• Breaking News

    ৬-১! প্রত্যাবর্তনের নতুন ইতিহাস মেসি-নেইমারদের

    শেষ সাত মিনিটে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে বার্সেলোনা


    বার্সেলোনা-৬ ‌: পিএসজি-১


    (সুয়ারেজ ৩’, কুরজাওয়া-আত্মঘাতী ৪০’, মেসি-পেনাল্টি ৫০’, নেইমার ৮৮, ৯১’ পে, রোবের্তো ৯৫’) (কাভানি ৬২’)


    (সব মিলিয়ে ৬-৫ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনা)




    [caption id="attachment_3094" align="alignleft" width="749"]ম্যাচের সেরা। ছবি— টুইটার ম্যাচের সেরা। ছবি— টুইটার[/caption]

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    এ ভাবেও ফিরে আসা যায়!

    এগ্রিগেটের অঙ্ক তখন চলছে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের নোটবুকে। আগের ম্যাচে প্রতিপক্ষর মাঠে ০-৪ হার। ফিরতি ম্যাচে তখনও স্কোরলাইন ৩-১। ঘড়ির কাঁটা বলছে, ম্যাচের সময় ৮৮ মিনিট। দু’দফার হিসেব মেলালে বার্সেলোনা পিছিয়ে ৩-৫। শেষ আটে পৌঁছনো তখনও গল্পই।

    কে জানত, ওখান থেকেই নয়া মোড় নেবে ফুটবল ইতিহাস? ৬-১ জিতে যাবে বার্সেলোনা?

    কেউ কি ভেবেছিল, পরের সাতটা মিনিট সারা ফুটবল বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে দেখবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসের সেরা ফিরে আসার ম্যাচ?

    প্রথম দফার ম্যাচে পিএসজির কাছে ভরাডুবির পর লিও মেসি, নেইমার, সুয়ারেজদের ঘরের মাঠে এই জয়কে কী বলা উচিত? ঘুরে দাঁড়ানো? নাহ্! প্রতিপক্ষর উপর রোড রোলার চালিয়ে দেওয়া!

    ইতিহাস আর রেকর্ডের বড় নিবিড় সম্পর্ক। দুটোই রোজ নতুন করে জন্ম নেয়। তফাত হল, কিছু রেকর্ড জন্ম নেয় ইতিহাস হওয়ার জন্য। মাইল ফলক হয়ে থাকার জন্য। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার নু কাম্প এমন এক ‘ফুটবল নাইট’এর সাক্ষী, যা চিরকালীন উদাহরণ হয়ে থাকবে। শেষ বলে কিছু হয় না। ফিরে আসা যায় যে কোনও মুহূর্তে। যে কোনও ফর্মে বা শেপে!



    ঘরের মাঠে বার্সেলোনার ফুটবলে শুরু থেকেই আগুনের ফুলকি। ৩ মিনিটে হেডে লুইস সুয়ারেজের ১-০। তখন থেকেই মনে হচ্ছিল, এই রাত অন্য রকম ফুটবল-কথা শুনিয়ে যাবে। ৩৪ মিনিটে লেভিন কুরজাওয়ার আত্মঘাতী গোলটা তাতিয়ে দিয়ে গেল সারা গ্যালারিকে। মাঠের মেসি-নেইমারদের। বিরতির ২-০ সম্বলটা হয়তো লুইস এনরিকের বার্সাকে আরও চার গোলের স্বপ্ন দেখিয়ে গিয়েছিল। টেনে নিয়ে গিয়েছিল ইতিহাস তৈরির পথে।

    [caption id="attachment_3095" align="alignleft" width="720"]মেসি। ম্যাচের পর। ছবি— টুইটার মেসি। ম্যাচের পর। ছবি— টুইটার[/caption]

    দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যে পেনাল্টি পায় বার্সা, নেইমারের সৌজন্যে। মেসির ৩-০। পিএসজি তখন প্রবল চাপে। এই ধরনের ম্যাচে প্রতিপক্ষর তো হারিয়ে যাওয়ারই কথা। বার্সা ঝড়ের মুখে পড়েও পিএসজি পাল্টা আক্রমণের রাস্তায় হাঁটার চেষ্টা করছিল অনেকক্ষণ ধরেই। কাজে লাগছিল। এদিনসন কাভানির হাত ধরে ৬২ মিনিটে ব্যবধান কমাল পিএসজি।

    ১-৩ পিএসজির। ঘরে-বাইরে মিলিয়ে ৫-৩ এগিয়ে। শেষ দিকে গড়াচ্ছে ম্যাচ। আর কিছুক্ষণ পার করে দিতে পারলেই সেরা আটে। মেসিদের শেষ সাত মিনিটের ‘ইতিহাস’টাই শেষ করে দিল পিএসজির সব স্বপ্ন।

    ৮৮ মিনিটে কার্লিং ফ্রি কিক থেকে নেইমারের ৪-১। উৎসবের ছোঁয়াচ নেই নু কাম্পে। প্রবল উত্তেজনায় ভুগছে সমর্থকরা। এক মিনিটের মধ্যে পেনাল্টি। পিএসজির মারকুইনোস বক্সের মধ্যে ফাউল করেন সুয়ারেজকে। পেনাল্টি থেকে ৫-১ নেইমারের। এগ্রিগেট তখন ৫-৫। তখনও পিএসজির পক্ষেই ম্যাচ।

    শেষ মিনিটে নাটকীয় মোড় বদল। নেইমারের চমৎকার পাস পেয়ে যান সের্খি রোবের্তো। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে খুঁজে পেলেন গোলের ঠিকানা। নেইমারের পাস থেকে ৬-১ করে।

    [caption id="attachment_3096" align="alignleft" width="1200"]বার্সেলোনার জয়ের উৎসব। ছবি— টুইটার বার্সেলোনার জয়ের উৎসব। ছবি— টুইটার[/caption]

    এই ম্যাচ মেসির নয়। সুয়ারেজেরও নয়। এই ম্যাচ আসলে নেইমারের। বিরতির পর ব্রাজিলিয়ানের ক্লাসিক্যাল ফুটবল পিএসজিকে থামিয়ে দিল। তিনিই ম্যাচের সেরা। মেসিদের গ্রহে নেইমারের দুরন্ত পারফরম্যান্স অন্য রকম ম্যাচ উপহার দিল বার্সাকে।

    ফিরে আসার ইতিহাস অনেক দেখেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। বার্সেলোনার মতো দেখেনি। মেসিদের কোচ এনরিকে পর্যন্ত হতবাক হয়ে বলেছেন, ‘এটা নাটক নয়। ভুতের সিনেমা। এই ম্যাচের ব্যাখ্যা দেওয়া মুশকিল।’

    সব ফিরে আসার কি ব্যাখ্যা হয়?

    No comments