• Breaking News

    নারিন-জুয়ার পর জেতালেন গম্ভীর | কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব – ৯ উইকেটে ১৭০ (ভোরা ২৮, মিলার ২৮, উমেশ ৪/৩৩, ওকস ২/৩০)
    কলকাতা নাইট রাইডার্স – ২ উইকেটে ১৭১ (গম্ভীর অপরাজিত ৭২, নারিন ৩৭)
    কলকাতা ৮ উইকেটে জয়ী


    খেলার তখন সবে ২ ওভার ৫ বল। মনন ভোরা সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন সুনীল নারিনকে। শিক্ষার্থীরাও ফেলতে পারেন না এমন একটা ক্যাচ যেভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ফেললেন, ভাবতে বাধ্য, দিনটা কলকাতা নাইট রাইডার্সের নয়।
    কিন্তু, শুরু দেখে দিনটা কেমন যাবে বোঝা যায়, প্রবাদকে ভুল প্রমাণ করে দিলেন সেই নারিনই! কলকাতা যখন ব্যাট করতে নামছে ২০ ওভারে ১৭১ রানের লক্ষ্যে, দেখা গেল, অধিনায়কের সঙ্গে মাঠে আসছেন সেই নারিনই! ব্যাট হাতে তাঁর এমন কোনও পারফরম্যান্স কি আগে ছিল যা থেকে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল ওপেনার হিসাবেও সফল হতে পারেন নারিন? বিবিএল-এ নাকি তিনটি ম্যাচে ইনিংস শুরু করেছিলেন। কেকেআর অধিনায়ক এবং অবশ্যই টিম ম্যানেজমেন্টের কৃতিত্ব, সাহসী হতে পেরেছিলেন তাঁরা।
    ১৮ বলে ৩৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসটা খেলে, প্রথম পাওয়ার প্লে-র সুবিধাটা পুরোপুরি নিয়ে, অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে যখন ফিরছেন নারিন, বোর্ডে ১/৭৬। ওভার? ৫.৪! ওই ৩৪ বলে ৭৬ রান তোলার পথে গম্ভীরের অবদান ৩১। আর নারিনের ব্যাট থেকে এসেছিল তিনটি ছক্কা, চারটি বাউন্ডারি। ক্রিস লিন নেই বলে হাহাকার করেনি কেকেআর। তুলে আনল নতুন জুটি, দুই বাঁহাতির। সফল তো বটেই। আস্কিং রেট তখন পালস রেট বাড়ানোর মতো মোটেই নয়!
    টানা দুটি ম্যাচ জিতে ইডেনে খেলতে এসেছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। টস জিতে ইনিংসের দ্বিতীয়ার্ধে শিশিরভেজা মাঠের সুবিধা নিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত গম্ভীরের। পাঞ্জাবের ইনিংস দানা বাঁধল না, সেট হওয়ার পরও পাঁচজন ব্যাটসম্যান ইনিংস টেনে নিয়ে যেতে না পারায়। টি টোয়েন্টি-তে ‘সেট’ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটাই যদিও নেই, বীরেন্দ্র শেহবাগ খুশি হবেন না তাঁর পাঁচজন ব্যাটসম্যানের রান দেখে। আমলা ২৭ বলে ২৫, ভোরা ১৯ বলে ২৮, ম্যাক্সওয়েল ২৪ বলে ২৫, মিলার ১৯ বলে ২৮ ও ঋদ্ধিমান সাহার ১৭ বলে ২৫। এই পাঁচজনের কোনও একজন ৫০ বল মাঠে থাকলে পাঞ্জাব ইনিংস শেষ হতেই পারত আরও বেশি রানে।
    বাংলার ঋদ্ধি পাঞ্জাবের হয়ে খেলতে এসেও দুটি দুর্দান্ত ছয়ে হৃদকম্প বাড়িয়ে দিয়েছিলেন হাজার ষাটেকের ইডেন-গ্যালারির। শেহবাগের পরামর্শে হাতখুলে তো বটেই মনখুলেও খেলছেন এখন শিলিগুড়ির পাপালি। বলা ভাল, ব্যাটখুলে! টি টোয়েন্টিতে যা আদর্শ, একেবারে শেহবাগ-মানসিকতা। পরে কী হবে, ভেবে কী লাভ, ইনিংসেই প্রাপ্য যখন ১২০ বল! ভোরা-মিলার-ঋদ্ধিদের ব্যাটিংও তেমন। পরের বলটার কথাই যেখানে ভাবতে নেই, পরের ওভারে কী হবে নিয়ে কে মাথা ঘামাতে চায়!
    গৌতম গম্ভীর অবশ্য সেই ঘরানার ক্রিকেটার যিনি বেশি বল খেলতে ইচ্ছুক। ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট ফর্ম্যাটেও তিনি ধরে রেখেছেন সেই মানসিকতা। তাই, আইপিএল-এর দশম বছরে ইতিহাস বলছে, সবচেয়ে বেশিবার ‘পঞ্চাশ’ বা তার বেশি রানের কৃতিত্ব কলকাতার অধিনায়কের নামে। আরও একটি অর্ধশতরান, মোট ৩৩ বার। এবার পৌঁছলেন ৩৪ বলে। আটটা বাউন্ডারি, কোনও ছয় নেই। ছিল নির্ভরতা, আর ইনিংস টেনে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে। বিশেষত নারিন-জুয়া লেগে যাওয়ার পর। রবিন উথাপ্পা (১৬ বলে ২৬, উইকেট পড়ল ১১৬ রানে) যেভাবে সোজা বল উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে তুলে দিতে গিয়ে বোল্ড হয়েছিলেন, সত্যিই কি দরকার ছিল তেমন স্ট্রোকের?
    ২৪ বলে উমেশ যাদবের চার উইকেট নিঃসন্দেহে খুবই মূল্যবান। তবু, শেষ বিচারে বড় হয়ে দাঁড়াল শেহবাগের দলের বিরুদ্ধে কলকাতার অধিনায়কের ইনিংস। ৪৯ বলে ৭২ অপরাজিত, ১১ বাউন্ডারি। ৮ উইকেটে জিতে দাপটে শুরু করল কলকাতা, ঘরের মাঠেও।

    No comments