• Breaking News

    গোল, গোলের পাস, ‘বড়’ ম্যাচের আগে ভরসা সোনিই | কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    মোহনবাগান - ২    কলম্বো এফসি – ১


    (সোনি ২৮, ডাফি ৫৬)  (ইয়াপো ৮৮)


    (প্রথম পর্বে মোহনবাগান এগিয়েছিল ২-১)


    [caption id="attachment_2915" align="alignleft" width="960"]সোনির পাস থেকে ডাফির গোলের পর, ম্যাচের দুই গোলদাতার উচ্ছ্বাস। ছবি - সন্দীপ দত্ত সোনির পাস থেকে ডাফির গোলের পর, ম্যাচের দুই গোলদাতার উচ্ছ্বাস  ছবি - সন্দীপ দত্ত[/caption]

    পরের ম্যাচটা ‘বড়’, ভারতীয় হিসাবে। এই ম্যাচটা তুলনায় ‘ছোট’ হলেও গুরুত্বে বড়। এএফসি কাপের প্রাথমিক পর্বের ম্যাচ, যা জিতলে এগিয়ে যাওয়া মূলপর্বের দিকে। বড় ম্যাচের আগে মোহনবাগান সেই কাজটা সুচারুভাবেই করল। ৭৮ মিনিটে বলবন্ত সিংয়ের পেনাল্টি মিস সত্ত্বেও মোটামুটি সহজ জয় ২-১ ব্যবধানে। দু-পর্ব মিলিয়ে মোট ৪-২। এবার সামনে মালদ্বীপের ভ্যালেন্সিয়া।
    ৬২ মিনিট মাঠে ছিলেন সোনি নর্দে। দুই ম্যাচ পর ফিরে নায়ক আবার। গোল করলেন একটি, দ্বিতীয় গোলের পাস বাড়ালেন। দ্বিতীয় গোলের জন্যই বোধহয় অপেক্ষায় ছিলেন মোহনবাগানের কোচ সঞ্জয় সেন। তুলে নিলেন তারপর। যতটা সম্ভব বিশ্রাম দেওয়া যায় তাঁর সবচেয়ে কার্যকরী ফুটবলারকে। রবীন্দ্র সরোবরের কাজ ততক্ষণে শেষ, মাথায় অঙ্ক শুরু শিলিগুড়ির! তাই পরে ডাফি এবং কাতসুমিকেও তুলে নেন সঞ্জয়।


    খেলাশেষে সোনি বলেও গেলেন তাঁর ভাবনার কথা। ‘ডার্বি জয় সমর্থকদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা, ফুটবলাররা, চাই ট্রফি জিততে। সেই জন্য যা যা করতে হয়, করতে হবে।’ আর সঞ্জয় সেন বলছিলেন, ‘ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে, সবাইকে খেলাতেও হবে, অনুশীলনেও তৈরি রাখতে হবে, আবার ম্যাচ জিততে হবে - সত্যি কত যে কাজ!’


    দুটি গোলের পেছনেই কাতসুমি। প্রথম গোলের সময় তিনিই পাস দিয়েছিলেন ডাফিকে। দেখেশুনে ডাফি স্কোয়ারে ঠেলে দেন সোনি নর্দের জন্য। সোনির ডানপায়ের শট কলম্বোর গোলরক্ষক ইমরানের সামনে মাটিতে পড়ে লাফিয়ে নেটে যাওয়ার সময় ইমরানের হাত ছুঁয়ে যায়।




    [caption id="attachment_2916" align="aligncenter" width="960"] ম্যাচের নায়ক সোনি। মঙ্গলবার রবীন্দ্র সরোবরে। ছবি - সন্দীপ দত্ত ম্যাচের নায়ক সোনি। মঙ্গলবার রবীন্দ্র সরোবরে    ছবি - সন্দীপ দত্ত[/caption]

    দ্বিতীয় গোলের সময় কাতসুমির ডায়াগোনাল বল। মাঝমাঠের ডান প্রান্ত থেকে দেখে নিয়েছিলেন বাঁদিক দিয়ে উঠে আসা সোনি-কে। নিখুঁত পাস সোজা সোনির পায়ে। কলম্বোর রাইট ব্যাক জায়গায় ছিলেন না। সোনি দেখে নেন সামনে অনেকটা ফাঁকা জায়গা। দৌড়ে বড় বক্সে ঢুকে ডানপায়ে বল রেখে যান ছ’গজের বক্সে, যেখানে অপেক্ষায় ছিলেন সুযোগসন্ধানী ডাফি। বাঁপায়ের টোকায় গোলরক্ষক ইমরানের হাতের নাগাল এড়িয়ে জালে রেখে যান স্কটিশ স্ট্রাইকার।
    নাসিরু ওপেয়েমি, সেকা জিন ইয়াপো, আফিজ ওলায়েমি ওলোফিন তিন বিদেশিই এসে পড়েছিলেন সকালে, কলম্বো থেকে। কলম্বোর কোচ তিনজনকেই রেখেছিলেন প্রথম এগারয়। কিন্তু কোনও বিদেশিই তেমন চোখ টানতে পারেননি। সবুজমেরুন রক্ষণ ছিল জোড়াতালি দেওয়া। শৌভিক ঘোষ, আনাস, বিক্রমজিৎ জুনিয়র ও শৌভিক চক্রবর্তী চারজনে ছিলেন গোল আটকানোর দায়িত্বে। খেলার একেবারে শেষদিকে ৮৮ মিনিটে দিদিয়ের দ্রোগবার দেশের সেকা জঁ ইয়াপো সান্ত্বনাসূচক একটি গোল করলেন বটে, কিন্তু ম্যাচ ততক্ষণে সব অর্থেই শেষ। আরও তিনটি গোল দরকার ছিল কলম্বোর তারপরও, দু-পর্ব মিলিয়ে জিততে।
    আই লিগ শুরু হওয়ার পর মোট আট ম্যাচ খেলল মোহনবাগান। জিতল সাত ম্যাচ, একটি ড্র। এএফসি-তে আপাতত দুটি ম্যাচেই জয়। পৌঁছল প্লে অফে। সেখানে মোহনবাগানের সামনে মালদ্বীপের ভ্যালেন্সিয়া, ভুটানের থিম্পু সিটিকে হারিয়েছে যারা। খেলা ২১ (অ্যাওয়ে) ও ২৮ ফেব্রুয়ারি (হোম)। প্লে অফ জিতলে এএফসি কাপে বেঙ্গালুরু এফসি-র সঙ্গে মূলপর্বে একই ‘ই’ গ্রুপে থাকবে মোহনবাগান।


    মোহনবাগান - শিল্টন ; শৌভিক ঘোষ, আনাস, শৌভিক, বিক্রমজিৎ জুনিয়র; কাতসুমি (আজহারউদ্দিন ৮৪), প্রণয়, বিক্রমজিৎ; সোনি (বলবন্ত ৬২), জেজে, ডাফি (রেনিয়ের ৭০)।

    No comments