• Breaking News

    হৃদরোগে প্রয়াত পেনাল্টি বাঁচানোর রাজা শিবাজি

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    পেনাল্টি বাঁচানোর রাজা বলা হত তাঁকে। মোহনবাগানের প্রাক্তন গোলরক্ষক শিবাজি ব্যানার্জি হঠাৎ মারা গেলেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, রবিবার রাতে।

    রবিবার বিকেলে বালিতে সত্যজিৎ চ্যাটার্জি এবং সন্ধ্যেয় সুব্রত ভট্টাচার্যের সঙ্গে চেতলায় একটি অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন শিবাজি। সেখান থেকে গিয়েছিলেন এক বন্ধুর বাড়ি। বাথরুমে গিয়েছিলেন। খানিকক্ষণ পর বাথরুম থেকে বেরচ্ছেন না দেখে ধাক্কাধাক্কি করে দরজা ভেঙে দেখা যায়, পড়ে আছে তাঁর নিথর দেহ। আগেও দুবার আক্রান্ত হয়েছিলেন হৃদরোগে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ‘ম্যাসিভ স্ট্রোক’। ৬৩ বছর বয়সে শিবাজি শেষ দিন পর্যন্তও ছিলেন মোহনবাগানের টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য। শনিবার ডিএসকে শিবাজিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচের দিন রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামেও হাজির ছিলেন।

    পেনাল্টি বাঁচানোর অভাবনীয় দক্ষতা এবং ১৯৭৭ সালে পেলের কসমসের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ের কারণে শিবাজিকে কখনও ভুলতে পারবেন না সবুজমেরুন সমর্থকরা।

    পেলের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে ছ-গজের বক্সে পেলে বল রিসিভ করেছিলেন যখন, শিবাজি পায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে বল তুলে নিয়েছিলেন। পরে বলেছিলেন, ‘ফুটবল-সম্রাট ছাড়া অন্য কেউ হলে আমার মুখের চেহারা পাল্টে যেত। শেষ হয়ে যেতে পারত ফুটবল জীবনও। কিন্তু তিনিই যেহেতু ফুটবলের রাজা, শেষ মুহূর্তে বুটটা ঠিক সরিয়ে নিয়েছিলেন। আমার মুখে একটু আঁচড়ও পড়েনি। ছবিটা দেখলে এখনও মনে পড়ে যায় সেই ঘটনা আর কীভাবে আমাকে বাঁচিয়েছিলেন।’

    [caption id="attachment_2973" align="alignleft" width="899"]পেলের পা থেকে বল তুলে নেওয়ার সেই ছবি। শিবাজি ব্যানার্জি-র লেখা ‘পেনাল্টি বাঁচানোর রহস্য’ বই থেকে পেলের পা থেকে বল তুলে নেওয়ার সেই ছবি। শিবাজি ব্যানার্জি-র লেখা ‘পেনাল্টি বাঁচানোর রহস্য’ বই থেকে[/caption]

    ওই ম্যাচেই বাঁচিয়েছিলেন পেলের ফ্রি কিক। কাদামাখা ইডেনে খেলা হয়েছিল। ইনসুইং করাতে বেশ অসুবিধায় পড়েছিলেন সব ফুটবলারই। কিন্তু, পেলের কোনও অসুবিধা তো হয়ইনি, বিষাক্ত স্পিন মিশিয়ে দিয়েছিলেন ফ্রি কিকে। শিবাজি বলতেন, ‘এত স্পিন ছিল যে, বলটা আসছিল কেঁপে কেঁপে। আমার সামনে এসে হঠাৎ যেন থমকে গিয়েই গতি বাড়িয়ে জালের দিকে। কোনও রকমে, যাকে ফুল-লেংথ ডাইভ বলে, শরীর ছুড়ে ধরতে গিয়েছিলাম। ধরে রাখতে পারিনি, ফস্কে গিয়েছিল। লাট্টুর মতো ঘুরছিল বলটা। টনি ফিল্ড সামনেই ছিল। জানত বোধহয়, পেলের ফ্রি কিক গোলরক্ষকের হাত থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল ধরে ফেলেছিলাম।’ পেলের ফ্রি কিক থেকে গোল খাননি, সারা জীবনের গর্ব ছিল তাঁর।

    মজিদ বাসকারসহ ভারতে খেলেছেন এমন প্রায় সব বিখ্যাত ফুটবলারের পেনাল্টিই বাঁচিয়েছিলেন। খেলা যখন টাইব্রেকারে গড়াবে, ডাক পড়বে শিবাজি ব্যানার্জির, প্রচলিত ছিল ময়দানে। মোহনবাগান-মহমেডান স্পোর্টিং ম্যাচ, ফেডারেশন কাপে, তৃতীয় দিন খেলার পরও সমান-সমান। টাইব্রেকারে শিবাজি নিয়ে গিয়েছিলেন দলকে ফাইনালে। তারপরও ফাইনালে প্রথম দলে সুযোগ পাননি। ভদ্রমানুষ শিবাজি বলতেন, ‘কোচের কাছে জানতেও চাইনি। জানতাম, প্রশ্ন করলে সদুত্তর পাব না।’

    সদালাপী শিবাজি অবসর নিয়েছিলেন পোর্ট ট্রাস্ট থেকে, চাকরিজীবন শেষে। রেখে গেলেন স্ত্রী, পুত্র ও অগণিত ফুটবল-পাগল সমর্থককে, টাইব্রেকার হলেই যাঁরা এখনও অন্তত একবার তাঁর নাম করবেনই।

    No comments