনবাগান রক্ষণ। আইভরি কোস্টের বাইকামো স্টেফান বল বাড়িয়ে দেন আগুয়ান জয়েশ রানের জন্য। রানে ভুল করেননি ১-১ করতে। দ্বিতীয় গোলের পেছনেও জয়েশই। তাঁর কর্নারে সব মাথা ছাড়িয়ে উঠলেন আশুতোষ মেহতা। হেড জালে। দেবজিতের কিছু করারই ছিল না।
    মোহনবাগান তার আগেই এগিয়ে গিয়েছিল, প্রবীরের সেন্টারে জেজের গোলে। পেছন থেকে প্রণয় হালদার দেখে ফেলেছিলেন প্রবীরকে দৌড়তে। তাঁর পাঠানো থ্রু প্রবীর ধরেন অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে। মাঝখান দিয়ে তখন এগিয়ে এসেছিলেন জেজে। ম্যাচে ওই একবারই প্রবীর পাসটা রাখলেন ঠিকঠাক। জেজের গোল করতে কোনও অসুবিধাই হয়নি।
    ৬৪ মিনিটে আবার প্রবীরের মিস। সামনে একা গোলকিপার গোমস। ছোট বক্সের মধ্যে থেকে বাঁপায়ে বারের ওপর দিয়ে বল পাঠালেন। প্রথমার্ধেও আর একবার অনুরূপ পরিস্থিতিতে বাঁপায়েই শট নিয়েছিলেন। সে বার অবশ্য শুভাশিসের সেন্টার গোলরক্ষকের হাত ঘুরে এসেছিল প্রবীরের পায়ে। কিন্তু প্রবীরের বাঁপায়ের শট গোলের ধারেকাছে ছিল না! তবুও প্রবীরই ম্যাচের সেরা! হয়ত ওই দ্বিতীয় গোলের পাসটার জন্যই।
    খালিদ জামিল কোচ হিসাবে থাকলে মাঠে একটু-আধটু মেজাজ হারানোর ঘটনা ঘটে, ভারতীয় ফুটবলে ময়দানি প্রবাদ! শনিবার অবশ্য দু-দলই মাঝেমাঝে মেজাজ হারাল। তবু, অ্যাটাকিং থার্ডে আইজল এফসি-র কিছু ডিফেন্সচেরা পাস মুগ্ধ করার মতোই। বিশেষ করে প্রথম গোলের মুভমেন্ট তো বহুদিন মনে রাখবেন দর্শকরা।
    কলম্বো থেকে এএফসি ম্যাচ খেলে আসার ক্লান্তি কি একটু হলেও ধরা পড়ছিল মোহনবাগানের খেলায়? কিন্তু, সোনি নর্দে-কে ছাড়াই পরপর দুটি ম্যাচ জিতে, আর আই লিগেও টানা ষষ্ঠ ম্যাচে অপরাজিত থেকে, নিশ্চিতভাবেই বাড়তি আত্মবিশ্বাস সবুজমেরুন শিবিরে। তুলনায় কঠিন দিনেও ম্যাচ বের করে আনা বুঝিয়ে দেয়, সঞ্জয় সেনের দল এগোচ্ছে ঠিক পথেই।
    ৬ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে আপাতত সমান মোহনবাগান। গোল-পার্থক্যে শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল। আই লিগের আর একটি ম্যাচ খেলবে ইস্টবেঙ্গল, রবিবার বারাসতে। তারপরেই কলকাতার দুই প্রধান শিলিগুড়িতে মুখোমুখি ১২ ফেব্রুয়ারি, বড় ম্যাচে।
    মোহনবাগান - দেবজিৎ ; প্রীতম, কিংশুক (বিক্রমজিৎ জুনিয়র ৪৫), আনাস, শুভাশিস; কাতসুমি, শেহনাজ (প্রণয় ৫৫), বিক্রমজিৎ (শৌভিক ৮২), প্রবীর; জেজে, ডাফি

    No comments