• Breaking News

    এবার ‘চমক’ ফিল্ডিং, আর উথাপ্পা / কাশীনাথ ভট্টাচার্য

     

    কলকাতা নাইট রাইডার্স – ১৭২/৬ (উথাপ্পা ৬৮, মণীশ ৪৬, ভুবনেশ্বর ৩/২০)


    সানরাইজার্স হায়দরাবাদ – ১৫৫/৬ (ওয়ার্নার ২৬, যুবরাজ ২৬, ওকস ২/৪৯)


    কলকাতা ১৭ রানে জয়ী


    ম্যাচের সেরা – রবিন উথাপ্পা


    ‘চমক’ এবার ৯ বলে ৬। হায়দরাবাদ তো বলেইছিল, এই চমকে তাঁরা অন্তত চমকাবে না! তা ছাড়া, প্রথমে যা চমক, দ্বিতীয়বারে যে নয়!

    সুনীল নারিন নন, কলকাতা নাইট রাইডার্স কিন্তু ‘চমক’ দেখাল অন্যত্র। রাতারাতি ফিল্ডিং এতটা পাল্টে গেল যে পরিবর্তনের মাত্রা রুমাল থেকে বেড়ালে প্রায়। নারিন অবশ্যই দুর্দান্ত থাকলেন বলহাতে। চার ওভারে ১৮ রানে দীপক হুড়ার উইকেট, উল্লেখযোগ্য তো বটেই!

    অষ্টম ওভারে ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাট থেকে দু-দু‘বার দুরন্ত জোরালো ড্রাইভ। কভারে ফিল্ডার সূর্যকুমার যাদবের যথাক্রমে ডান ও বাঁদিকে। দুবারই দুদিকে ঝাঁপি্য়ে বাঁচালেন সূর্যকুমার। সেই ওভারেই কুলদীপ যাদবের দ্বিতীয় বলে সহজ স্টাম্পিং মিস করেছিলেন রবিন উথাপ্পা। মনে করা হয়েছিল, এমন সুযোগ পেয়ে ওয়ার্নার হয়ত নিয়েই চলে যাবেন ম্যাচটা। কিন্তু, পারলেন না অস্ট্রেলীয়।

    ৫৪ বলে চাই ১০৩ রান। ক্রিজে যুবরাজ সিং। শুরু করেছিলেন সহজাত ছন্দে। দুটি ছয়, দুটি চার। ১৬ বলে ২৬। উমেশ যাদবের তৃতীয় ওভারে রান উঠল ১৫, ম্যাচে এক ওভারে সর্বোচ্চ। আগের ম্যাচে এক ওভারে তিন উইকেটের পর এবার কোটার পুরো চার ওভারই করাতে পারলেন না গম্ভীর, তাঁকে দিয়ে। ক্রিকেট কিন্তু এমনও! ইউসুফ পাঠানের পরিবর্ত ঋষি ধাওয়ান ক্যাচটা নিলেন যুবরাজের। বল-জাগলিং না-করেই! শুধু ঋষি কেন, কলকাতার ফিল্ডাররা কেউই কোনও ক্যাচ নিতে গিয়ে ‘জাগলিং’-এর সাহায্য নেননি, ৪৮ ঘন্টা আগের রাতে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচের মতো।

    ফিল্ডিং অবশেষে উঠে এল ‘চমক’ হিসেবে, কলকাতার পক্ষে!

