• Breaking News

    ম্যাচে প্রায় না-থেকেও আবার নায়ক মেসি

    সিমিওনের আতলেতিকোকে আবারও হারাল বার্সেলোনা


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    ম্যাচে তিনি ছিলেনই না প্রায়। ম্যাচ শেষে তিনিই নায়ক!

    পরপর দু-সপ্তাহে বার্সেলোনা এবং লুইস এনরিকে-কে বাঁচিয়ে রাখলেন লিওনেল মেসি। আগের সপ্তাহে লেগানেসের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে এনে দিয়েছিলেন তিন পয়েন্ট। পরের রবিবার, আরও কঠিন ম্যাচে, আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে এনে দিলেন আরও তিন পয়েন্ট, ৮৬ মিনিটে গোল করে। অন্তত কয়েক ঘন্টার জন্য লা লিগায় শীর্ষে তুলে রাখলেন বার্সেলোনাকে, ২৪ ম্যাচে ৫৪ পয়েন্টে।

    কিন্তু ম্যাচে তিনি ততটাই ছায়ায় ঢাকা যতটা মেসির নিজের গোলের উৎসব। আগের দিনও করেননি, এবার আতলেতিকোর বিরুদ্ধে গোলের পরও বিরত থাকলেন। আসলে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউটে প্রথম পর্বে পিএসজি-র কাছে ০-৪ হারের পর মরসুমই বোধহয় শেষ হয়ে গিয়েছে আর্জেন্তিনার অধিনায়কের কাছে। তাই, গুরুত্বপূর্ণ গোলের পরও সামলে রাখছেন নিজেকে।

    নিজেদের মাঠে আতলেতিকো মাদ্রিদ শুরু করেছিল দুরন্ত। প্রথমার্ধে বার্সেলোনাকে আটকে রেখেছিল নিজেদের অর্ধেই। এক-দুবার হয়ত আক্রমণে এসেছিলেন নেইমার-সুয়ারেজরা। কিন্তু বার্সেলোনাকে ম্যাচে রেখে দিচ্ছিলেন গোলরক্ষক টের স্টেজেন। অন্তত তিনবার তাঁর কারণেই বার্সেলোনা গোল খায়নি। গ্রিজমান-গামেইরোরর আক্রমণ, গাবি-কোকে-সাউল-কারাসকোর মাঝমাঠ বিন্দুমাত্র স্বস্তি দেয়নি বার্সেলোনাকে। ইচ্ছেমতো আক্রমণে যাচ্ছিলেন গ্রিজমানরা। পিকে-উমতিতি-ম্যাথিউ, তিন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারকেই রেখেছিলেন এনরিকে, প্রধানত ম্যাথিউর উচ্চতাও কাজে লাগিয়ে আতলেতির সেট পিস আটকাতে। সেই কারণেই ম্যাথিউ আহত হওয়ার পরও বোধহয় আলবা-কে নামাননি। কিন্তু, মাঝমাঠে ক্রমাগত তাড়া, বার্সেলোনার মতোই ডিফেন্সের ‘হাই লাইন’ দিয়ে মাঠ ছোট করে অসম্ভব গতিতে আক্রমণের চেষ্টায় নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিল দিয়েগো সিমিওনের আতলেতিকো। সেই সময়ে বার্সেলোনার ‘হিটম্যাপ’ বলছিল, নিজেদের অর্ধ পেরতেই বিরাট সমস্যায় ছিল বার্সেলোনা।

    অবস্থা বদলায় দ্বিতীয়ার্ধে যখন আতলেতির ফুটবলাররাও পারফরম্যান্সে প্রথমার্ধের সেই তীব্রতা ধরে রাখতে পারেননি। বার্সেলোনা ক্রমশ খেলায় ফেরে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে কয়েক মিনিটের জন্য বার্সেলোনার সেই পাসিং গেম খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল, যেখানে বল পায়ে রাখা শুধুই পজেশন-এর জন্য ছিল না। পাসিংয়ে ফিরতে চেয়েছিল নিজেদের পরিচিত ছন্দে। আতলেতিও ফিরতে চেয়েছিল। বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট পেছনে থাকায় নিজেদের মাঠে জেতার তাগিদটাও বেশি ছিল তাদের। যদিও সেই সম্ভাবনায় প্রতম ধাক্কা দেয়ে বার্সেলোনাই।

    নেইমার শট নিয়েছিলেন। আতলেতি বক্সে এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল গিয়েছিল সুয়ারেজের পায়ে। তিনিও শট নেন যা আর এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বক্সের মধ্যে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা রাফিনিয়ার দিকে। ডান পায়ের শটে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন রাফিনিয়া, ৬৪ মিনিটে।

    আতলেতিক ম্যাচে ফিরে আসে ৭০ মিনিটে। বুসকেতস ফাউল করেছিলেন। ফ্রি কিক নেন কোকে। আর বার্সেলোনা রক্ষণে তিনজন ডিফেন্ডারকে পেরিয়ে হেড উরুগুয়ের দিয়েগো গোদিনের, যা টার স্টেজেন বোঝার আগেই তাঁকে পেরিয়ে জালে।

    শেষে মেসির গোল। তা-ও ডানপায়ের শট প্রথমে আটকে গিয়েছিল। শট নিজের কাছে আসছে ভেবে মাটিতে প্রায় পড়ে গিয়েছিলেন ওবলাক, ম্যাচে মেসির আগে একমাত্র অবদান দুর্দান্ত ফ্রি কিক গোলে ঢোকার মুখে শরীর বাতাসে ছুড়ে তুলে দিয়েছিলেন বারের ওপর দিয়ে। ওবলাক নিজেকে সামলে নেওয়ার আগেই মেসির তৎপরতা এনে দিল গোল। নিজে এগিয়ে বাঁপায়ের টোকায় আগুয়ান ওবলাকের পাশ দিয়ে ঠেলে দেন।

    লা লিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেনই। আরও একটি বাড়ল। এখন তাঁর গোল ২০টি। টানা ৯ মরসুম লা লিগায় তিনি ২০ বা ততোধিক গোল করলেন। মেসি সম্পর্কিত পরিসংখ্যানগুলো এখন প্রায় সবই এমন অতিমানবিক!

    No comments