• Breaking News

    এএফসি কাপের মূলপর্বে মোহনবাগান, সহজেই!

    সেই বিতর্কতি গোলের মুহূর্ত। ছবি – সন্দীপ দত্ত

    হ্যাটট্রিক নয়, জেজের জোড়া গোল, জানাল এএফসি-র ওয়েবসাইট



    মোহনবাগান - ৪ ভ্যালেন্সিয়া – ১
    (জেজে পে ২, ৮২, নিহান আত্মঘাতী ৪৫, সোনি ৮৭) (ওমোদু ৫২)


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য - সহজেই এএফসি কাপের মূলপর্বে গেল মোহনবাগান। ঘরের মাঠ রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে জয় ৪-১, দু-পর্ব মিলিয়ে ৫-২। গ্রুপ ই-তে কলকাতার ক্লাবের সঙ্গে আছে বেঙ্গালুরু এফসি, বাংলাদেশের আবাহনী লিমিটেড ঢাকা ও মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাব। এএফসি-তে জোড়া গোলের পর জেজেও বাড়তি আত্মবিশ্বাসী হয়ে খেলতে নামবেন আই লিগেও।
    দর্শকরা ভাল করে বসার আগেই এগিয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। প্রথম মিনিটেই কর্নার। সেখান থেকে বক্সের মধ্যে থেকে বল বের করার চেষ্টায় ভ্যালেন্সিয়ার ডিফেন্ডার পাঠিয়ে দেন জেজে-র পায়ে। শট নিয়েছিলেন জেজে, যা হাতে লাগে ভ্যালেন্সিয়ার চিজি কাকা চিন্দার হাতে। ভিয়েতনামের রেফারি ভোমিন ত্রি পেনাল্টির নির্দেশ দিয়েছিলেন। জেজে ভুল করেননি গোল করতে।
    প্রথমার্ধের একেবারে শেষে বলবন্তের পাসে পা লাগিয়ে দ্বিতীয় গোল পেয়েছিলেন জেজে, বলে মনে করছিলেন তিনি নিজে। ম্যাচ শেষে নিজেই জানালেন, পায়ে লেগেছিল বল। কিন্তু, এএফসি-র ওয়েবসাইট অনুযায়ী গোল আত্মঘাতী। ভ্যালেন্সিয়ার দশ নম্বর, মিডফিল্ডার হুসেন নিহানের পায়ে লেগে জালে গিয়েছিল বল। ফলে, হ্যাটট্রিক হল না জেজের। দ্বিতীয় গোল পেলেন হেডে, প্রবীরের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে। সেই সময় খানিকটা হলেও চাপে ছিল মোহনবাগান। বার দুয়েক দ্বিতীয় গোল পেতে পেতেও পায়নি ভ্যালেন্সিয়া। যদিও মোহনবাগানও সুযোগ পেয়েছিল, কাজে লাগাতে পারেনি। তৃতীয় গোল খেয়ে যাওয়ার পর অবশ্য ফিরে আসার সুযোগ ছিল না ভ্যালেন্সিয়ার কাছে।
    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সোনি এবং বলবন্ত যেভাবে সুযোগ হারিয়েছিলেন, বিশেষত বলবন্ত, চাপে পড়ে গিয়েছিল মোহনবাগানই। হ্যাটট্রিক করতে পারতেন বলবন্ত, পেলেন না একটিও! ফাঁকা গোলে বল রাখতে পারলেই গোল, বলবন্ত ৬ গজের বক্সের মধ্যে থেকে বারের ওপর দিয়ে তুলে দিলেন। তার আগে দেখেশুনে বিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে মেরেছিলেন। প্রথমার্ধে সোনিও একবার নিজে শট না নিয়ে আরও ভাল জায়গায় থাকা বলবন্তকে দিয়েছিলেন। কিন্তু বলবন্ত সেবারও বিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়েই মেরেছিলেন। ৮৭ মিনিটে সোনি পেলেন কাঙ্ক্ষিত গোল। বাঁদিক দিয়ে ঢুকে এসেছিলেন। কাতসুমির পাস পেয়ে ডানপায়ের শটে পরাস্ত করেন গোলরক্ষক মহম্মদ ফায়জলকে। যত সুযোগ নষ্ট করেছিল মোহনবাগান, কাজে লাগাতে পারলে ৭-১ বা ৮-১ হতেই পারত।
    ভ্যালেন্সিয়ার গোলটা বেশ ভাল। লুজ বল ধরে এগিয়েছিলেন গডফ্রে ওয়েস্ট ওমোদু। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ডানপায়ের দুর্দান্ত শটে দেবজিৎকে পরাস্ত করেন। ম্যাচে তার আগে দেবজিৎকে বিশেষ পরিশ্রম করতেই হয়নি।
    এশিয়া থেকে মোহনবাগান এখন আবার ভারতে। আগামী তিনটি ম্যাচ পরপর যথাক্রমে চার্চিল, মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে। কোচ সঞ্জয় সেন জানিয়ে দিলেন, আপাতত একমাত্র লক্ষ্য আই লিগের তিন ম্যাচ। এএফসি নিয়ে ভাবনা তারপর!
    মোহনবাগান - দেবজিৎ ; সার্থক, এদুয়ার্দো, আনাস, শুভাশিস; প্রবীর, শৌভিক (সৌরভ ৮৯), বিক্রমজিৎ (কাতসুমি ৬৬), সোনি; জেজে (আজহার ৮৬), বলবন্ত

    No comments