    ফলে, চতুর্থ ম্যাচে তৃতীয় জয় নিয়ে আপাতত আইপিএল টেবল শীর্ষে। ইডেন গার্ডেনস-এ জয় এখনও অধরাই থাকল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের, এই ম্যাচে ১৭ রানে হেরে। ইডেনে পাঁচে পাঁচ করল কলকাতা নাইট রাইডার্স, গতবারের চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে।

    আর সেই কাজে সবচেয়ে বেশি অবদান নিঃসন্দেহে রবিন উথাপ্পার, ওপেনার হিসাবে নিজের জায়গাটা যিনি হারিয়েছেন এই দলে প্রথমে ক্রিস লিন ও পরে নারিনের কাছে।

    ৩৯ বলে ৬৮ রানের ইনিংসে পাঁচটি বাউন্ডারি ও চারটি ছক্কা। তৃতীয় উইকেটে মণীশ পান্ডের (৩৫ বলে ৪৬, তিনটি বাউন্ডারি, দুটি ছক্কা) সঙ্গে ৫২ বলে ৭৭ রানের দুর্দান্ত জুটি। ক্রিকেটের অন্য দুটি-র মতো ক্ষুদ্রতম ফর্ম্যাটেও যে জুটিতে ম্যাচ বের করে ফেলা যায়, অন্যতম নিদর্শন হয়ে থাকল, বাংলা নতুন বছর শুরুর দিনে, কলকাতায়, ভরা ইডেন গ্যালারির সামনে।

    উথাপ্পার ইনিংসের গুরুত্ব আরও বেশি কারণ পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে এবারই সবচেয়ে কম ৪০ রান উঠেছিল কলকাতার, দুই ওপেনারকেই হারিয়ে। অরেঞ্জ ক্যাপ এখনও গৌতম গম্ভীরের মাথাতেই, ১৬ বলে ১৫ করে গেলেন কেকেআর-অধিনায়ক। কিন্তু, প্রত্যাশিত শুরু পায়নি দল। উথাপ্পা আর মণীশ ম্যাচ-ঘোরানো ব্যাটিং করলেন তারপর থেকেই। ভুবনেশ্বর কুমারের দুর্দান্ত বোলিংও যা আটকাতে পারেনি।

    শেষে সাহায্য পেলেন ইউসুফ পাঠানেরও। ১৫ বলে ২১ এবং হায়দরাবাদ ইনিংসে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর সপ্তম ওভারে নারিনের জায়গায় বল করতে এসে তুলে নিলেন শিখর ধাওয়ানের (২২ বলে ২৩) উইকেট। ওই একটাই ওভার ইউসুফের। দিলেন ২ রান, নিলেন উইকেট, ভাঙলেন জুটি। টি টোয়েন্টি-তে একটা ওভারও বিপক্ষকে পেছনের পায়ে ঠেলে দিতে পারলে লাভ হয়, বলেছিলেন টম মুডি। হায়দরাবাদ আরও পেছনে চলে গিয়েছিল ঠিক তার পরে, ইনিংসের অষ্টম ওভারে, সূর্যকুমারের ফিল্ডিংয়েও। পরপর দুটি ওভারে তৈরি করে দেওয়া চাপ নিয়ে হায়দরাবাদ ইনিংস আর দানা বাঁধতে পারেনি।

    কলকাতা যে দল হিসাবে ক্রমশ সম্পূর্ণ হয়ে উঠছে, প্রমাণ পেতে তাকাতে হবে কলিন ডি’গ্র্যান্ডহোমের দিকে। তিনি পরিচিত অলরাউন্ডার হিসাবে। ব্যাট করতে এসেছিলেন শেষ ওভারে, দুবলে কোনও রান না করেই আউট। বলহাতে তাঁকে দেখতে পাওয়া যায়নি, কেকেআর-এর ছয় বোলারই নিজেদের কাজ করে দেওয়ায়। কিন্তু গ্র্যান্ডহোম দুটো গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ নিলেন যথাক্রমে ধাওয়ান ও বেন কাটিং-এর। এমন সময়ে যেখন দুই ব্যাটসম্যানই হাত খুলতে শুরু করেছিলেন।

    এই ছোট ছোট অবদানগুলো মিলিয়েই জয়ের মালা গাঁথল কলকাতা নাইট রাইডার্স, ইডেনে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে। আর, সেই জয়মালায় সবচেয়ে বড় গোলাপটা অবশ্যই উথাপ্পার!

    No comments