• Breaking News

    ইস্টবেঙ্গলের কোচ এখন সন্তোষজয়ী মৃদুল

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    জল্পনার অবসান। ইস্টবেঙ্গলের কোচ হলেন মৃদুল বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্তোষ ট্রফিতে পাঁচ বছর পর বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করার পুরস্কার পেলেন মৃদুল। আই লিগের বাকি দুটি ম্যাচে এবং ফেডারেশন কাপে ট্রেভর জেমস মর্গ্যানের ছেড়ে-যাওয়া আসনে আপাতত বঙ্গসন্তান।

    মঙ্গলবার সকালে ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার ভাস্কর গাঙ্গুলি, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য ও তুষার রক্ষিত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন, ক্লাবকর্তাদের সম্মতি নিয়ে। মরসুমের মাত্র দেড় মাস বাকি। কোনও কোচই রাজি হচ্ছিলেন না এত অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব নিতে। তাই আরমান্দো কোলাসোর নাম উঠলেও শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ান আই লিগে সবচেয়ে সফল কোচ।

    পরে মনোরঞ্জন জানালেন, ‘আই লিগের কোচ হতে গেলে এ লাইসেন্স থাকতেই হবে। আবার, ক্লাবও এই মুহূর্তে বিদেশি নয়, স্বদেশি কোচই চাইছিল। মৃদুলের হাত ধরে বাংলা সন্তোষ ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সবচেয়ে যোগ্য লোক, নিঃসন্দেহে। তাই ওর হাতেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল। লক্ষ্য তো একটাই, সাফল্য এনে দেওয়া। আমাদের মনে হয়েছে, পারবে। যদি কোনও দরকারে ডাকে আমাদের, নিশ্চয়ই পাশে থাকব।’

    এক সপ্তাহ আগেই কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিকদের বিচারে বর্ষসেরা কোচের ‘বিশেষ’ পুরস্কারে সম্মানিত মৃদুল চেয়েছিলেন, বড় ক্লাবে কাজ করার সুযোগ। যদিও ভাঙা মরসুমের জন্য, তবু পেলেন এবার। বললেন, ‘ইস্টবেঙ্গলে তো আগেও কোচিং করিয়েছি, নতুন নয়। আর, ম্যান-ম্যানেজমেন্ট ব্যাপারটা বড় ক্লাব বলে নয়, সব ক্লাবেই আলাদা এবং জরুরি। এই দলের অনেককে চিনি, যা বাড়তি সুবিধা।’

    মরসুমের শুরুতে বলা হয়েছিল, অন্যতম সেরা দল গড়েছে ইস্টবেঙ্গল। দায়িত্ব নেওয়ার আগে তাঁর কী মনে হচ্ছে, কেন ব্যর্থ হল আই লিগ জিততে? মৃদুলের জবাব, ‘আমি তো ছিলাম না। বাইরে থেকে দেখে মন্তব্য করা উচিত নয়। কার দোষে, কী করে বলব? হ্যাঁ, মানছি, চ্যাম্পিয়ন হতে পারত। সেই জন্যই তো শেষ দুটো ম্যাচের আগে পর্যন্তও ছিল দৌড়ে। কোচিং আমার প্যাশন। ভাল কিছু করতে পারব বলেই তো এসেছি দায়িত্ব নিতে।’

    পুরো মরসুমের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে তাঁর কি কোনও দাবি ছিল? মৃদুল এই মুহূর্তে সেই সব নিয়ে ভাবতে রাজি নন। ‘কী বলেছি, কেন বলেছি বা বলিনি, ব্যক্তিগত ব্যাপার। ভাস্করদা, মনাদা-দের পরামর্শ নেব প্রয়োজন পড়লেই। ওঁদের মতো ব্যক্তিত্ব পাশে থাকলে সবসময় সুবিধা।’

    কোচ নির্বাচনে উঠেছিল তরুণ দে-র কথাও, মনোরঞ্জনের সতীর্থ ছিলেন যিনি দীর্ঘদিন, ইস্টবেঙ্গলে। মনোরঞ্জন জানালেন, ‘তরুণ বড় দলে কোচিং করায়নি এখনও। মৃদুলকে বেছে ভুল করলাম কিনা, সময়ই বলবে। এটুকু বলতে পারি, সম্পর্ক ভাল বলেই মৃদুলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। দেড় মাস আছে। যে বাংলাকে পাঁচ বছর পর চ্যাম্পিয়ন করে এসেছে তার পাশে থাকুন, প্লিজ। ফুটবলারদের মানসিক অবস্থাও বেশ খারাপ। ওদের পাশেও থাকতেই হবে।’

    ইস্টবেঙ্গলের এবার আই লিগ হাতছাড়া হওয়ার মূলে টিপি রেহনেশের গোলকিপিং। ভাস্কর গাঙ্গুলির চেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় নজির আর পেত না ইস্টবেঙ্গল। ১৯৭৫ শিল্ড ফাইনালে মোহনবাগানের গোলে ছিলেন ভাস্কর যিনি পাঁচগোলের চারটি খেয়েছিলেন। পরের বার এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গলে এবং ঘুরে দাঁড়ানো শুরু। ভাস্কর বললেন, ‘তখন জুনিয়র ছিলাম। সাহস দিয়েছিল সিনিয়ররাই। আর, যত দূর মনে পড়ে, গ্রেগ চ্যাপেলও ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ থাকাকালীন অশ্লীল ইঙ্গিত করেছিলেন একবার। ব্যাপারটা সমর্থনযোগ্য নয়, একেবারেই। কখনও কখনও হয়ে যায়, মুহূর্তের আকস্মিকতায়। রেহনেশকে বলেছি, ঘুরে দাঁড়ানো যায়, সম্ভব।’

    তাঁর কোচিং-যোগ্যতা কি প্রশ্নের মুখে? মানছেন না মৃদুল নিজে। বললেনও যে, যেভাবে তাঁকে প্রশ্ন করা হচ্ছে সেটা হয়ত ঠিক নয়। কিন্তু দলের লক্ষ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। ‘একটাই লক্ষ্য, দলটাকে ভাল জায়গায় নিয়ে যাওয়া। আই লিগের বাকি দুটো ম্যাচে দেখে নিতে চাই। একই সঙ্গে চাই, জয়ে ফেরাতে। তা হলে মানসিক দিক দিয়েও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।’

    পাশের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবেও বাঙালি কোচ যিনি তিন বছরে দ্বিতীয়বার আই লিগ খেতাব এনে দেওয়ার পথে। মোহনবাগানের সঞ্জয় সেন সম্পর্কে বলতে গিয়ে মৃদুল জানিয়েছেন, ‘সঞ্জয় সেন একা কেন, যে কোনও কোচের সাফল্যই আমাকে উদ্দীপ্ত করে।’

    টানা চার ম্যাচে হেরে মনোবল তলানিতে চলে যাওয়া দলের হাল কীভাবে ফেরান সন্তোষ-জয়ী কোচ, দেখতে উন্মুখ এখন লালহলুদ সমর্থকরা।

    No comments