• Breaking News

    ২ পয়েন্ট ও প্রচুর প্রশ্ন নিয়ে শিলিগুড়ি ছাড়ছে ইস্টবেঙ্গল

    ইস্টবেঙ্গল - ১   লাজং – ১


    (প্লাজা ৪৫)         (লালমুয়ানপুইয়া ২০)


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য ● শিলিগুড়ি


    প্রচুর প্রশ্ন ও ২ পয়েন্ট নিয়ে শিলিগুড়ি থেকে ফিরছে ইস্টবেঙ্গল!

    শিলিগুড়ি পৌঁছনর আগে প্রশ্ন ছিল রক্ষণ নিয়ে। গোল তখনও দুর্লভ নয়। পরপর ছয় ম্যাচ জিতে পা রেখেছিল শিলিগুড়িতে। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম দেখল, ১৮০ মিনিটে গোল পাওয়া নিয়েই প্রচুর সমস্যা। এমনকি, আমিরভকে পছন্দ না-হওয়ার পর, অস্ট্রেলীয় যে ক্রিস্টোফার পেইনকে নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছিলেন লালহলুদ সমর্থকরা, তিনিও রইলেন হতাশের নিষ্ফলের দলে!

    ১৮ ম্যাচের লিগ মাঝপথে। অর্ধেক রাস্তা এসেও অপরাজিত। গোল খেয়েছে মাত্র চারটি। পয়েন্ট ২১, এখনও শীর্ষে। কিন্তু, শেষ দুটি ম্যাচই দেখিয়ে দিল, ইস্টবেঙ্গলকে শুরুর ওই সাত ম্যাচে যতটা অপ্রতিরোধ্য মনে হয়েছিল, আদৌ ততটা নয়। সমস্যায় পড়লে বেরিয়ে পড়ে ভঙ্গুর দশা।

    বলার জায়গা আছে অবশ্যই। বেশ খারাপ দিনেও বিপক্ষের গোলরক্ষক অনূর্ধ্ব ২২ বিশাল কাইথ ম্যাচের সেরা। মানে, ইস্টবেঙ্গল যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ছিল। কিন্তু, বিশালের এই বিশালত্বের কাছে মাথা নোয়ানোর আসল কারণ রোমিও ফেরনান্দেসের দু-দু’টি শট বাঁচানো, যথাক্রমে ৮২ ও ৮৫ মিনিটে। প্রথমবার বাঁপায়ে, দ্বিতীয়বার ডান পায়ে শট নিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলের পরিবর্ত মিডফিল্ডার। ডানদিকে রোমিও আক্রমণে উঠতে শুরু করার পর সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা খানিক বেড়েছিল।

    রবিনের জায়গায় নতুন বিদেশি পেইন, লাজংয়ের বিরুদ্ধে একমাত্র পরিবর্তন ডার্বির প্রথম এগারয়। অস্ট্রেলীয় স্ট্রাইকারের জার্সি নম্বর ছয়। আর, মাঠে তাঁর উপস্থিতি যথেষ্ট ‘পেইনফুল’, যন্ত্রণাদায়ক। মাঠের মান খারাপ, সন্দেহ নেই। কিন্তু, প্রথম ম্যাচে আমিরভ যতটা নিরাশ করেছিলেন, পেইন তার চেয়ে কোনও অংশে কম ছিলেন না বুধবারের কাঞ্চনজঙ্ঘায়। ৫৮ মিনিট পর্যন্ত তাঁকে মাঠে রাখা হয়েছিল, এই অনেক।

    পরপর দুটি ম্যাচেই ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠ, যা তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা, নজর কাড়তে ব্যর্থ। অধিনায়ক লালরিনডিকা রালতে একেবারেই ছন্দহীন। হয়ত সেই কারণেই। মেহতাব হোসেনের মতো বর্ষীয়ান মিডফিল্ড জেনারেল বল কেড়ে নেওয়ার কাজে ততটা সফল নন যতটা তাঁর কাছে প্রত্যাশিত। লং পাস বাড়াচ্ছেন। কিন্তু খেলার মোড় ঘোরানো পাস কোথায়?

    ওয়েডসন, প্লাজা পায়ে বল রাখতে পছন্দ করেন। প্লাজার যদিও গতি আছে, ওয়েডসনের নেই। তা ঢেকে দিতে পারত কিছু ডিফেন্সচেরা থ্রু। কিন্তু বিপক্ষ রক্ষণ সেই কোনাকুনি বাড়ানো বলগুলো এখনই ধরে ফেলছে! গোলমুখ খুলে ফেলতে না-পারলে অস্ত্র বলতে সেট পিস। সেখানেও কর্নার বা ফ্রি কিক থেকে বিপক্ষ বক্সে তেমন বিপজ্জনক বল আর আসেনি গত দুটি ম্যাচেই। বর্ণহীন মনে তো হবেই!

    থংবোই সিংতো-র লাজং তুলনায় উজ্জ্বল। বিশেষত প্রথমার্ধে। গোল পেয়ে যাওয়ার পর তো বাড়তি আত্মবিশ্বাসী। ২০ মিনিটে ১-০ লাজংয়ের। দিপান্দা বল নিয়ে এগিয়ে বাঁদিক দিয়ে আগুয়ান বিপিন সিংয়ের পায়ে পাঠিয়েছিলেন বল। বিপিনের ক্রসে ফাঁকায় হেড করে গেলেন স্যামুয়েল লালমুয়ানপুইয়া। ইস্টবেঙ্গেলের রক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল!

    মাঝমাঠে অনবরত তাড়া। তুলনায় গতিময় ফুটবলারদের প্রাধান্য। সেকেন্ড বল ধরে ফেলা সহজেই। প্রয়োজনে পেশাদার ফাউল। লাজং দেখিয়ে গেল, ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে হোম-ওয়ার্ক করেই এসেছিল। ম্যাচের একেবারে শুরুতে কোনশামের ক্লিয়ারেন্স, পেইনের গায়ে লেগে পৌঁছেছিল ওয়েডসনের পায়ে। জোরালো ভলি বারের ওপর দিয়ে যায়, চার মিনিটে। তারপর, নয় মিনিটে ওয়েডসনের শট সোজা লাজং গোলরক্ষক বিশালের হাতে। আত্মবিশ্বাস ওখানেই পেয়ে গিয়েছিলেন বিশাল, যা পরে সাহায্য করল আরও অন্তত গোটা তিনেক নিশ্চিত গোল বাঁচাতে।

    প্রথমার্ধের শেষে সমতা ফিরিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। বাঁদিক থেকে ডিকা পাস দিয়েছিলেন নারায়ণ দাসকে। তাঁর সেন্টারে হেড প্লাজার। নিজের ষষ্ঠ গোল। ডার্বির সেরা রেহনেশও বার দুয়েক বাঁচিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলকে।  প্রথমার্ধে ফ্রি কিক, দ্বিতীয়ার্ধে পেনার শট। গোলের সময় কিছু করার ছিল না, কিন্তু বাকি সময় রেহনেশ বিশ্বস্ত। বিপক্ষ রক্ষণ খুলে ফেলতে না-পারলে এভাবেই রেহনেশ-সহায় হয়ে অপরাজিত আখ্যা হয়ত ধরে রাখা যাবে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য কি রেহনেশই যথেষ্ট?

    ইস্টবেঙ্গল – রেহনেশ, রাহুল, গুরবিন্দর (অর্ণব ৪৬), বুকেনিয়া, নারায়ণ, ডিকা, মেহতাব, ওয়েডসন, নিখিল (রোমিও ৭১), প্লাজা, পেইন (রবিন ৫৮)।

    No comments