• Breaking News

    বিক্ষোভের মশাল জ্বলল ইস্টবেঙ্গলে

    রেহনেশের অশালীন ইঙ্গিত




    • মর্গ্যান হটাও স্লোগান




    • গো ব্যাক শুনলেন ফুটবলাররা




    • বিক্ষোভের মুখে কর্তারাও




    শান্তনু ব্যানার্জি


    ধিকিধিকি জ্বলছিলই। দাউদাউ করে ছড়িয়ে পড়ল শুক্রবার সকালে। বিক্ষোভের আগুন, ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে!

    শেষ জাতীয় লিগ জয় ২০০৩ সালে। মাঝে ১৪ বছর। বারবার কাছাকাছি এসেও পা পিছলে যাওয়া। সমর্থকরা আর মেনে নিতে নারাজ। ডার্বিতে মোহনবাগানের কাছে হেরে সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়ার পর এবার সরাসরি কোচ-ফুটবলার-কর্তাদের বিরুদ্ধি বিক্ষোভ জানাতে শুক্রবার সকালে ক্লাবতাঁবুতে হাজির সমর্থকরা। সহ্যের সীমা অতিক্রান্ত যে তাঁদেরও।

    প্রথমে উঠেছিল ‘মর্গ্যান হটাও’ দাবি। এই সমর্থকরাই আবার গতবছর স্লোগান দিয়েছিলেন ‘মর্গ্যান লাও’! কর্তা দেবব্রত (নীতু) সরকার তো তা-ই বলেই গেলেন, সমর্থকদের আবেগের কথা মাথায় রেখেই আনা হয়েছিল মর্গ্যানকে। চুক্তি যেহেতু মে মাস পর্যন্ত, তার আগে কিছু করা সম্ভব নয়। তাতে সমর্থকরা খুশি নন একেবারেই। তাই স্লোগান উঠল আবারও।

    আর, গণ্ডগোলের মাঝেই ক্লাব তাঁবুর সামনে জমায়েতের উদ্দেশে অশালীন ইঙ্গিত করে আগুনে যেন ঘি ঢেলে দিয়েছিলেন টিপি রেহনেশ। তাঁর গোলকিপিং এবার ইস্টবেঙ্গলের আই লিগ অভিযান থেকে ছিটকে যাওয়ার অন্যতম কারণ। চেন্নাই সিটির বিরুদ্ধে দুটি গোলই খেয়েছিলেন রেহনেশ, জায়গায় থাকতে পারেননি বলে। মোহনবাগানের বিরুদ্ধেও দুটি গোলে তাঁর যথেষ্ট অবদান! সমর্থকরা মানবেন কেন? ফলে, রেহনেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন। রেহনেশও সহ্য করতে না পেরে হাতের মধ্যমা তুলে দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। সমর্থকদের ধৈর্যের বাঁধও যায় ভেঙে।

    বিদেশি ফুটবলারদের দায়বদ্ধতার অভাবের দিকে আঙুল তুলেছিলেন মেহতাব হোসেন। সব ফুটবলারদের দায়বদ্ধতার দিকে ইঙ্গিত ছিল অন্যতম কর্তাদের। লালহলুদ সমর্থকদের কাছে ছাড় পেলেন না সেই কর্মকর্তারাও। ‘গো ব্যাক’ ধ্বনি ওঠে তাঁদের জন্যও।

    সব মিলিয়ে, বাংলা বছরের শেষ সকালে, ইস্টবেঙ্গল তাঁবু উত্তপ্ত ছিল সকাল থেকেই। দেড় ঘন্টার অনুশীলন শেষে কিছু ফুটবলার গিয়েছিলেন ক্যাফেটেরিয়ায়। সেখানেও দরজা আগলে রেখে ফুটবলারদের জঘন্য পারফরম্যান্সের জন্য বিদ্রূপাত্মক হাততালি দিতে শুরু করেছিলেন ভক্তরা। বাদ যায়নি উপস্থিত প্রচারমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও। ছবি তোলার জন্য কটুকথা শুনতে হয় তাঁদেরও।

    চরম বিশৃঙ্খলা আর হট্টগোলের মধ্যেই শেষ হল চৈত্র সংক্রান্তি। রবিবার ম্যাচ বারাসতে ডিএসকে শিবাজিয়ান্সের বিরুদ্ধে। সংক্রান্তি পেরিয়ে নতুন বছরে কি দেখা যাবে নতুন ইস্টবেঙ্গলকে?

    বাকি তিন ম্যাচ জিতলেও ইস্টবেঙ্গলকে খেতাব জিততে হলে তাকিয়ে থাকতে হবে মোহনবাগান আর আইজল দুটি দলেরই খারাপ পা্রফরম্যান্সের দিকে। অঙ্কের খাতায় সুযোগ থাকলেও বাস্তবে যার অস্তিত্ব নেই। সেই কারণেই লালহলুদ সমর্থকরা ক্ষোভ উগড়ে দিলেন ক্লাবতাঁবুতে। ১৪ বছরের অপ্রাপ্তির ক্ষোভ। ফুটবলার-কোচ-কর্তারা পেশাদারিত্বের মুখোশের আড়ালে তাঁদের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন এই অভিযোগে।

    তাতে অবস্থা কি আর বদলাবে ভারতের অন্যতম সফল ক্লাবের অন্দরমহলে? কিংবা, সবার মাঠের ভেতরের পারফরম্যান্স কি ফিরে পাবে লিগ শুরুর সময়ের ঔজ্জ্বল্য?

    দেখতে অপেক্ষা আপাতত রবিবার পর্যন্ত।

    না হলে, আবারও বিক্ষোভের একই ছবি দেখা যেতেই পারে ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে!

    No comments