• Breaking News

    ৯ জনের বার্সেলোনা কোনওরকমে ফাইনালে

    ৩ লাল কার্ড, পেনাল্টি-মিস, গোল-বাতিলের ভুল সিদ্ধান্ত, বিতর্ক, ফাইনালে নেই সুয়ারেজ-রোবের্তো


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    suarez-red-card

    ‘অ্যাওয়ে’ সেমিফাইনালে জিতে এগিয়ে থেকেই ঘরের মাঠে দ্বিতীয় পর্বে খেলতে নেমেছিল বার্সেলোনা। কোপা দেল রে-র সেমিফাইনালে দ্বিতীয় পর্বে অবশ্য আতলেতিকো দে মাদ্রিদ তুলনায় খেলল ভাল!

    তবে, মরসুমে সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েও টানা তৃতীয়বার বার্সেলোনাকে লা কোপা-র ফাইনালে পৌঁছন থেকে আটকাতে পারলেন না দিয়েগো সিমিওনের ফুটবলাররা। ১-১ ড্র ম্যাচ। আগের পর্বে ভিসেন্তে কালদেরনে বার্সেলোনা ২-১ জিতে থাকায়, দু-পর্ব মিলিয়ে ৩-২ জিতে ফাইনালে বার্সেলোনা।

    ফাইনালে অবশ্য দুজনকে পাবেন না লুইস এনরিকে। রাইট ব্যাক রোবের্তো ও স্ট্রাইকার সুয়ারেজ। দুটি করে হলুদ কার্ড দেখে দুজনেই লাল কার্ড দেখলেন কাম্প নু্-তে। বিশেষত, সুয়ারেজের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড নিয়ে প্রচুর বিতর্ক। বার্সেলোনার জার্সি পরে প্রথম লাল কার্ড সুয়ারেজের। কোচ এনরিকে বলেছেন, ‘আবেদন জানা হবে। কিন্তু, কিছু কি হবে? মনে হয় না। আগের আবেদনগুলোর যা পরিণতি হয়েছিল, এবারও হয়ত তেমনই হবে। তবে, হাতে সময় আছে। পরে ভাবব ফাইনালে সুয়ারেজের বিকল্প নিয়ে।’

    একই সঙ্গে, রেফারির অন্য একটি সিদ্ধান্তে আবার সুবিধাও হয়েছিল বার্সেলোনার। গ্রিজমান গোল করে ফেলেছিলেন। কিন্তু সহকারী রেফারি পতাকা তুলে জানিয়ে দেন অফসাইড। টিভি রিপ্লে-তে পরিষ্কার, পিকে-র কারণে মোটেও অফসাইডে ছিলেন না গ্রিজমান। গোলটা হলে তখনই ১-১ হয়ে যেত। বার্সেলোনা চাপে পড়ত আরও কারণ ততক্ষণে রোবের্তো লাল কার্ড দেখে বে্রিয়ে গিয়েছিলেন।

    পরে, পেনাল্টিও পেয়েছিল আতলেতিকো। বক্সের মধ্যে পিকে ফাউল করেছিলেন গামেইরো-কে। কিন্তু পেনাল্টি বারের ওপর দিয়ে উড়িয়েছিলেন গামেইরো। খেলার একেবারে শেষ পর্বে সমতা ফিরিয়েছিলেন সেই গামেইরো। আতলেতিকো তারপর চেষ্টা করেছিল, আর একটি গোল করে খেলা অন্তত অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিয়ে যেতে। কিন্তু, সেই গোল আর হয়নি।

    শুরু থেকেই প্রাধান্য ছিল আতলেতিকোর। বেশ কয়েকবার বার্সেলোনার ডাচ গোলরক্ষক জেসপার সিলেসেন বাঁচিয়ে দেন দলকে। গোটা ম্যাচেই পরীক্ষার মুখে থাকতে হয়েছিল জেসপারকে। উল্লেখযোগ্য, গোদিনের জোরালো হেড, যা সরাসরি চলে গিয়েছিল ডাচ গোলরক্ষকের হাতে।

    বার্সেলোনার গোল সুয়ারেজের, যদিও কৃতিত্ব লিওনেল মেসির। খেলার গতির বিরুদ্ধে বল নিয়ে এগিয়ে জোরালো শট নিয়েছিলেন মেসি যা আতলেতিকোর গোলরক্ষক মিগেল আনখেল মোয়া বাঁচিয়েছিলেন। কিন্তু, বলটা সামনের দিকে ফিরিয়ে দেন, যেখানে অপেক্ষায় ছিলেন সুয়ারেজ। গোল করতে কোনও অসুবিধাই হয়নি উরুগুয়ের স্ট্রাইকারের।

    ফাইনালে অবশ্য সুয়ারেজ নেই। বার্সেলোনার পক্ষে ভাল খবর, নেইমার ফিরে আসবেন। আর, সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বে বার্সেলোনাকে অনুজ্জ্বল দেখানোর আরও এক কারণ, মেসি একটু হলেও সতর্ক ছিলেন। জানতেন, আরও একটি হলুদ কার্ড মানেই, ফাইনালে খেলতে পারবেন না। তাই ট্যাকলে যাননি তেমন। তবে, প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে তাঁর নেওয়া জোরালো ফ্রি-কিক বারে লেগে ফিরে এসেছিল যা থেকে গোল হলে আরও বেশি ধন্য-ধন্য পড়ে যেত বিশ্বের ফুটবলমহলে, নিশ্চিত।

    ফাইনালে সেলতা ভিগো না আলাভেস, ঠিক হবে বুধ-রাতে। মে মাসে ফাইনাল। দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার যথেষ্ট সময় এনরিকের হাতে এখন!

    No comments